টরন্টো মেয়র নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না অ্যান্থনি ফিউরি

টরন্টো মেয়র নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না অ্যান্থনি ফিউরি - the Bengali Times
কানাডার বৃহত্তম নগরী টরন্টোর রাজনীতিতে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাবেক সংবাদপত্র কলামিস্ট অ্যান্থনি ফিউরি

কানাডার বৃহত্তম নগরী টরন্টোর রাজনীতিতে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাবেক সংবাদপত্র কলামিস্ট অ্যান্থনি ফিউরি। ২০২৩ সালের মেয়র পদে উপনির্বাচনে চমকপ্রদ ফল করা এই রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবার অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য মিউনিসিপাল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি তিনি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মনে করেছেন, বর্তমান সময় তার জন্য রাজনৈতিকভাবে উপযুক্ত নয়। ফিউরি তার পোস্টে বলেন, “সময়টা আমার জন্য সঠিক বলে আমি মনে করছি না। গত মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং সবার জন্য লাভজনক হতে পারে এমন কমন সেন্স নীতির পক্ষে কথা বলা ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।” তিনি আরও বলেন, তাকে যারা সমর্থন করেছেন তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ এবং ভবিষ্যতেও নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও কমিউনিটি ইস্যুতে কাজ করে যেতে চান। যদিও এবার তিনি নির্বাচনের মাঠে নামছেন না, তবুও নাগরিক বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থেকে অন্যভাবে অবদান রাখার ইচ্ছার কথাও উল্লেখ করেন।

- Advertisement -

অ্যান্থনি ফিউরি মূলত পরিচিতি পান টরন্টোভিত্তিক সংবাদপত্র টরন্টো সানে রাজনৈতিক কলাম লেখার মাধ্যমে। তার লেখায় প্রায়ই করনীতি, জননিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক ব্যয়ের মতো বিষয় উঠে আসত। ফলে রক্ষণশীল ধ্যানধারণার ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। ২০২৩ সালে টরন্টোর মেয়র পদে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি অনেক বিশ্লেষককে বিস্মিত করেন। কারণ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সীমিত থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রতিষ্ঠিত কয়েকজন রাজনীতিককে পেছনে ফেলতে সক্ষম হন। ওই নির্বাচনে ফিউরি পেয়েছিলেন ৩৫ হাজার ৮৯৯ ভোট। এতে তিনি চতুর্থ অবস্থানে থাকেন। তার চেয়ে কম ভোট পেয়েছিলেন সিটি কাউন্সিলর ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড, সাবেক মন্ত্রী মিটজি হান্টার এবং কাউন্সিলর জশ ম্যাটলোর মতো পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ব্র্যাড ব্র্যাডফোর্ড পেয়েছিলেন ৯ হাজার ২৫৪ ভোট, মিটজি হান্টার পেয়েছিলেন ২১ হাজার ২৯৯ ভোট এবং জশ ম্যাটলো পেয়েছিলেন ৩৫ হাজার ৫৭২ ভোট। খুব অল্প ব্যবধানে জশ ম্যাটলোকে ছাড়িয়ে যান ফিউরি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিউরির এবারের নির্বাচনে না আসা টরন্টোর ডানঘেঁষা বা মধ্য-রক্ষণশীল ভোটব্যাংকের জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে। ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিনি নিজেকে “কমন সেন্স” রাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। নগর পরিচালনায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর তিনি জোর দিয়েছিলেন। অনেক ভোটার তাকে মূলধারার রাজনীতির বাইরের বিকল্প কণ্ঠ হিসেবে দেখেছিলেন। বিশেষ করে যারা প্রচলিত রাজনৈতিক নেতৃত্বে হতাশ ছিলেন, তাদের একাংশের সমর্থন পেয়েছিলেন ফিউরি। ফলে তার প্রার্থিতা না থাকা আগামী নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজের পোস্টে ফিউরি উল্লেখ করেন, টরন্টো বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, গণপরিবহন সমস্যা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এসব ইস্যু শহরের নাগরিকদের জন্য বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এসব সমস্যার মাঝেও তিনি টরন্টোকে “দারুণ একটি নগর” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই শহরের সবচেয়ে বড় শক্তি এর মানুষ। রাজনৈতিক অঙ্গনে সরাসরি না থাকলেও ভবিষ্যতে তিনি নাগরিক বিভিন্ন উদ্যোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তার এই ঘোষণার পর টরন্টোর আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles