চীনা ইভির ওপর শুল্ক অন্টারিওতে চাকরির সুরক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

চীনা ইভির ওপর শুল্ক অন্টারিওতে চাকরির সুরক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - the Bengali Times
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে লেখা এক চিঠিতে ফোর্ড লিখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কের কারণে আমাদের গাড়ি শিল্প প্রচন্ড রকম আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে

অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক যেন বাতিল না করা হয়। তাঁর মতে, এই শুল্ক অন্টারিওর ক্রমবর্ধমান ক্লিন অটো ইন্ডাস্ট্রি তথা বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন খাতকে সুরক্ষা দিচ্ছে, যা কানাডার অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে লেখা এক চিঠিতে ফোর্ড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত উচ্চ শুল্কের কারণে ইতিমধ্যেই কানাডার গাড়ি শিল্প ব্যাপক আর্থিক চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর কানাডা শুল্ক তুলে নেয়, তাহলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খাত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

- Advertisement -

ফোর্ডের ভাষায়, “এই শুল্ক অন্টারিওতে ১ লাখ ৫৭ হাজার প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান এবং দেশজুড়ে লাখ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, অন্টারিও বর্তমানে কানাডার বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাই চীনা গাড়ি নির্মাতাদের সস্তা আমদানি যদি বাধাহীনভাবে বাজারে প্রবেশ করে, তাহলে স্থানীয় কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতার সামর্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কানাডা প্রথম এই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ২০২৪ সালে, মূলত উত্তর আমেরিকার বাজারে চীনা গাড়ির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে। সেই সময় অন্টারিও সরকার ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে হোন্ডা, ভক্সওয়াগেন, স্টেলান্টিস এবং ফোর্ড মোটর কোম্পানি-কে উৎপাদন ঘাঁটি হিসেবে অন্টারিও বেছে নিতে উৎসাহ দেয়।

সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব কোম্পানিকে দেওয়া হয় অবকাঠামো সহায়তা, কর প্রণোদনা ও উৎপাদন সুবিধা যার লক্ষ্য ছিল হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে কানাডার শেয়ার বৃদ্ধি।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন এবং বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা হ্রাস এই পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। অন্টারিওর সেন্ট থমাসে নির্মাণাধীন বৃহৎ EV ব্যাটারি প্ল্যান্ট এখনো চলমান থাকলেও, অনেক প্রকল্প স্থগিত হয়েছে কিংবা বিনিয়োগকারীরা সরে গেছেন।

ডগ ফোর্ড তার চিঠিতে বলেন, “কানাডার উচিত সমতল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা। চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর শুল্ক বজায় রাখা আমাদের স্থানীয় উৎপাদকদের আত্মনির্ভর করে তুলবে এবং উত্তর আমেরিকায় বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি সরবরাহে নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুল্ক বজায় থাকলে অন্টারিওর ক্লিন অটো ইন্ডাস্ট্রি শুধু টিকে থাকবে না, বরং বৈশ্বিক বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে কানাডাকে প্রতিযোগিতার যোগ্য করে তুলবে।

তবে অন্টারিওর এই অবস্থান দেশের সব প্রদেশের সমর্থন পায়নি। বিশেষ করে সাস্কেচুয়ান প্রদেশ চায়, চীনের ওপর শুল্ক নীতিতে নরমতা দেখানো হোক। কারণ, চীন কানাডার ক্যানোলা রপ্তানির ওপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করেছে, যা প্রদেশটির কৃষি শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সাস্কেচুয়ানের কৃষক ও রপ্তানিকারকরা বলছেন, যদি কানাডা চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না বদলায়, তাহলে তাদের পণ্যের বাজার আরও সংকুচিত হবে।

এই পরিস্থিতি কানাডার বাণিজ্য নীতিতে একটি স্পষ্ট বিভাজন তুলে ধরেছে একদিকে অন্টারিওর শিল্প সুরক্ষা, অন্যদিকে সাস্কেচুয়ানের কৃষি রপ্তানি। এক প্রদেশ চায় শুল্ক অব্যাহত থাকুক, যাতে শিল্প বাঁচে; আরেক প্রদেশ চায় শুল্ক কমানো হোক, যাতে রপ্তানি বাজার টিকে থাকে।

ফেডারেল সরকারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক জটিল ভারসাম্যের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী কার্নির এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতের ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেবেন, নাকি কৃষি রপ্তানির স্বার্থে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করবেন।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles