
মামা চলে যাওয়ার এক মাস দশ দিন।
মামা মৃত্যুর আগে একদম শিশু হয়ে গিয়েছিলেন। বাচ্চাদের মতো খাইয়ে দেয়া লাগতো, ডায়াপার চেঞ্জ করে দেয়া, গোসল করিয়ে দিয়ে এটা নিবা না, ওটা ধরবা না, ঘুমাও; আরও কতো শাসন চলতো!
আমিও ছোট্ট শাসন করতাম। খাবার নিয়ে, চলাফেরা নিয়ে। কথা হলেই বারবার বলতো, “রিপন তুমি আসো?”। একবার বলেছিলাম, “মামা তুমি এই কথাটা বলা কমাও তো। আমি কি ইচ্ছা করলেই তোমার ওখানে যেতে পারি এতদূর থেকে?”
তবুও ছাড়তো না, অন্যভাবে বলতো যেন আমি আসি। খেতে পারতো না, তবুও বলতো আসার আগে যেন ভুড়ি রান্না করে নিয়ে আসি।
খুব কষ্ট লাগতো।
দেখতে যেতে ইচ্ছা করতো। গল্প করতে, ঘুরতে। অটোয়া থেকে যাওয়া আসা খুব সময়ের ব্যাপার। পারতাম না। কয়েকমাস পরপর দেখতে যেতাম; যেটা একেবারেই যথেষ্ট ছিল না।
মামা কেন জানি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হাজার কষ্ট পেলেও সেটা বুঝতে দিতে চাইতো না। এমনকি মৃত্যুর আগ পর্যন্তও!
আমাদের পৃথিবীটাও খুব ছোট হয়ে যাচ্ছে। দিনদিন আরও হবে। আমরাও অল্প অল্প করে শিশু হয়ে যাচ্ছি সন্তানের কাছে।
মামা নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেলেন, এদেশে শেষ বয়সে মানুষের পরিনতি কি। আর ফোন আসে না। নাম্বারটাও তাঁর সাথে ঘুমায়। শিখিয়ে গেছেন দারুণ করে সত্য বলার ভঙ্গি, সাহস। সত্য সবসময়ই সুন্দর, হোক অপ্রিয়। আর সুন্দর ব্যাবহার।
ধন্যবাদ মামা।
কতো সুন্দর ছিল মানুষটা!

