৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করছে না টরন্টো পাবলিক হেলথ

৩০ হাজার শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করছে না টরন্টো পাবলিক হেলথ - the Bengali Times
ভ্যাকসিন রেকর্ড অসম্পূর্ণ থাকার কারণে বহিষ্কারের হুমকিতে থাকা হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে স্কুলবর্ষের বাকি সময় পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে

টরন্টোর পাবলিক স্কুলগুলোতে ভ্যাকসিনেশন স্ট্যাটাস ঘিরে যে বহিষ্কারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। ভ্যাকসিন রেকর্ড অসম্পূর্ণ থাকার কারণে বহিষ্কারের হুমকিতে থাকা হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে স্কুলবর্ষের বাকি সময় পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ভ্যাকসিনেশন রেকর্ড হালনাগাদ করার জন্য সময় দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শহরের পাবলিক স্কুলে গ্রেড ২ থেকে গ্রেড ৫ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। সেই পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিনেশন তথ্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হালনাগাদ অবস্থায় নেই। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন রেকর্ড জমা না দিলে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে বহিষ্কারের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

- Advertisement -

প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, স্কুলবর্ষের শুরুতে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিন রেকর্ড হালনাগাদ ছিল না। এর মধ্যে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছে বা ভ্যাকসিন গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবুও এখনো প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর রেকর্ড সম্পূর্ণভাবে আপডেট করা হয়নি।

এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে টরন্টো পাবলিক হেলথ জানিয়েছে, বর্তমান স্কুলবর্ষের অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে ইমিউনাইজেশন অব স্কুল পিউপিলস অ্যাক্ট (ইসপা)-এর আওতায় কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হবে না। মূলত বাবা-মাকে তাদের সন্তানের ভ্যাকসিনেশন রেকর্ড সংশোধন বা হালনাগাদ করার জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে বলেছে, আইনগত বিধান এখনও বহাল রয়েছে। অর্থাৎ অভিভাবকদের অবশ্যই তাদের সন্তানের ভ্যাকসিনেশন কার্ড বা সংশ্লিষ্ট নথি স্বাস্থ্য ইউনিটের কাছে জমা দিতে হবে। যদি কেউ চিকিৎসাজনিত কারণ বা ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে ভ্যাকসিন থেকে অব্যাহতি চান, তবে সেই ক্ষেত্রেও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে।

অন্টারিও প্রদেশের ইমিউনাইজেশন সূচি অনুযায়ী, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে হাম, মাম্পস, ডিফথেরিয়া, রুবেলা, টিটেনাস, পোলিও, হুপিং কাশি এবং মেনিনজাইটিসের ভ্যাকসিন। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থীর জন্ম ২০১০ সালের পরে, তাদের জন্য ভ্যারিসেলা বা চিকেনপক্সের ভ্যাকসিন নেওয়াও বাধ্যতামূলক।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুলভিত্তিক ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ করা এবং স্কুল পরিবেশকে নিরাপদ রাখা। কিন্তু অনেক সময় অভিভাবকদের অজ্ঞতা, তথ্য ঘাটতি বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভ্যাকসিন রেকর্ড সময়মতো জমা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এমন পরিস্থিতিতে টরন্টো পাবলিক হেলথের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এতে একদিকে যেমন আইনগত বাধ্যবাধকতা বজায় থাকবে, অন্যদিকে অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় সময় দিয়ে সমস্যার সমাধানের সুযোগও তৈরি হবে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের দ্রুত তাদের সন্তানের ভ্যাকসিনেশন রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ইউনিটে জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা মনে করিয়ে দিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সময়মতো টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Sohely Ahmed Sweety : Local Journalism Initiative Reporter

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles