ফরএভার পিটিশনকে সফল ঘোষণা করেছে ইলেকশন্স আলবার্টা

ফরএভার পিটিশনকে সফল ঘোষণা করেছে ইলেকশন্স আলবার্টা - the Bengali Times
আলবার্টা প্রদেশের নাগরিকদের উদ্যোগে চালু হওয়া আলবার্টা ফরএভার কানাডা অথবা ফরএভার কানাডিয়ান পিটিশন আনুষ্ঠানিকভাবে সফল বলে ঘোষণা করেছে ইলেকশন্স আলবার্টা

আলবার্টা প্রদেশের নাগরিকদের উদ্যোগে চালু হওয়া আলবার্টা ফরএভার কানাডা অথবা ফরএভার কানাডিয়ান পিটিশন আনুষ্ঠানিকভাবে সফল বলে ঘোষণা করেছে ইলেকশন্স আলবার্টা। প্রদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বাধীনতা–বিষয়ক বিতর্ক ঘনিয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে এই পিটিশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ইলেকশন্স আলবার্টার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পিটিশনটি বৈধতা পেতে প্রয়োজন ছিল ২ লাখ ৯৩ হাজার ৯৭৬টি স্বাক্ষর। কিন্তু সংগঠকরা জানিয়েছেন, পিটিশনে জমা পড়েছে ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬৮টি স্বাক্ষর, যার মধ্যে দৈবচয়নভিত্তিক পর্যালোচনায় ৪ লাখ ৪ হাজার ২৯৩টি স্বাক্ষরকে বৈধ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এটি প্রদেশের মোট ভোটারের প্রায় ১৩.৬ শতাংশের অংশগ্রহণ নির্দেশ করে যা একটি উল্লেখযোগ্য নাগরিক অভিব্যক্তি।

- Advertisement -

গত কয়েক মাস ধরে আলবার্টায় স্বাধীনতার দাবিতে একটি গণভোট আয়োজনের আন্দোলন গতি পায়। এরই পাল্টা উদ্যোগ হিসেবে সাবেক ডেপুটি প্রিমিয়ার থমাস লুকাসজুক এই পিটিশন চালু করেন। পিটিশনে মূল প্রশ্ন ছিল “আপনি কি মনে করেন আলবার্টা কানাডার অংশ হিসেবেই থাকা উচিত?”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বাধীনতা-ইস্যুতে সামাজিক বিভাজন তৈরির বদলে পিটিশনটি জনমতের একটি স্পষ্ট প্রবাহ তুলে ধরে। লুকাসজুক আগেই বলেছিলেন, তার লক্ষ্য গণভোট চাওয়া নয়; বরং প্রদেশের প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথ যেন বিষয়টি আইনসভায় উত্থাপন করেন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এ নিয়ে ভোট দেন।

সিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুকাসজুক জানিয়েছেন, আলবার্টায় স্বাধীনতা বিষয়ক যেকোনো গণভোট প্রদেশে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তার ভাষায়, স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুললেই বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়, এবং সামাজিক বিভাজন গভীর হতে পারে। তিনি আরও বলেন, “গণভোট থেকে কোনো ইতিবাচক ফল আসবে আমি তা বিশ্বাস করি না। বরং তা প্রদেশে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করবে। আলবার্টার মানুষ বরাবরই কানাডার অংশ হিসেবেই থাকতে চেয়েছেন।”

নিয়ম অনুযায়ী, সফল পিটিশন আইনসভায় উপস্থাপন করা হলে তা নিয়ে আলোচনা বা ভোট হতে পারে। তবে পিটিশন নিজে থেকেই কোনো গণভোট বাধ্যতামূলক করে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত স্বাধীনতা বিতর্কের বিপরীতে একটি শক্তিশালী জনমতের বার্তা যা সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের ওপরই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আলবার্টার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝেও নাগরিকদের অংশগ্রহণে সফল হওয়া ফরএভার কানাডিয়ান পিটিশন প্রদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে আলবার্টার উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও কানাডার ঐক্য ও সংহতির পক্ষেই অবস্থান করছে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন নজর কাড়বে সবার।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles