টিকটক কানাডা বন্ধের আদেশ মূলতুবি রাখল আদালত

টিকটক কানাডা বন্ধের আদেশ মূলতুবি রাখল আদালত - the Bengali Times
প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলির কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের কানাডীয় কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে লিবারেল সরকারের দেওয়া আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন ফেডারেল আদালতের একজন বিচারক। এর ফলে আপাতত কানাডায় টিকটক তাদের করপোরেট ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সরকার ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অবস্থানেও নতুন করে আলোচনার সূচনা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে কানাডার লিবারেল সরকার ২০২৪ সালে টিকটককে তাদের কানাডীয় কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এই আদেশের আওতায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপটি নিষিদ্ধ করা হয়নি। অর্থাৎ, কানাডার নাগরিকরা টিকটক ব্যবহার করতে পারলেও কোম্পানিটির দেশীয় কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

- Advertisement -

বুধবার ফেডারেল আদালত সরকারের সেই আদেশ কার্যকর হওয়া থেকে বিরত রাখেন এবং শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলিকে বিষয়টি নতুন করে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, সিদ্ধান্তটি গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে এর প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে টিকটক কানাডা। প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র জানান, তারা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট এবং শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলির সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে আগ্রহী। টিকটকের ভাষ্য অনুযায়ী, কানাডীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক শ’ কর্মীর চাকরি হারানোর আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি দেশীয় কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন ধরনের সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যেত।

টিকটকের মুখপাত্র ড্যানিয়েলে মর্গান বলেন, “কানাডায় আমাদের টিমকে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হলে তা শুধু কর্মসংস্থান রক্ষাই করবে না, বরং ভবিষ্যতে কানাডায় বড় পরিসরে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার পথও সুগম করবে। এর মাধ্যমে শত শত স্থানীয় চাকরি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সহায়তা মিলবে।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলির কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আদালতের নির্দেশনার আলোকে সরকার যে নতুন করে বিষয়টি পর্যালোচনা করবে, সে ইঙ্গিত স্পষ্ট।

উল্লেখ্য, টিকটককে ঘিরে সাইবার নিরাপত্তা, গুপ্তচরবৃত্তি এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে ২০২৩ সালে কানাডার সংসদীয় একটি কমিটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি বাইটডান্স হওয়ায় এসব উদ্বেগ আরও জোরালো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশেও টিকটককে নিয়ে একই ধরনের নিরাপত্তা বিতর্ক চলছে।

ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে আপাতত টিকটকের কানাডীয় কার্যক্রম স্বস্তি পেলেও, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে সে প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে। এখন সরকারের নতুন পর্যালোচনার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রযুক্তি খাত, কনটেন্ট নির্মাতা এবং টিকটক ব্যবহারকারীরা।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles