
আট সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান শ্রমিক ধর্মঘটের জেরে কানাডার কুইবেক প্রদেশে মেট্রো মালিকানাধীন গ্রোসারি স্টোরগুলোতে দেখা দিয়েছে উল্লেখযোগ্য পণ্য সংকট। বিভিন্ন স্টোরে অ্যাসপারাগাস, সালাদ, টুফু, টমেটো ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এখনো বড় ধরনের আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য খুচরা বাজারে আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মিডটাউন মন্ট্রিয়লের একটি মেট্রো স্টোরে কর্মরত ইব্রাহিম নাইতালারা জানান, ধর্মঘটের প্রভাব এখন সরাসরি স্টোরগুলোর মজুদের ওপর পড়ছে। তিনি বলেন, “আমাদের শতভাগ মজুদ এখনো শেষ হয়ে যায়নি, কিন্তু অন্তত ৯০ শতাংশ পণ্য ইতোমধ্যে ফুরিয়ে গেছে। ধর্মঘট শুরুর পর থেকেই ডোল ব্র্যান্ডের সালাদ এবং টুফুর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজির সরবরাহও কমে গেছে।”
একই চিত্র দেখা গেছে মন্ট্রিয়লের সেইন্ট-লরেন্ট বোরোর একটি সুপার সি শাখায়। সেখানে অ্যাসপারাগাস, লাল পেঁয়াজ ও অর্গানিক টমেটোর মতো পণ্য হয় খুবই সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে, নয়তো পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। তবে দোকান কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য এখনো সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
সংকটের মূল কারণ মেট্রোর লাভাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে চলমান শ্রমিক আন্দোলন। গত ৩০ মার্চ থেকে ওই কেন্দ্রের প্রায় ৫৫০ জন ইউনিয়নভুক্ত কর্মী অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেন। তাদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন বৃদ্ধি এবং কর্মপরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও কাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ জমে ছিল। একাধিক আলোচনার পরও সন্তোষজনক সমাধান না পাওয়ায় তারা ধর্মঘটের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
লাভাল ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারটি কুইবেকে মেট্রোর একমাত্র প্রধান বিতরণ কেন্দ্র, যেখান থেকে প্রদেশজুড়ে ৩৫০টিরও বেশি স্টোরে খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় সুপারমার্কেট চেইন সুপার সি এবং মেট্রো প্লাস। ফলে এই একটি কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় সরাসরি পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন তাজা শাকসবজি, ফলমূল এবং রেফ্রিজারেটেড খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে সংকট বেশি দেখা যাচ্ছে।
ধর্মঘট যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে শুধু পণ্যের ঘাটতিই নয়, বিক্রির ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ক্রেতারা প্রয়োজনীয় পণ্য না পেলে বিকল্প সুপারমার্কেটের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা মেট্রোর বাজার অংশীদারিত্বের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। মেট্রোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরিক লা ফ্লেশে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোম্পানি জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। তবে সাম্প্রতিক আর্নিংস কলের সময় বিশ্লেষকরা ধর্মঘটের আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দিতে রাজি হননি। এদিকে কোম্পানির মুখপাত্র মেরি-ক্লড বেকন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, “বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘটের প্রকৃত আর্থিক প্রভাব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতির সমাধান হলে আমরা সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন করতে পারব।”
ধর্মঘটের কারণে কুইবেকের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও অধিকাংশ স্টোর এখনো বিকল্প উপায়ে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। শ্রমিক ইউনিয়ন ও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা না হলে খাদ্যপণ্যের সংকট আরও প্রকট হবে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের পকেটেও পড়তে পারে। বর্তমানে কুইবেকজুড়ে হাজার হাজার ক্রেতা অপেক্ষা করছেন কবে এই অচলাবস্থার অবসান হবে এবং স্বাভাবিক হবে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা।

