মঙ্গলবার | ৩ আগস্ট ২০২১ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • বিদেশি প্রভাবিত প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে
  • গ্রিন পার্টির নেতা অনামী পলকে দল থেকে বহিস্কারের কোনো সুযোগ নেই
লন্ডন অন্টারিওর ঘটনা ও কিছু কথা

: ১৪ জুন ২০২১ | আব্দুল হালিম মিয়া |

লন্ডনের স্মরণসভা

কানাডার মত একটি উন্নত গনতান্ত্রিক ও আইনের শাসনের দেশকে অস্হিতিশীল করতে চক্রান্ত চলছে বলে মনে করি। সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবে মাত্র কুড়ি বছরের একটি ছেলেকে বেছে নেয়া হয়েছে সম্পুর্ণ নিরীহ একটি মুসলিম পরিবারের উপর গাড়ী চালিয়ে হত্যা করার জন্য। পরিবারটি যখন বাসার কাছেই সন্ধাকালীন হাটাহাটি করছিলেন তখনই তাদেরকে টার্গেট করে এই সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মুসলমান পরিবারের সংগে থাকা ৯ বছরের ছেলেটি আহত হয়ে কোন রকমে বেঁচে গেলেও স্পটেই নিহত হয়েছে ১৫, ৪৫, ৪৬ ও ৭৪ বছরের বয়সের পরিবারের সদস্যরা।

শুধুমাত্র কারো ধর্ম বিশ্বাসের কারণে এভাবে হত্যা করা, ঘৃণা ছড়ানোর লোকের সংখ্যা এখন পৃথিবীতে ক্রমেই বাড়ছে। মুসলিম দেশগুলোর উপর বোমা মেরে লক্ষ লক্ষ লোককে হত্যা করা হচ্ছে, জোর করে তাদের ভুখন্ড কেড়ে নেয়া হচ্ছে আবার তাদেরই ধর্ম গ্রন্থের বিকৃত ব্যাখা করে প্রমান করার চেষ্টা করা হয় যে মুসলমান, তাদের ধর্ম ইসলাম, তাদের নবী রসুল সব সন্ত্রাসী এবং সন্ত্রাস প্রচার করে, ঘৃণা প্রচার করে। তাদের নবীর ব্যাঙ্গচিত্র করা হয়, তারা কি খেতে পারবে বা পারবে না তা নিয়েও তারা বিধি নিষেধ জারী করার চেষ্টা করে। তারা কি পোষাক পরবে কি পরবে না তারা নির্ধারণ করতে চায়। তাদের শরীরের কোন জায়গায় লোম থাকবে আর কোন জায়গায় চেঁছে ফেলতে হবে এগুলো নিয়েও তারা নাটক সিনেমা বানিয়ে কটাক্ষ করে। তাদের বই পুস্তকে কি লিখা থাকবে, কোন শব্দ তারা শিখবে আর কোন শব্দ পরিহার করবে তা নিয়েও তারা সেমিনার সিম্পোজিয়াম করে। তাদের বিয়ে সাদী, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টগুলো নিয়ে হর হামেশা কটাক্ষ করে। তারা তাদের প্রার্থনার আহবান আযানের শব্দে বিরক্ত বোধ করে। দোষ খুঁজে পায়।

এভাবেই তারা মুলত পৃথিবীর একটি অন্যতম বৃহত্তম ধর্ম ইসলাম ও তার অনুসারী মুসলমানদের বিরুদ্ধে এমন ঘৃণার বীজ বপন করে যা সু পরিকল্পিত এবং পরিস্কার টার্গেটেড। এর লক্ষ্য পৃথিবীতে কয়েকশত কোটি মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। ফলে আপনি যদি মুসলমান হন আর আপনার যদি সামান্য ধর্মবোধ থাকে আপনি আর নিরাপদ নন। তা আপনি যে দেশেই থাকুন না কেন! যারা এগুলো করে তাদের অনেকেই ধর্ম নিরপেক্ষতার ও মানবতার মুখোশধারী, মুলত ইসলাম ধর্ম তথা মুসলিম বিদ্বেষী। এদের মধ্যে আপনি যেমন অপরিচিত বিদেশীদের পাবেন তেমনি আপনারই পরিচিত প্রতিবেশী চিরচেনা ভেকধারীদেরকেও পাবেন। তারা সবাই মুলত একজোট। দেখবেন কেউ মধ্যপ্রাচ্যে বোমা মারে আবার কেউ সোস্যাল মিডিয়ায় কোরানের আয়াত, নামাজ রোজাকে খারাপভাবে উপস্হাপন করে আপনার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে আপনাকে নিগৃহীত করতে এমনকি হত্যা করতেও ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, আপনি যা বিশ্বাস করে প্রার্থনা করেন সেই প্রার্থনা নিয়ে, প্রার্থনা ও বিশ্বাসের সাথে সংগতিপূর্ণ পোষাক পরিচ্ছদ, আচার আচরণ নিয়ে যারা বিদ্বেষ ছড়ায় তারা কতখানি শয়তান তা আপনার ভেবে দেখার সময় এসেছে।

তবে আশার বিষয় হলো কানাডার সরকার ও বিরোধী দল একযোগে এসবের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। সাধারণ মানুষও এসব পছন্দ করে না। লন্ডনের এই মুসলিম পরিবারটির হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে গতকাল বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী জাষ্টিন ট্রুডো এবং বিরোধী দলের নেতারাও কথা বলেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে সন্ত্রাসী আক্রমন বলেছেন। দেখা যাক এর দৃষ্টান্তমুলক বিচার হয় কিনা! তার উপর নির্ভর করছে কানাডার ভবিষ্যত চেহারা।

 

টরন্টো, কানাডা


[email protected] Weekly Bengali Times

-->