স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমোদন পেয়েছেন কানাডিয়ান শিশুসাহিত্যিক রবার্ট মান্শ

স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমোদন পেয়েছেন কানাডিয়ান শিশুসাহিত্যিক রবার্ট মান্শ - the Bengali Times
মান্শ কথা বলার সময় ছলছল করে মিশ্র আনন্দ কৌতুক করে মিডিয়া প্রতিনিধিকে বলেছিলেন হ্যালো ডাক্তার আসুন আমাকে হত্যা করুন

কানাডার জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক রবার্ট মান্শ জানিয়েছেন যে তিনি সরকার অনুমোদিত মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডাইয়িং (MAID) বা স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য আবেদন করেছিলেন এবং তা অনুমোদন পেয়েছেন। ৮০ বছর বয়সী এই লেখক, যাঁর রচনাবলীর মধ্যে বিখ্যাত বইগুলো দি পেপার ব্যাগ প্রিন্সেস ও লাভ ইউ ফরএভার রয়েছে, তিনি ডিমেনশিয়া এবং পার্কিনসন’স রোগে ভুগছেন এই কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রোফাইল অনুচ্ছেদ অনুসারে তিনি আবেদন করেছিলেন এবং তা অনুমোদন হয়েছে; উল্লেখ্য, কানাডায় MAID ২০১৬ সাল থেকে আইনগত।

মান্শ কথা বলার সময় ছলছল করে মিশ্র আনন্দ-কৌতুক করে মিডিয়া প্রতিনিধিকে বলেছিলেন, “হ্যালো, ডাক্তার আসুন আমাকে হত্যা করুন। আমার হাতে কত সময় রয়েছে? ১৫ সেকেন্ড!” হাসিমাখা এই কথার ভাঙা-ভাঙা আবেগের পেছনে ছিল গভীর করুণ অনুভব।

- Advertisement -

তিনি জানিয়েছেন যে ডিমেনশিয়া ও পারকিনসন’স–এর কারণে তাঁর জীবনযাপন ও যোগাযোগ ক্রমে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং এ অবস্থা দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছা নেই। তিনি বলেন, বিশেষ করে যখন কথা বলা ও যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন তিনি জীবনকে চালিয়ে নেওয়ার মানসিকতা হারাচ্ছেন।

মান্শ তাঁর ব্যক্তিগত অতীতও শেয়ার করেছেন তাঁর এক ভাই যখন অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (ALS/লো গেহরিগ রোগ)–এ আক্রান্ত ছিলেন, তখন তিনি দেখতে পান কিভাবে ধীরে ধীরে স্নায়ুতন্ত্রের ধাক্কায় মানুষ নিঃশেষ হয়ে যায়। “তাদের সবাই সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েও তাঁকে বাঁচিয়েছিলেন। এখন মনে হয়, তাকে মরতে দেওয়া উচিত ছিল,” তিনি বলেছেন এমন স্মৃতি, ব্যর্থতা ও অনুশোচনার মিশেলে তার সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছে।

কানাডা–র MAID আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীকে সক্রিয়ভাবে তার মৃত্যুর তারিখ নির্ধারণ করার বিষয়ে সম্মতি জানাতে হয়; বেঙ্গলি টাইমসকে মান্শ জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত মুহূর্তটি তাঁর নিজেরই নির্বাচন হওয়া উচিত “মুহূর্তটি আমাকেই বেছে নিতে হবে,” তিনি বলেন। তাঁর স্ত্রী অ্যানকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেছেন, “যদি সুযোগটি না পাই, তুমি যেন আমার সঙ্গে লেপে থাকো” এই ইচ্ছে প্রকাশ করে তিনি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মানবিক দিকটা দেখিয়েছেন।

মান্শের সাহিত্যিক জীবন দীর্ঘ ও উজ্বল: তার বেশি ত্রিশ (৭০+) বই পাঠকের মনে স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমার প্রিয়জনকে যদি আমি চিনতে না পারি, তাহলে আমি এখানে থাকতে চাই না” এই এক লাইনেই তার লিখনীর প্রতি ভক্তিমানুষিক ও ব্যক্তিগত আবেগের ব্যাখ্যা মিশে আছে।

মানুষের জীবনের শেষ মুহূর্ত ও মর্যাদাপূর্ণ চয়েস এ সংক্রান্ত বিতর্ক সামাজিক, নৈতিক ও আইনগতভাবে জটিল। মান্শ নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, পরিবারের ইতিহাস ও শারীরিক অস্থিতিশীলতার আলোকে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা একদিকে ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসনের দাবি; অন্যদিকে এটি পুনরায় প্রশ্ন তোলে সমাজের যত্নব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও রোগীর মানসিক অবস্থা কিভাবে বিচার করা উচিত।

এই ঘটনাটি পুনরায় আলোচনায় তুলছে: একজন পরিচিত স্রোতধারার লেখকের কাছে ‘শেষ বলার অধিকার’ কীভাবে দেখল সমাজ, চিকিৎসাব্যবস্থা ও পরিবারের সদস্যরা এসব প্রশ্নে জনমত, নৈতিকতা ও আইন সবকিছুই সংশ্লিষ্ট। রবার্ট মান্শের নিজের কথায়, তিনি প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করতে চান না, তিনি নিজের পথ নির্বাচিত করেছেন এ কথা ব্যক্তিগত অনুভব, সাহিত্যিক জীবনের স্মৃতি ও শারীরিক দুর্বলতার মিলিত ভাষ্য।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles