
কানাডার টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কানাডিয়ান রেডিও-টেলিভিশন অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন্স কমিশন (সিআরটিসি) দেশের ভোক্তা সুরক্ষা বিধিমালা আধুনিকায়ন ও সহজীকরণের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংস্থাটি মনে করছে, বর্তমান বিধিগুলো বিভিন্ন সময়ে প্রণয়ন ও সংশোধন হওয়ায় সেগুলোর মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, যা ভোক্তা ও সেবাদাতা উভয়ের জন্যই জটিলতা সৃষ্টি করছে।
সিআরটিসির প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ওয়্যারলেস ফোন, ইন্টারনেট এবং টেলিভিশন সেবার জন্য পৃথক পৃথক ভোক্তা সুরক্ষা বিধি কার্যকর রয়েছে। এসব বিধির অনেক অংশের উদ্দেশ্য এক হলেও প্রয়োগ পদ্ধতি ও ভাষাগত পার্থক্যের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সেগুলো বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।
বর্তমানে অধিকাংশ কানাডিয়ান পরিবার একাধিক সেবা একসঙ্গে বান্ডেল আকারে গ্রহণ করে থাকে। একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন ও টেলিভিশন সেবা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় বিভিন্ন ধরনের ভোক্তা সুরক্ষা নীতিমালার অস্তিত্ব অনেক সময় বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। কোন সেবার ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, অভিযোগ কোথায় করতে হবে কিংবা গ্রাহকের অধিকার কী এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
সিআরটিসি বলছে, বর্তমান কাঠামো শুধু ভোক্তাদের জন্য নয়, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ তৈরি করছে। আলাদা আলাদা বিধি মেনে চলতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত সম্পদ ও সময় ব্যয় করতে হয়, যা শেষ পর্যন্ত সেবা প্রদানের দক্ষতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য হলো বিদ্যমান বিধিগুলো পর্যালোচনা করে একটি আরও সুসংহত, সহজবোধ্য ও সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা। এতে গ্রাহকরা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন এবং সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সিআরটিসির মতে, বিধিমালার এই সংস্কার প্রক্রিয়া সফল হলে ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তির গতি বাড়বে, সেবার মান উন্নত হবে এবং বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে একই ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে নীতিমালাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যাবে।
এই পরামর্শ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কমিশন আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত সাধারণ জনগণ, ভোক্তা অধিকার সংগঠন, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনদের কাছ থেকে লিখিত মতামত গ্রহণ করবে। এরপর প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে ৩০ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক গণশুনানি শুরু হবে।
ডিজিটাল সেবা ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ওপর মানুষের নির্ভরতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভোক্তা সুরক্ষার নিয়মগুলোকে আরও স্বচ্ছ, সহজ ও যুগোপযোগী করে তোলা সময়ের দাবি। সিআরটিসির এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

