গ্রোসারি বাবদ এককালীন অর্থ পাচ্ছেন কানাডিয়ানরা

গ্রোসারি বাবদ এককালীন অর্থ পাচ্ছেন কানাডিয়ানরা - the Bengali Times
শুক্রবার দেওয়া এক ঘোষণায় দেশটির সেক্রেটারি অব স্টেট ওয়েন লং জানান এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে সরকারের নতুন কানাডা গ্রোসারিজ অ্যান্ড এসেন্সিয়ালস বেনিফিট সিজিইবি কর্মসূচির অংশ হিসেবে

কানাডায় জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলায় সরকার নতুন করে এককালীন গ্রোসারি সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ৫ জুন থেকে যোগ্য নাগরিকদের ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ জমা পড়বে বলে জানিয়েছে কানাডা রেভিনিউ এজেন্সি (সিআরএ)।

শুক্রবার দেওয়া এক ঘোষণায় দেশটির সেক্রেটারি অব স্টেট ওয়েন লং জানান, এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে সরকারের নতুন ‘কানাডা গ্রোসারিজ অ্যান্ড এসেন্সিয়ালস বেনিফিট’ (সিজিইবি) কর্মসূচির অংশ হিসেবে। এটি বিদ্যমান জিএসটি/এইচএসটি ক্রেডিট ব্যবস্থার পরিবর্তে চালু করা হচ্ছে, যাতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হয়।

- Advertisement -

সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই অর্থ পেতে হলে নাগরিকদের অবশ্যই আয়কর বিবরণী জমা দিতে হবে। যাঁরা আগে থেকেই জিএসটি/এইচএসটি রিবেট পাওয়ার যোগ্য, তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন সুবিধার আওতায় চলে আসবেন। অর্থাৎ নতুন করে আলাদা আবেদন করার প্রয়োজন নেই কিন্তু ট্যাক্স ফাইল করা বাধ্যতামূলক।

সিজিইবি-র আওতায় প্রাপ্ত অর্থ পরিবারিক অবস্থা ও সন্তানের সংখ্যার ওপর নির্ভর করবে। একক ব্যক্তি ও সিঙ্গেল প্যারেন্টদের ক্ষেত্রে: কোনো সন্তান না থাকলে সর্বোচ্চ ২৬৭ ডলার, ১ সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৪৪১ ডলার, ২ সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৫৩৩ ডলার, ৩ সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৬২৫ ডলার এবং ৪ সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৭১৭ ডলার।

বিবাহিত বা কমন-ল দম্পতিদের ক্ষেত্রে: কোনো সন্তান না থাকলে সর্বোচ্চ ২৪৯ ডলার, ১ সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৪৪১ ডলার, ২ সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৫৩৩ ডলার, ৩ সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৬২৫ ডলার এবং ৪ সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৭১৭ ডলার। সরকার জানিয়েছে, এই এককালীন অর্থ বিদ্যমান অন্যান্য আর্থিক সহায়তার অতিরিক্ত। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে চার সদস্যের একটি পরিবার সর্বোচ্চ ১,৮৯০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারে, আর একজন ব্যক্তি পেতে পারেন সর্বোচ্চ ৯৫০ ডলার।

এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফেব্রুয়ারির পরিসংখ্যান বলছে যে আস্ত মুরগির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৮.৫৭ ডলার হয়েছে (এক মাসে প্রায় ১ ডলার বৃদ্ধি), গরুর মাংসের দাম কেজিতে বেড়েছে ১.১ ডলার এবং কলার দাম বেড়েছে কেজিতে ১৪ সেন্ট। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তিও মিলেছে চিকেন ড্রামস্টিকের দাম জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে কেজিতে ৫৫ সেন্ট কমেছে।

ওয়েন লং বলেন, এই ধরনের সহায়তা শুধু অস্থায়ী সমাধান নয় ভবিষ্যতেও এটি বাড়ানো হবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। তাঁর ভাষায়, “একটি সমাজ বা রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত আমরা সবচেয়ে দুর্বল মানুষদের কতটা সহায়তা করতে পারছি।”

এই উদ্যোগ সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে যেসব পরিবার আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া এই ধরনের নগদ সহায়তা টেকসই সমাধান নয় বলেও মত দিয়েছেন অনেক অর্থনীতিবিদ।

সিজিইবি কানাডার সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক নীতির ওপর।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles