আরও একটি মামলার মুখে টয়েজ ‘আর’ ইউএস কানাডা

আরও একটি মামলার মুখে টয়েজ ‘আর’ ইউএস কানাডা - the Bengali Times
কানাডায় আর্থিক চাপের মুখে থাকা খেলনা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টয়েজ আর ইউএস কানাডা আবারও আইনি জটিলতায় পড়েছে

কানাডায় আর্থিক চাপের মুখে থাকা খেলনা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টয়েজ আর ইউএস কানাডা আবারও আইনি জটিলতায় পড়েছে। বাণিজ্যিক আবাসন প্রতিষ্ঠান রিওক্যান হোল্ডিংস ইনকর্পোরেশন ভাড়া বকেয়ার অভিযোগে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে নতুন মামলা করেছে।

আদালতে দাখিল করা এক নথিতে রিওক্যান জানিয়েছে, টরন্টোর লরেন্স অ্যালেন সেন্টারে অবস্থিত টয়েজ আর ইউএস কানাডার দখলে থাকা বাণিজ্যিক স্পেসের জানুয়ারি মাসের ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পূর্ব সতর্কতা দেওয়ার পরও অর্থ পরিশোধ না করায় গত ২০ জানুয়ারি ইজারা চুক্তি বাতিল কার্যকর করা হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

- Advertisement -

রিওক্যান আদালতের কাছে আবেদন করেছে, টয়েজ আর ইউএস কানাডাকে যেন প্রায় ৪০ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অঙ্কের মধ্যে রয়েছে জানুয়ারি মাসের প্রায় ৪৩ হাজার ডলারের অপরিশোধিত ভাড়া এবং চুক্তিভঙ্গজনিত অন্যান্য ক্ষতিপূরণ।

রিওক্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ না করায় লিজ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হয়েছে। চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তও সেই ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, টয়েজ আর ইউএস কানাডা ও তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রিওক্যানের মুখপাত্রও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেননি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লরেন্স অ্যালেন সেন্টারের ওয়েবসাইটে বর্তমানে ভাড়াটিয়াদের তালিকায় টয়েজ আর ইউএস কানাডার নাম আর দেখা যাচ্ছে না। এতে করে ইজারা বাতিলের দাবিটি কার্যকর হয়েছে বলেই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। সুত্র মারফত জানা গেছে টয়েজ আর ইউএস কানাডা কয়েক ডজন স্টোর বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। একইসঙ্গে, গত বছর বিভিন্ন বাড়ির মালিকের পক্ষ থেকে প্রায় সাতবার আইনি নোটিশ বা মামলা মোকাবিলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাড়ির মালিকদের দাবি অনুযায়ী, অপরিশোধিত ভাড়া ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষতির কারণে টয়েজ আর ইউএস কানাডার কাছে তাদের মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ ডলার। যদিও এসব দাবিও এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ই-কমার্সের বিস্তার, ক্রেতাদের ব্যয়ের ধরণে পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এই তিনটি কারণ ঐতিহ্যবাহী রিটেইল চেইনগুলোর ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব থেকে টয়েজ আর ইউএস কানাডাও মুক্ত নয়। একের পর এক স্টোর বন্ধ এবং ভাড়া বকেয়ার অভিযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কোম্পানিটি নগদ প্রবাহ সংকটে পড়েছে।

আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রিওক্যানের দাবি কতটা প্রতিষ্ঠিত হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে নতুন এই মামলা টয়েজ আর ইউএস কানাডার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খুচরা বাজারে টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত আর্থিক পুনর্গঠন ও কার্যকর ব্যবসায়িক কৌশল গ্রহণ করতে হবে এমনটাই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

আদালতের রায়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, এই বিরোধ কোন দিকে মোড় নেবে। ততদিন পর্যন্ত টয়েজ আর ইউএস কানাডার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যেই থাকছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles