শুক্রবার | ২৩ এপ্রিল ২০২১ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • নতুন ভ্যারিয়েন্ট কানাডাকে আবৃত করে ফেলতে যাচ্ছে : ট্রুডো
  • ভ্যাকসিনেশনের গতি বাড়াতে প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ : ডগ ফোর্ড
অ্যামাজন কানাডার চারটি সেন্টারে ৪০০ জনের বেশি করোনাভাইসে আক্রান্ত

: ২৯ ডিসেম্বর ২০২০ | দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক |

ফাইল ছবি

অ্যামাজনের কানাডার সেন্টারগুলোতে এরই মধ্যে কয়েকশ মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলেও সেখানে বরাবরই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের গাদাগাদি। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সেখানে অসম্ভব। ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী থাকলেও যৎসামান্য। কাজের চাপ এতোটাই বেশি যে, বাক্যালাপের সময়ই নেই। 

অন্টারিওর পিল রিজিয়নে অ্যামাজন কানাডার চারটি সেন্টারে ৪০০ জনের বেশি করোনাভাইসে আক্রান্ত হয়েছেন। ব্র্যাম্পটনে অ্যামাজনের যে দুটি প্ল্যান্ট আছে, তার একটিতে ২০১৮ সালে কর্মরত ছিলেন সাবি সিধু। তিনি বলছিলেন, কাজের পরিবেশের কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলবÑএকেবারে নরক।

যদিও ভাইরাসের সংক্রম রোধ ও কর্মীদের সুরক্ষায় মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে বলে দাবি অ্যামাজনের। একজন কর্মীও বলছিলেন, প্ল্যান্টে সংক্রমণের জন্য কিছু কর্মীর খামখেয়ালিপনা দায়ী। অ্যামাজনের এখানে কোনো দায় নেই।

তবে সাধু বলছিলেন, দুই বছর আগে ফর্ক-লিফট ড্রাইভার হিসেবে যখন আমি নিয়োগ পাই তখনও প্ল্যান্টের কর্মীরা ব্যস্ত থাকতেন। প্রতি করিডোরে আট থেকে নয়জন কর্মী থাকতেন। বলতে গেলে, গাদাগাদি করেই থাকতে হতো তাদের। খাবারের কক্ষ থাকতো মানুষে ঠাসা এবং লম্বা লাইনটি কখনও কখনও ওয়াশরুম পর্যন্ত চলে যেত।

এরপর এসব প্ল্যান্টে আরও কয়েক হাজার কর্মী নিয়োগ দিয়েছে অ্যামাজন। পিল রিজিয়ন সেন্টারে কর্মরত একজন কর্মী বলছিলেন, ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে নিরুৎসাহিত করেন সুপারভাইজর। কারণ, দুই মিটার দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালে জায়গা অনেক বেশি লাগে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কর্মী বলেন, ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্ল্যান্টটি পরিস্কারও সেভাবে করা হয় না। মোদ্দা কথা, এখানে সামাজিক দূরত্ব বলতে কিছু নেই, স্যানিটেশনও নেই। ৯৯ শতাংশ কর্মীই ভয় নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু তাদের সামনে কোনো বিকল্পও নেই। বাইরের লোকজন এটা জানতে চায় না। কারণ পার্সেলটি তারা ঠিক সময় মতোই হাতে পাচ্ছেন।

অ্যামাজনের পক্ষ থেকে কর্মীদের জন্য সার্জিক্যাল মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। সেগেুলোই পরতে হয়। কেউ চাইলেও এন-৯৫ মাস্ক পরতে পারেন না। সহকর্মীরা ভয় পাবেন, এমন যুক্তিতে বাড়তি কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থাও তাদের নিতে দেওয়া হয় না।