
পাখির কান্না শুনে রাত গভীরে ঘুম ভেঙ্গে গেল। অন্ধকার ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম, পাখিটা কেন কাঁদে দেখতে। বাইরে রূপালি রাত। চাঁদের চোখে জল, জোছনা হয়ে ঝরে পরছে। শিশিরের ধূষর ঘ্রাণ চারপাশে, ঘাসের বনে শিশিরের অশ্রু জমা হীরক হয়ে জ্বলে।
এত সুন্দর অপার্থিব একটা দৃশ্য অথচ চারপাশে কান্না কেন?
পাখিটা কোথায় গেল খুঁজতে পা বাড়ালাম । অন্ধকার গাড় হয়ে লেগে আছে গাছের পাতার ফাঁকে। ঝিকিমিকি তারার আলোর মতন অসংখ্য আলোর মালা ফুটে আছে অন্ধকারের মাঝে পাখিটাকে কোথাও দেখছি না। এই আলো আঁধারির মায়ায়। ঘাসের বনের হীরককণা আমার পা ভিজিয়ে দিল। আমি নেশা লাগা মায়ায় হাঁটছি তো হাঁটছি, ঘরে ফেরার কোন তাগদা নেই। ঘুম ফিরে পাওয়ার কথা ভুলে গেছি। এই সুন্দর পাওয়া সহজ নয়।
এর ভিতর ডুব দিয়ে সারা রাত কাটিয়ে দিই। বিশাল পাথরের উপর বসতে গিয়ে দেখি পাথরের বুক থেকে ঝরছে জল। এত অভুতপূর্ণ সৌন্দর্য সবাইকে কাঁদিয়ে দিয়েছে ভালোলাগায়। আমারও চোখ ভিজে উঠছে ভালোলাগার কান্নায়।
আমার চারপাশ ঘিরে বসে আছেন হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনেরা। আমি তাদের সাথে কথা বলি ছোট্ট খুকিটি হয়ে।

কেউ আমার জন্য সোয়েটার বুনছেন। কেউ আম ভর্তা বানাচ্ছেন। কেউ আদরে কোলে নিয়ে আছেন। কেউ আয় আয় চাঁদ মামা বলে আমার কপালে টিপ পরিয়ে দিচ্ছেন। কেউ বানাচ্ছেন নারিকেলে নাড়ু। কেউ আম পাতা কাঠাল পাতা বিছিয়ে খেলছেন আমার সাথে। কেউ শিখাচ্ছেন অক্ষর যত্ন করে। কেউ বলছেন গল্প। কেউ মুখে মধু ঢেলে দিচ্ছেন। কেউ বানাচ্ছেন ফ্রক। কেউ আমার কান ফুটিয়ে দুল পরিয়ে দিচ্ছেন। কেউ দিয়ে দিচ্ছেন আলতা। ছোট শরীর ঘিরে শাড়ি পরিয়ে কাজল টেনে চুল বেঁধে সাজাচ্ছেন কেউ। আমি পাউডারের পাফ নিয়ে বাবার মুখে মাখাব বলে ছুটছি। বাবাকে সাজিয়ে লাল ফিতায় ছুটি বেঁধে দিচ্ছি। চারপাশ ঘিরে মহা উৎসব আয়োজন। খুশি খুশি ভাব। অপরূপ ভালোবাসা। আনন্দের মাঝে মিশে আছে মিহিন জোছনা স্বর্গ রাজ্য যেন।
ঊষার আলো জাগছে। প্রিয়জনেরা এক একে মিলিয়ে গেলেন। ভোরের আকাশে। পাখিটা আমায় ডেকে এই সুন্দরের মাঝে রেখে কোথায় গেল। ঘরে ফিরে যেতে যেতে পেলাম সাদা সোনালির মিশেলে মায়াময় একটি পালক।

