img

হৃদয় যখন আকাশের মত বিশাল

আমার এই লেখাটি জানুয়ারির ১০ তারিখ প্রকাশিত হওয়ার কথা। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছি তাদের কাছে অনেকগুলো তারিখ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ, তবে দুটি তারিখ ছিল অবিস্মরণীয় উল্লাসের। একটি ষোলই ডিসেম্বর—যেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে, আরেকটি ছিল জানুয়ারির দশ তারিখ যেদিন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি কিংবা পৃথিবীর যে সব মানুষেরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটি জানে না....

img

ধর্ষণের শিকাররা মুখ লুকোয় কেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ছাত্রীটির নাম কি? নাম কেন বলা হচ্ছে না? তার চেহারাও কেন দেখানো হচ্ছে না? আমরা কিন্তু ধর্ষকের চেহারা দেখে ফেলেছি, তার নাম যে মজনু তাও জেনে ফেলেছি। ধর্ষণের শিকারকে কেন মুখ লুকোতে হবে? ধর্ষকরা তো দিব্যি নাম ধাম সাকিন জানিয়ে দেয়, ক্যামেরার দিকে তাকাতে তাদের তো লজ্জাবোধ হয় না! তাহলে কি ঘটনা এই....

img

যুক্তিহীন উক্তির খপ্পরে প্রযুক্তি

এখন চারদিকে চলছে ডিজিটাল ডিজিজ। ডিজিটাল রোগে আক্রান্ত অনেকেই। সবার হাতে হাতে মোবাইল। জনে জনে চ্যানেল। যখন যেখানে খুশি সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই যা ইচ্ছে তাই আপলোড করা যায়, লেখা যায়। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, নেই কোনো জবাবদিহিতা। যার ফলে কারও মানহানি হয়, কারও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। কিছু কিছু বিষয়ে আবার দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়। গত ১২....

img

এই বছরটি কেমন গেল?

১.

এই বছরটি প্রায় শেষ। অন্যদের কথা জানি না, আমি বেশ আগ্রহ নিয়ে সামনের বছরটির জন্য অপেক্ষা করছি, তার প্রধান কারণ সামনের বছরটিকে আমরা টুয়েন্টি টুয়েন্টি বলতে পারব। (যখন কেউ চোখে নির্ভুল দেখতে পারে সেটাকে টুয়েন্টি টুয়েন্টি ভিশন বলে!) 

সামনের বছর নিয়ে আমরা নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা করছি কিন্তু এই বছরটি কেমন গেছে? আমি একটা ছোট কাগজে বছরের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার একটা তালিকা লিখতে....

img

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অমার্জনীয় অপরাধে মন্ত্রীর কেন পদত্যাগ নয়?

অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের বীর ও তাদের পরিবার-স্বজনদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে তুমুল প্রতিবাদের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তার প্রকাশিত বিতর্কিত রাজাকারের তালিকা স্থগিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যাচাই-বাছাই না করে এ ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করা তালিকা প্রকাশের জন্য অসন্তোষ ব্যক্ত করে স্থগিতের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর মন্ত্রী এটি স্থগিত করে বলেন, যাচাই-বাছাই করে আগামী ২৬....

img

বিজয়ের স্মৃতি ও বঙ্গবন্ধু

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের অনেক স্মৃতি আমার মানসপটে ভেসে ওঠে। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর প্রিয় মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করে ত্রিশ লক্ষাধিক প্রাণ আর চার লক্ষাধিক মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে মহত্তর বিজয় আমরা অর্জন করি। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন সামনে নিয়ে দীর্ঘ চব্বিশটি বছর জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনা করে, নিজের জীবন উৎসর্গ করে, ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে....

img

ব্যস্ততার ব্ল্যাক ম্যাজিক!

আপনি জানেন কি, একজন আমেরিকান অধিবাসীর জীবনে গড়ে ৭০০০ ঘন্টা (৬ মাস) চলে যায় বিভিন্ন সেবার জন্য লাইনে অপেক্ষা করে। বাংলাদেশিদের জন্য সংখ্যাটা যে এর চেয়ে ঢের বেশি, তা বোঝার জন্য আলাদা করে পরিসংখ্যানের দরকার হয়না। দিনের প্রায় অর্ধেক সময়ই আমাদের ট্রাফিক আর নানা লাইনে অপেক্ষায় পার হয়ে....

img

আমি তো শাওনকে দেখে অভিভূত মুগ্ধ হই!

অকাল প্রয়াত জনপ্রিয় লেখক হ‌ুমায়ূন আহমেদ প্রসঙ্গ এলেই তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের প্রতি অনেকের চরম বিদ্বেষপূর্ণ লেখা, অসভ্য মন্তব্য দেখি। একদল অন্ধকে তাকে ধুয়ে মুছে সমালোচনায় ক্ষত-বিক্ষত করতে দেখি। আত্মমর্যাদাশীল নারী হ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন বিচ্ছেদের ১৬ বছর পর ভালোবেসে বিয়ে করেছেন, এটাকে আমরা সবাই অভিনন্দিত করেছি।

আমি অবাক হয়ে দেখেছি এখানেও অনেকে মেহের আফরোজ শাওনকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে টেনে এনে....

img

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

১. 

কিছুদিন আগে আমাদের ক্রিকেট টিম যখন দিল্লিতে ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিল তখন হঠাৎ করে দিল্লির ভয়ঙ্কর বায়ু দূষণের খবর আসতে শুরু করল। ছবিতে দেখতে শুরু করলাম দিল্লির ঝাপসা ছবি। দূষণের মাত্রা এতোই ভয়ঙ্কর যে এর ভেতর দিয়ে সামনে দেখা যায় না। ৩০টির মত বিমানের ফ্লাইট রানওয়ে স্পষ্ট দেখতে না পেয়ে অন্য এয়ারপোর্টে গিয়ে অবতরণ করতে বাধ্য হল। বায়ু দূষণ সংক্রান্ত রোগবালাই....

img

জান্নাতীর মুখের হাসি

বেশ কিছু দিন আগের কথা। একটি প্রতিষ্ঠান শিশুদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমি নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান মনে করি। কারণ, শিশুদের অনেক অনুষ্ঠানে এবং মাঝে মাঝে বাচ্চাদের স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাই। তবে এবারে যে অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সেটি অন্য যেকোনো অনুষ্ঠান থেকে ভিন্ন। কারণ, এই অনুষ্ঠানে এসেছে ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাসার ছোট ছোট গৃহকর্মীরা।

ঠিক সময়ে....

img

প্রধানমন্ত্রী, কাদের সিদ্দিকীদের ফিরিয়ে নিন

ভারতীয় কূটনীতিক শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জি তার লন্ডনের বাসভবনে দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের স্মৃতিময় ইতিহাস বলতে গিয়ে অনেকের গল্পই তুলে এনেছিলেন। এর মধ্যে একাত্তরের সুমহান মুক্তিযুদ্ধে একমাত্র বেসামরিক বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর যোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে নিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কাদের সিদ্দিকী বাঘা সিদ্দিকী হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। একজন বেপরোয়া অসীম....

img

বাঙালি নারীর ফ্যাশন এবং...

ঊনবিংশ শতাব্দির মধ্যভাগ পর্যন্ত বাঙালির সেলাইবিহীন পোশাক পরিধানের তথ্য জানা যায়৷ ড. নীহাররঞ্জন রায় তার ‘বাঙালীর ইতিহাস’ বইয়ে বিস্তারিত লিখে গেছেন৷ তবে এর পরের শতাব্দিতে পোশাকের ইতিহাস অত্যন্ত গতিশীল৷ ইতিহাসের সেদিকে যাব না৷বাঙালি নারীর পোশাক বা ফ্যাশন সচেতনতা বিষয়ে দু'একটি কথা বলা যাক৷

বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ১৯৩২ সালে৷ পরনে শাড়ি, এমন বেগম রোকেয়াই বেঁচে....

img

টেলিভিশন মালিকেরা স্বাধীনভাবে সরকারকে খুশি রাখেন

টেলিভিশনের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতকরা একশ ভাগ ঠিক কথা বলেছেন৷ সত্যিই টেলিভিশনগুলোর মালিকদের পুরোপুরি স্বাধীনতা রয়েছে৷ স্বাধীনভাবেই তারা জানার উপায় খুঁজে বার করেন, কীসে সরকার খুশি হবে আর কীসে বেজার৷

কারণ বিষয়টি আদর্শলিপির মতো সরল, সরকার খুশি থাকলে মালিকদের ভালো, সরকার বেজার হলে মালিকদের জীবনে নেমে আসতে পারে অন্ধকার৷ মালিকদের স্বাধীনতা মানে যে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নয়, তাও দিনের আলোর....

img

দেশ নিয়ে চাওয়া পাওয়া

আমি খুব আশাবাদী মানুষ। আমি জানি আমার এই আশাবাদ নিয়ে আমার আশেপাশের অনেকেই আমাকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করেন- আমি কিছু মনে করি না। আমার পি.এইচ. ডি সুপারভাইজারের কাছে শোনা একটি গল্প মনে পড়ে। তিনি আমাকে একজন আশাবাদী ছেলের গল্প শুনিয়েছিলেন। গল্পটি অনেকবার অনেক জায়গায় শুনিয়েছি; আরো একবার শুনতে পাঠক নিশ্চয়ই আপত্তি করবেন না। গল্পটি এরকম : একটি বাচ্চা ছেলে খুবই....

img

রাজনীতির কালো কফিনে শেষ পেরেক

একুশের ভয়াবহ সেই গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের পৃথিবী থেকে চিরদিনের মতো দিনদুপুরে উড়িয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার রাজনৈতিক আঘাত ছিল। সেই আঘাতে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জনের করুণ মৃত্যু ঘটেছে। অসংখ্য মানুষের শরীরের রক্তে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ভেসে গেছে। অসংখ্যা নেতা-কর্মী-মানুষ আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। অনেকে এখনো গ্রেনেডের স্পিলিন্টার শরীরে নিয়ে....