এপ্রিলে উৎপাদন খাতে বিক্রি বেড়েছে ৪.২%

এপ্রিলে উৎপাদন খাতে বিক্রি বেড়েছে ৪.২% - the Bengali Times
জ্বালানি খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কানাডার উৎপাদন খাতের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে

জ্বালানি খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কানাডার উৎপাদন খাতের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশটির উৎপাদন খাতের মোট বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে পেট্রোলিয়াম ও কয়লা উৎপাদন শিল্প।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে পেট্রোলিয়াম ও কয়লা খাতের বিক্রি ২২ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ১১৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের মাস মার্চেও এই খাতে বিক্রি ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় পরিশোধনাগারে রক্ষণাবেক্ষণজনিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করায় বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

- Advertisement -

জ্বালানি খাতের এই উল্লম্ফন কানাডার শিল্প অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্য অস্থিরতার মধ্যেও উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধি দেশটির শিল্প খাতকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তবে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বাদ দিয়ে বা স্থির ডলারের হিসাবে হিসাব করলে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত বা ভলিউমভিত্তিক হিসাবে এপ্রিল মাসে উৎপাদন খাতের মোট বিক্রি বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিক্রির মোট মূল্য বৃদ্ধির একটি অংশ পণ্যের মূল্য পরিবর্তনের ফল হলেও উৎপাদনের প্রকৃত পরিমাণও বেড়েছে।

উৎপাদন খাতের পাশাপাশি পাইকারি বাণিজ্যেও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গেছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, অন্যান্য হাইড্রোকার্বন এবং অয়েলসিড ও শস্য বাদ দিলে এপ্রিল মাসে পাইকারি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৯৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। পাইকারি বিক্রির মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে নির্মাণসামগ্রী ও সরবরাহ উপখাত। এই খাতে বিক্রি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ২৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আবাসন ও অবকাঠামো খাতে চলমান বিনিয়োগ এবং নির্মাণ কার্যক্রমের চাহিদা বৃদ্ধিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া খনিজ, আকরিক ও মূল্যবান ধাতুর বাজারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। এই খাতের বিক্রি এক বছরে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতুর উচ্চমূল্য এবং খনিজ সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

তবে পাইকারি বিক্রির মোট মূল্য বাড়লেও প্রকৃত বিক্রির পরিমাণে কিছুটা দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে। পরিমাণ বা ভলিউমের হিসাবে পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, অন্যান্য হাইড্রোকার্বন এবং অয়েলসিড ও শস্য বাদ দিলে এপ্রিল মাসে পাইকারি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ০.৩ শতাংশ কমেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে কিছু ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের কারণে বিক্রির মোট মূল্য বেড়েছে, কিন্তু বিক্রিত পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ একই হারে বাড়েনি। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিক্রির ডলারের পরিমাণের পাশাপাশি প্রকৃত ভলিউমের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, কানাডার শিল্প ও পাইকারি খাত এখনও প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি, নির্মাণসামগ্রী এবং খনিজ খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে ভলিউমভিত্তিক কিছু দুর্বলতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উচ্চমূল্য ও বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। আগামী মাসগুলোতে জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা, নির্মাণ খাতের চাহিদা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি কানাডার উৎপাদন ও পাইকারি বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles