
চাঁদপুর শহরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পুরো পরিবারের হঠাৎ উধাও হওয়ার ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ না মিললেও তদন্তে তাদের ঋণের চাপ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে টাকা ও সোনা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
গত ১৯ আগস্ট থেকে চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ী এলাকার ভাড়া বাসাটি তালাবদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে আখন্দ মার্কেটে পিন্টু দাসের স্বর্ণের দোকানও বন্ধ পাওয়া যায়। ২০ আগস্টের পর থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিন্টু দাস বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, ঋণের চাপ থেকে বাঁচতে তিনি পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
পিন্টু দাসের মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চাঁদপুরে বসবাস করছিলেন। প্রথমে অন্যের স্বর্ণের দোকানে কাজ করার পর নিজেই ব্যবসা শুরু করেন। আখন্দ মার্কেটে প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে তিনি নতুন দোকান দেন।
এদিকে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ক্রেতা পিন্টু দাসের কাছে টাকা ও স্বর্ণ পাওনা থাকার দাবি করেছেন। ইচলি এলাকার বাসিন্দা আবুল বারাকাত পাটওয়ারীর দাবি, গহনা তৈরির লেনদেন বাবদ পিন্টুর কাছে তার প্রায় ছয় লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। তিনি জানান, পিন্টু তাকে তিনটি চেক দিলেও ব্যাংকে গিয়ে তিনি পর্যাপ্ত টাকা পাননি বলে দাবি করেন।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, পিন্টুর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ক্রেতার সোনা ও অর্থের লেনদেন ছিল। একজন ব্যবসায়ীর এক ভরি দুই আনা স্বর্ণ পাওনা থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। এর একটি অংশ মীমাংসার মাধ্যমে উদ্ধার করা হলেও এখনও কিছু স্বর্ণ পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, রাতের আঁধারে পরিবারের সদস্যদের আসবাবপত্র নিয়ে বাসা ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। তবে বাড়িওয়ালার পরিবার এ বিষয়ে নিশ্চিত নয়।
চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে পরিবারের চার সদস্য আত্মগোপনে গেছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি বা অভিযোগ করা হয়নি।

