২০৩১ সালের আগে চালু হচ্ছে না অন্টারিও লাইন

২০৩১ সালের আগে চালু হচ্ছে না অন্টারিও লাইন - the Bengali Times
বুধবার প্রাদেশিক পরিবহন সংস্থা মেট্রোলিংক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল লিন্ডসে জানান প্রকল্পটি ২০৩০ এর দশকের শেষ দিকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে

টরন্টো শহরের বহু প্রতীক্ষিত নতুন সাবওয়ে প্রকল্প অন্টারিও লাইন কবে চালু হবে তা নিয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি নয় প্রাদেশিক সরকার। অবকাঠামোগত জটিলতা, পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোর অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষণ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়সূচি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বুধবার প্রাদেশিক পরিবহন সংস্থা মেট্রোলিংক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল লিন্ডসে জানান, প্রকল্পটি ২০৩০-এর দশকের শেষ দিকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তার ভাষায়, “বর্তমান নির্মাণ অগ্রগতির ভিত্তিতে আমরা ২০৩০-এর দশকের গোড়ার দিকে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করার ধারায় আছি। এরপর শুরু হবে পরীক্ষামূলক পরিচালনা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ধাপ।” তিনি ইঙ্গিত দেন, সম্ভাব্য উদ্বোধন ২০৩১ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার পরেও গড়াতে পারে।

- Advertisement -

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৯ সালে প্রকল্প ঘোষণার সময় ২০২৭ সালে লাইনটি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা বদলেছে। বৃহৎ নগর অবকাঠামো প্রকল্পে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান যে কতটা হতে পারে, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ রয়েছে টরন্টোতেই।

এ মাসের গোড়ার দিকে বহু বিলম্বের পর চালু হয়েছে এগলিন্টন ক্রসটাউন এলআরটি নির্ধারিত সময়সীমার ছয় বছর পরে এবং নির্মাণ শুরুর প্রায় ১৫ বছর পর। একইভাবে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত বছরের শেষ দিকে চালু হয় ফিঞ্চ ওয়েস্ট এলআরটি। তবে উদ্বোধনের পরপরই সেখানে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়, বিশেষ করে শীতকালীন আবহাওয়ায় ট্রেনের কর্মক্ষমতা নিয়ে।

লিন্ডসে বলেন, “এগলিন্টন ক্রসটাউন প্রকল্প থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছি। গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা সেসব অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করেছি, যাতে অন্টারিও লাইনের ক্ষেত্রে একই ধরনের ত্রুটি না ঘটে।”

অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এবং মেট্রোলিংক্সের প্রধান জানিয়েছেন, নতুন লাইনের উড়াল (এলিভেটেড) অংশের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এই অংশটি মিডটাউনের কাছে পুরোনো সায়েন্স সেন্টারের পশ্চিম দিক থেকে এক্সিবিশন প্লেস হয়ে ডাউনটাউন টরন্টোর দিকে বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি চারটি নতুন স্টেশনের নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে।

লাইনটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ১৫ কিলোমিটারের বেশি এবং এতে থাকবে ১৫টি নতুন স্টেশন। প্রতিদিন প্রায় চার লাখ যাত্রী এই লাইনে যাতায়াত করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও যানজটের চাপ বিবেচনায় এই লাইনকে টরন্টোর পরিবহন ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বড় একটি উদ্বেগের বিষয় হলো প্রধান এক্সপ্রেসওয়ে সেতুর নির্মাণকাজের প্রয়োজন হলে সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রদেশ। এতে যান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং জনদুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্টারিও লাইন প্রকল্পটি কেবল একটি নতুন সাবওয়ে লাইন নয়; এটি টরন্টোর ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে সময় ও ব্যয়ের হিসাব প্রায়ই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। ফলে সরকার এখন আগাম প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে সমালোচনার মুখে পড়তে চাইছে না। বিশ্লেষকদের মতে, সতর্ক সময়সূচি ঘোষণা একদিকে জনআস্থা রক্ষার কৌশল, অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতাকে স্বীকার করারও একটি উপায়।

সব মিলিয়ে, অন্টারিও লাইন কবে নাগাদ টরন্টোর যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে নির্মাণ অগ্রগতি, পূর্ববর্তী প্রকল্পের শিক্ষা এবং পরীক্ষামূলক পরিচালনার দীর্ঘ প্রক্রিয়া বিবেচনায় স্পষ্ট যে, ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের আগে এই লাইনে যাত্রী চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

টরন্টোর নগরবাসীর জন্য তাই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে যাচ্ছে—কিন্তু কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অপেক্ষার লক্ষ্য একটি অধিক নির্ভরযোগ্য ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles