
ডলি বেগমের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি ন্যাথানিয়ালের সঙ্গে দেখা হলো। আলাপচারিতায় তিনি জানালেন, এবার তিনি ফেডারেল এমপি পদ ছেড়ে দিয়ে প্রাদেশিক এমপিপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, রাজনীতিবিদরা সাধারণত উচ্চতর পর্যায়ে যেতে চান। সেই জায়গা থেকে দেখলে, একজন অভিজ্ঞ এমপি কেন প্রাদেশিক রাজনীতিতে আসতে চান—এ প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে।
এর পেছনে রয়েছে বাস্তব রাজনৈতিক হিসাব। কানাডার রাজনৈতিক কাঠামোয় জনপ্রতিনিধিত্ব মূলত একটি সেবামূলক দায়িত্ব। এমপি হোন কিংবা কাউন্সিলর—সরকারি বেতনের বাইরে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ নেই বললেই চলে। তাই অনেকের কাছে এই পদগুলো আর্থিকভাবে লাভজনক নয়, বরং জনসেবার একটি প্ল্যাটফর্ম।
ন্যাথানিয়ালের সিদ্ধান্তের মূল কারণ ভিন্ন। তিনি লিবারেল পার্টির প্রাদেশিক নেতৃত্বে আসতে চান এবং অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে দলটির নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী। একসময় অন্টারিওতে লিবারেল পার্টি ক্ষমতায় থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দলটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
যদি তিনি দলের নেতৃত্বে আসতে পারেন এবং দলকে পুনরায় শক্তিশালী করে প্রথম স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন, তাহলে ভবিষ্যতে প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, এটি একটি কৌশলগত রাজনৈতিক পদক্ষেপ।
তবে তার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো—দলের মনোনয়ন পাওয়া। এই মনোনয়ন নির্ধারিত হয় দলীয় সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে। এখানেই কিছু উদ্বেগের জায়গা রয়েছে। জানা গেছে, কিছু অসাধু গোষ্ঠী এই ধরনের অভ্যন্তরীণ ভোটে অনিয়ম বা ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
এ বিষয়টি ন্যাথানিয়ালকে জানিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—এটি কোনো জাতীয় নির্বাচন নয়, বরং দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া। তাই মূলধারার কানাডিয়ান সমাজে এ ধরনের জালিয়াতির ধারণা খুবই বিরল। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ক্ষেত্রে, মূলধারার বাইরে থাকা কিছু ব্যক্তি অতীতে এ ধরনের অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করেছেন, এবং ভবিষ্যতেও করার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আমাদের সবার দায়িত্ব—এই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে থাকা এবং কানাডিয়ান মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা ও সততাকে ধারণ করা। পাশাপাশি, আমাদের কমিউনিটিকে সৎ ও ইতিবাচক উপায়ে মূলধারায় সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
স্কারবোরো, কানাডা

