
চান্দ্র নতুন বছরের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। উৎসবকে ঘিরে কেনাকাটা, পারিবারিক ভোজ আর উপহার বিনিময়ের প্রস্তুতিতে নগরীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। বিশেষ করে চায়নাটাউনের রেস্তোরাঁগুলোতে গ্রাহকের ভিড় বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে উৎসবের এই আনন্দঘন মৌসুমেই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে নকল মুদ্রার আতঙ্ক।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন বাড়লে জাল মুদ্রা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। সেই আশঙ্কা থেকেই কিছু রেস্তোরাঁ ইতোমধ্যে তাদের কর্মীদের জাল নোট শনাক্ত করার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে।
চায়নাটাউনের দিম সাম কিং সিফুড রেস্টুরেন্টের কর্ণধার কেলভিন চাঙ জানান, দুই বছর আগে চান্দ্র নতুন বছরের সময় তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে জাল নোট পেয়েছিলেন। বিশেষ করে ১০০ ও ২০ ডলারের নোট বেশি ছিল। “ওই অভিজ্ঞতার পর আমরা কর্মীদের সতর্ক করেছি। এখন তারা নোট হাতে নেওয়ার সময় কাগজের গঠন, জলছাপ ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য খেয়াল করে,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, উৎসবের ভিড়ে সবসময় প্রতিটি লেনদেন খুঁটিয়ে দেখা সম্ভব না হলেও সচেতনতা বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।
চায়নাটাউন চিআইএর চেয়ারম্যান টনি লো জানান, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত বড় আকারে জাল মুদ্রা ধরা পড়েনি। তবে উৎসব সামনে থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। “প্রত্যেক গ্রাহকের দেওয়া নোট পরীক্ষা করা সবসময় ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না। এতে গ্রাহকের অস্বস্তি হতে পারে। আবার অনেক সময় নোটগুলো এতটাই আসল মনে হয় যে জাল কিনা বুঝতে সময় লেগে যায়,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, সচেতনতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার দুটোর সমন্বয় প্রয়োজন।
এদিকে টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের ডিটেক্টিভ ডেভিড কোফি সতর্ক করে বলেন, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে। “আমরা প্রায়ই দেখি এক হাজার, দুই হাজার, এমনকি তিন হাজার ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য নগদে বিক্রি হচ্ছে। অনেক সময় ব্যবসায়ী পরে বুঝতে পারেন যে টাকাগুলো জাল ছিল। তখন আর কিছু করার থাকে না,” বলেন তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে প্রায় ৯০ হাজার ডলারের জাল মুদ্রার ঘটনা পুলিশ সার্ভিসে রিপোর্ট করা হয়েছিল। কিন্তু উদ্বেগজনক বিষয় হলো ২০২৬ সালের প্রথম ৩৫ দিনেই প্রায় ৮০ হাজার ডলারের জাল নোটের অভিযোগ জমা পড়েছে। এই দ্রুত বৃদ্ধির হার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর কাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উৎসবের আগে নগদ লেনদেন বাড়ে, ছোট ব্যবসাগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকে, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় প্রতারক চক্র। অনেক সময় নতুন কর্মীরা অভিজ্ঞতার অভাবে নোটের সূক্ষ্ম নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য খেয়াল করতে পারেন না। ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় প্রতিষ্ঠানকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, প্রয়োজনে নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে এবং কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে অজান্তে কেউ জাল নোটের বাহক না হয়ে যান।
চান্দ্র নতুন বছর সামনে রেখে নগরীর ব্যবসায়ীরা যেমন বিক্রির আশা করছেন, তেমনি জাল মুদ্রার ঝুঁকিও মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উৎসবের আনন্দ যাতে আর্থিক ক্ষতিতে পরিণত না হয়, সে দিকেই এখন সবার নজর।

