
অন্টারিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে, মহামারি-পরবর্তী হাইব্রিড কাজের ব্যবস্থা শেষ হতে যাচ্ছে। এর ফলে আগামী বছর থেকে প্রদেশের প্রায় ৬০ হাজার সরকারি কর্মীকে আবারও পূর্ণ সময় অফিসে ফিরতে হবে। কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতে চালু হওয়া হাইব্রিড কাজের ধরন যেখানে কর্মীরা সপ্তাহে কিছুদিন অফিসে গিয়ে বাকিটা বাড়ি থেকে কাজ করতেন এখন ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, যারা বর্তমানে সপ্তাহে তিন দিন অফিসে যাচ্ছেন, তাদের এ বছরের অক্টোবর থেকে চার দিন অফিসে থাকতে হবে। আর ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে সকল কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে সপ্তাহে পাঁচদিন অফিসে উপস্থিত হয়ে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে সরকারি খাত পুরোপুরি ফিরে যাবে মহামারির আগের কর্মসংস্কৃতিতে।
প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের মতে, সরাসরি কর্মস্থলে উপস্থিত থাকলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যখন সবাই অফিসে কাজ করেন তখন উৎপাদনশীলতা বাড়ে। সহকর্মীদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে আলোচনা করা যায়, সমস্যা সমাধান করা সহজ হয়। ফোন বা ভিডিও কলে কোনো আলোচনার গভীরতা তৈরি করা সম্ভব নয়।”
ফোর্ডের বক্তব্যে স্পষ্ট, দলীয় কাজ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতেই এই নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
ট্রেজারি বোর্ড প্রেসিডেন্ট ক্যারোলাইন মালরনি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যান্য প্রদেশ এবং বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়েছে। তার ভাষায়, “সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিসে উপস্থিত হয়ে কাজ করা এখন কর্মক্ষেত্রের নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করছে।”
অন্টারিওর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিশেল ডি ইমানুয়েল তার এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে লিখেছেন, সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, “নমনীয়তার প্রতিশ্রুতি এবং সমষ্টিক চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই” অফিসে ফেরার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে।
অন্টারিও সরকারি কর্মীদের বৃহত্তম ইউনিয়ন এএমএপিসিইও-এর প্রেসিডেন্ট ডেভ বালমার বলেন, “এটা পরিষ্কার যে সরকার বাড়ি থেকে কাজের বিকল্প অবসান ঘটাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের সদস্যরা পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রস্তুত হলেও অনেকের জন্য এটি হবে বড় একটি সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ।”
মহামারির সময় থেকে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মী হাইব্রিড বা রিমোট কাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের অনেকেই মনে করেন, বাসা থেকে কাজ করার ফলে পরিবার সামলানো সহজ হয়েছে, যাতায়াত ব্যয় ও সময় কমেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, মহামারির আগে কর্মীরা দৈনিক গড়ে ৭০ মিনিট যাতায়াতে ব্যয় করতেন এবং বছরে প্রায় ৩,০০০ কানাডিয়ান ডলার খরচ হতো। রিমোট কাজ সেই চাপ কমিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু সরকারের মতে, অফিসে ফেরার ফলে কর্মদক্ষতা এবং জনসেবার মান উন্নত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রদেশের জন্য লাভজনক।
ফোর্ড সরকারের এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন কানাডার বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান যেমন টিডি ব্যাংক, রয়্যাল ব্যাংক হাইব্রিড কাজের নীতি কঠোর করেছে বা পুরোপুরি বাতিল করেছে। শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি প্রমাণ করছে যে কানাডার কর্মক্ষেত্র ধীরে ধীরে মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে পুরোনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে।
এখন বড় প্রশ্ন হলো সরকারি কর্মীরা কত দ্রুত এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন। অফিসে পূর্ণ সময় ফেরার ফলে অনেকের ব্যক্তিগত জীবনে চাপ তৈরি হতে পারে, যেমন যাতায়াতের বাড়তি খরচ, সময়ের অপচয়, এবং পারিবারিক ভারসাম্যের সংকট। অন্যদিকে সরকার আশা করছে, দীর্ঘমেয়াদে এই পরিবর্তন কর্মদক্ষতা, দলগত সমন্বয় এবং জনসেবার মানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
অন্টারিও সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; এটি একটি বড় সামাজিক ও কর্মসংস্কৃতির রূপান্তর। এখন সময়ই বলে দেবে, কর্মীরা কেমনভাবে এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবেন এবং এর প্রভাব কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হবে তাদের জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে।
This article was written by Helal Chowdhury as part of the LJI

