যেকারণে ১৫ আগস্ট খালেদার জন্মদিন পালন করেনি বিএনপি

১৫ আগস্ট ২০১৯


যেকারণে ১৫ আগস্ট খালেদার জন্মদিন পালন করেনি বিএনপি

এবারও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করেনি দলের নেতাকর্মীরা। বিতর্ক এড়াতেই দলটি এ কৌশল নিয়েছে। তবে আগামীকাল শুক্রবার দেশব্যাপী মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ কারাবন্দী খালেদা জিয়ার ৭৫তম জন্মদিন পালন করবে বিএনপি।

উল্লেখ্য, আগে প্রতিবছর ১৫ আগস্ট প্রথম প্রহরে কেক কেটে জাকজমকভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করতো বিএনপি। এতে খালেদা জিয়াসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকতেন। কে কার চেয়ে বড় কেক এনে খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারেন এ নিয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলতো। এ ছাড়া ১৫ আগস্ট দিনব্যাপী সারাদেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করতো। তবে গত ক’বছর ধরে এমন আয়োজন করছে না বিএনপি।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট প্রথম প্রহরে গুলশান কার্যালয়ে ৭০ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে জাকজমকভাবে জন্মদিন পালন করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ২০১৫ সালের ১৫ অগাস্ট প্রথম প্রহরে তিনি কেক না কাটলেও সন্ধ্যার পর দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন তিনি। ২০১৬ সালে বন্যা, গুলশানে জঙ্গি হামলাকে কারণ দেখিয়ে জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা কর্মসূচি বাতিল করেছিলেন খালেদা জিয়া। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ এবং ২০১৮ সালেও কেক কেটে আনুষ্ঠানিক ভাবে জন্মদিন পালন করেনি বিএনপি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার দেশব্যাপী মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে কারাবন্দী অসুস্থ খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দলের পক্ষ থেকে দোয়া করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল করা হবে।

বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর কারামুক্তি, রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনায় শুক্রবার দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে। এ ছাড়া সারাদেশের প্রতিটি মহনগর ও জেলা-উপজেলাসহ সকল ইউনিট কমিটিকেও কেন্দ্র থেকে অনুরুপ কর্মসূচি পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কারণ তাঁর ৩ টি জন্মদিন রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি নিজে বা দলের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেননি। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া নিজে এবং দলের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে ১৫ আগষ্ট শোকের দিনে জন্মদিন পালন শুরু করেন।

বিএনপি কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদার দম্পতির তৃতীয় সন্তান তিনি। ১৯৬০ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত সেনাকর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া।

এবার নিয়ে খালেদা জিয়া ৩ বার জন্মদিন অতিক্রম করেছেন কারাগারে। প্রথমবার ২০০৮ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০১৮ সালে জন্মদিনে কারাগারে ছিলেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গতবছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কারাগারে অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় এ বছর ১ এপ্রিল তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ৬২১ নম্বর কেবিনে অবস্থান করছেন।