
টরন্টো শহরের ব্যস্ততম সড়কের পাশে অবস্থিত ওয়াশিংটন অ্যাভিনিউয়ের ওল্ড অরচার্ড পাবলিক স্কুলের প্রায় আড়াই একর জমিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। কমিউনিটির আশঙ্কা এই মূল্যবান জমির ওপর শিগগিরই ডেভেলপারদের নজর পড়তে পারে।
গত ডিসেম্বর মাসে টরন্টো সিটি কর্তৃপক্ষ শহরে আবাসন সংকট মোকাবিলায় একটি নতুন নীতি গ্রহণ করে। এই নীতির মাধ্যমে প্রধান সড়কগুলোর পাশে ১৪ তলা পর্যন্ত মধ্যম উচ্চতার আবাসিক ভবন নির্মাণের সুযোগ তৈরি করা হয়। শুরুতে এই নীতির আওতায় স্কুলের জমিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র আপত্তির মুখে পরে সিটি কর্তৃপক্ষ স্কুল জমিগুলোকে এই নীতিমালা থেকে বাদ দেয়। তবে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়নি।
এখন জানা যাচ্ছে, টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড (টিডিএসবি) এই অব্যাহতির বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে লড়াই করছে। এই অবস্থান কমিউনিটির মধ্যে আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একজন অভিভাবক ও কমিউনিটি কর্মী বেঙ্গলি টাইমসকে বলেন, “এই স্কুলটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এটা খুবই উদ্দেশ্যমূলক বলে মনে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে।” তার মতে, আর্থিক সংকটে থাকা স্কুল বোর্ডগুলোর জন্য এই ধরনের জমি বিক্রি একটি বড় প্রণোদনা হিসেবে কাজ করতে পারে।
যদি টিডিএসবি তাদের অবস্থানে সফল হয় এবং বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় যে জমিটি আর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় নয়, তাহলে সেটিকে ‘অতিরিক্ত’ ঘোষণা করা হতে পারে। এমনটি হলে, এই জমিতে আবাসন প্রকল্পের জন্য প্রাক-অনুমোদন দেওয়া হতে পারে যা এই ধরনের ক্ষেত্রে প্রথম উদাহরণ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যতে আরও স্কুল জমি বেসরকারি উন্নয়নের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারে, ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জমি সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা দূর হয়ে যাবে।
জেসিকা বেল, এনডিপির ফাইন্যান্স ক্রিটিক, অভিযোগ করেছেন দীর্ঘদিন ধরে অর্থসংকটে থাকা স্কুলগুলোকে ডেভেলপারদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা কনজার্ভেটিভ সরকারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “এই সংকটের অনেকটাই ঢ ফোর্ড সরকারের তৈরি। টরন্টো দ্রুত বর্ধনশীল শহর, ভবিষ্যতে এই স্কুলগুলোর প্রয়োজন হবে।” অন্যদিকে, শন ফ্রেজার, অন্টারিও লিবারেলদের অন্তর্বর্তী নেতা, মন্তব্য করেন “এখান থেকে আর্থিক লাভ করার একটি সুস্পষ্ট চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।”
বর্তমানে ফোর্ড সরকার আটটি স্কুল বোর্ডের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যার মধ্যে টিডিএসবি অন্যতম। এর ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে বেশি ক্ষমতা এসেছে বিশেষ করে কোন জমি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অপ্রয়োজনীয়’ তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে।
পুরো বিষয়টি এখন শুধু একটি স্কুলের জমি নিয়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি শহরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, শিক্ষা অবকাঠামো এবং আবাসন নীতির মধ্যে একটি বড় সংঘাতের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। একদিকে বাড়ছে আবাসনের চাহিদা, অন্যদিকে কমিউনিটি চাইছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের জমি সুরক্ষিত রাখতে। এই দ্বন্দ্বের সমাধান কীভাবে হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

