
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও খন্দকার মাশরুর হোসেনের বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। বিভিন্ন আদালতের নথি ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তি রেকর্ডের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচ্ছেদ চুক্তির অংশ হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ নগদ আড়াই লাখ মার্কিন ডলার পান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে থাকা তাদের যৌথ মালিকানাধীন দুটি বাড়ির মালিকানা তার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। প্রকাশিত তথ্যে এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের সময় পাওয়া উপহার, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, অলঙ্কার ও অন্যান্য সম্পদ সায়মা ওয়াজেদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও চুক্তি হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই দম্পতির চার সন্তান রয়েছে। বিচ্ছেদ চুক্তিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই সন্তানের আইনগত অভিভাবক হিসেবে খন্দকার মাশরুর হোসেনের নাম থাকলেও তাদের জিম্মা (কাস্টডি) সায়মা ওয়াজেদের কাছে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সন্তানদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ব্যয়ের দায়িত্ব মাশরুর হোসেন বহন করবেন।
সায়মা ওয়াজেদ ও খন্দকার মাশরুর হোসেনের বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে। মাশরুর হোসেন আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে সায়মা ওয়াজেদ World Health Organization-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে রয়েছেন। এছাড়া তিনি দুবাই ও দিল্লির মধ্যে যাতায়াত করছেন বলেও কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব তথ্যের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ বা খন্দকার মাশরুর হোসেনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

