টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেটে গুলি অগ্রহণযোগ্য: ফোর্ড

টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেটে গুলি অগ্রহণযোগ্য: ফোর্ড - the Bengali Times
মার্কিন কনস্যুলেট ভবনকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড

কানাডার টরন্টোর ডাউনটাউন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনাকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। মঙ্গলবার সকালে কুইন’স পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউ এলাকায় একটি এসইউভি থেকে নেমে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তি কনস্যুলেট ভবন লক্ষ্য করে অন্তত একটি আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ে। যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

- Advertisement -

টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, এই গুলির ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কি না, তবে সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা অপরাধীদের খুঁজে বের করব এবং তাদের আইনের মুখোমুখি করব। কোনোভাবেই এ ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, এ ধরনের ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক বা সংগঠিত নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

ফোর্ড তার বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী “স্লিপার সেল” সক্রিয় থাকার আশঙ্কা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন গোপন চক্র রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে যেমন আছে, তেমনি কানাডাতেও থাকতে পারে। আমাদের এসব গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে নির্মূল করতে হবে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, এই ধারণা তিনি সরাসরি পুলিশের কাছ থেকে পাননি; এটি তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত এক সপ্তাহে গ্রেটার টরন্টো এরিয়ায় (জিটিএ) সিনাগগ লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি গুলির ঘটনা ঘটেছে। যদিও পুলিশ এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র খুঁজে পায়নি, তবুও ধারাবাহিক সহিংসতার কারণে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশ ইতোমধ্যে সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত গাড়ির সার্ভিল্যান্স ফুটেজ প্রকাশ করেছে এবং জনগণের কাছে তথ্য সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে। তদন্তকারীরা আশা করছেন, জনসাধারণের সহায়তায় দ্রুতই সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিটি হলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে এবং আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

এই ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা কানাডার মতো শান্তিপূর্ণ দেশে বিরল হলেও, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এসব ঘটনা একে অপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না-ও হয়, তবুও এগুলো একটি অস্থির পরিস্থিতির প্রতিফলন, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। একইসঙ্গে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ভীতির পরিবেশ প্রতিরোধ করাও এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, টরন্টোর এই গুলির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয় ক্ষেত্রেই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যার উত্তর খুঁজতে এখন তৎপর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles