ব্লুর স্ট্রিট ওয়েস্টের বাইক লেন অপসারণের অঙ্গীকার ব্র্যাডফোর্ডের

ব্লুর স্ট্রিট ওয়েস্টের বাইক লেন অপসারণের অঙ্গীকার ব্র্যাডফোর্ডের - the Bengali Times
ব্র্যাডফোর্ড বলেন পরিকল্পনাটি কাগজে কলমে ভালো মনে হলেও বাস্তবে তা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি তাঁর দাবি বাইক লেন চালুর পর স্থানীয় ব্যবসাগুলি ক্ষতির মুখে পড়েছে যানজট বেড়েছে এবং গাড়ি চলাচলের জায়গাও কমে গেছে

টরন্টোর মেয়র নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড। ইটোবিকোকের ব্লুর স্ট্রিট ওয়েস্টে থাকা বাইক লেন সরিয়ে সেখানে ফের যানবাহনের লেন চালুর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। মজার বিষয়, ২০২৩ সালে এই বাইক লেন তৈরির পক্ষে ভোট দেওয়া ২১ জন সিটি কাউন্সিলরের অন্যতম ছিলেন ব্র্যাডফোর্ড নিজেই।

মঙ্গলবার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্র্যাডফোর্ড বলেন, পরিকল্পনাটি কাগজে-কলমে ভালো মনে হলেও বাস্তবে তা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর দাবি, বাইক লেন চালুর পর স্থানীয় ব্যবসাগুলি ক্ষতির মুখে পড়েছে, যানজট বেড়েছে এবং গাড়ি চলাচলের জায়গাও কমে গেছে। ২০২৩ সালে রানিমেড রোড থেকে রেজারেকশন রোড পর্যন্ত ব্লুর স্ট্রিটের প্রায় ৫.৭ কিলোমিটার অংশে বাইক লেন তৈরির সিদ্ধান্তে ব্র্যাডফোর্ড সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে এবার তিনি সেই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে দাবি করছেন। ব্র্যাডফোর্ডের বক্তব্য, বাইক লেন চালুর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিক্রি কমেছে। তাঁর অভিযোগ, ৪০টিরও বেশি স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে সিটি অব টরন্টোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছে।

- Advertisement -

তিনি বলেন, এই ব্যবসায়ীরা শুধু ব্যবসা করেন না তাঁরা স্থানীয় স্কুলের শিশুদের গ্রীষ্মকালীন কাজের সুযোগ দেন, স্থানীয় খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতা করেন এবং নিজেদের এলাকার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তাই তাঁদের সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত ছিল না। ব্র্যাডফোর্ড আরও বলেন, একটি রাস্তার সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে সেটির একটি অংশকে খুব অল্প সংখ্যক সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর মতে, এর ফলে যানজট এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির মতো সমস্যাই বেড়েছে। নিজের অবস্থান নিয়ে অবশ্য কোনও দ্বিধা রাখেননি ব্র্যাডফোর্ড। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, “আমি যখন টরন্টোর মেয়র হবো, তখন ব্লুর স্ট্রিটের বাইক লেন আর থাকবে না। ভেহিকল লেন ফিরে আসবে।”

আগামী অক্টোবরে টরন্টোয় মেয়র নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে ব্র্যাডফোর্ডের এই প্রতিশ্রুতি শহরের পরিবহণ নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বাইক লেন নিয়ে টরন্টোয় দীর্ঘদিন ধরে গাড়িচালক, সাইকেল আরোহী, ব্যবসায়ী এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এদিকে, লিয়াজোঁ স্ট্র্যাটেজিজের ‘টরন্টো পালস’ সমীক্ষায় বর্তমান মেয়র অলিভিয়া চাউ এখনও সামগ্রিকভাবে ব্র্যাডফোর্ডের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। গত মাসে প্রকাশিত ওই সমীক্ষায় চাউ ৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

তবে ইটোবিকোকের ছবিটা একেবারেই আলাদা। সেখানে ব্র্যাডফোর্ডের প্রতি সমর্থন ৫৪ শতাংশ, যেখানে চাউয়ের সমর্থন ৩৫ শতাংশ। ফলে নিজের নির্বাচনী এলাকার এই শক্ত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর টরন্টোয় সমর্থন বাড়াতে পারবেন কি না, এখন সেটাই ব্র্যাডফোর্ডের সামনে বড় প্রশ্ন।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles