বুধবার | ২০ জানুয়ারী ২০২১ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল
  • কানাডায় করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে
কানাডায় নিখোঁজের পর পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মীর মরদেহ উদ্ধার

: ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ | দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক |

পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মী কারিমা বালুচ

কানাডার টরেন্টোতে পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মী কারিমা বালুচ (৩৭) নিখোঁজের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর কঠোর সমালোচক এই অধিকারকর্মী গত রোববার নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধান চেয়ে আবেদন জানায় পুলিশ। পরে তার বন্ধুরা মৃতদেহ পাওয়ার কথা জানায়। এই ঘটনা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার গ্রুপ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নির্বাসিত ছিলেন কারিমা বালুচ। পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তানের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কঠোর সমালোচক কারিমা ২০১৬ সালে বিবিসি’র একশ’ অনুপ্রেরণামূলক নারীর একজন মনোনীত হন।

টরেন্টো পুলিশ গতকাল সোমবার এক টুইট বার্তায় জানায়, কারিমা বালুচকে সর্বশেষ বে স্ট্রিট এলাকায় গত রোববার দেখা যায়। এরপর আরেক টুইটে পুলিশ জানায়, তার অবস্থান শনাক্ত হওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।

কারিমা বালোচের বন্ধু এবং সতীর্থ অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, তার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষনিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার বালোচের বোন মাহগানজ বালোচ বলেছেন, তার বোনের মৃত্যু 'কেবল পরিবারের জন্যই নয়, বালুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জন্যই এক ট্রাজেডি'। তিনি বলেন, "ও (কারিমা) বিদেশে যেতে চায়নি, কিন্তু যেহেতু পাকিস্তানে অধিকার দাবি করার কারণে ওর জন্য দেশে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।"

বালুচিস্তান প্রদেশে বহু বছর যাবত বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। সেখানকার অন্তত আধা ডজন বিচ্ছিন্নতাবাদী দল বা গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে স্বাধীন বালুচিস্তানের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কারিমা বালোচ পাকিস্তানের নিষিদ্ধ সংগঠন বালোচ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন বিএসও'র সাবেক সভাপতি ছিলেন, এবং সংগঠনটির প্রথম নারী নেতা ছিলেন তিনি।

প্রাণ নিয়ে সংশয় বোধ করায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে বালোচ ক্যানাডায় বাস করছিলেন। তার এক দশক আগে ২০০৫ সালে বালুচিস্তানের তুরবাত এলাকায় একজন আন্দোলনকারী হিসেবে তার উত্থান ঘটে। সেখানকার নিখোঁজ মানুষদের সন্ধান দাবি করে এক মিছিলে তাকে প্রথম দেখা গিয়েছিল, যেখানে তিনি নিজেও তার একজন নিখোঁজ আত্মীয়ের ছবি নিয়ে পথ হেঁটেছিলেন। বালুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকারীদের অভিযোগ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানকার হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী গুমের শিকার হয়েছেন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বালুচিস্তানে ব্যাপক মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ আছে। কিন্তু স্বায়ত্তশাসনের দাবির কারণে রাজনৈতিক কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এমন অভিযোগ কখনোই স্বীকার করেনি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

কারিমা বালোচের পরিবারের কয়েকজন সদস্য বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, এবং তার একজন চাচা ও একজন মামা এর আগে নিখোঁজ হন, যাদের মৃতদেহ পরে পাওয়া যায়। দু'হাজার ছয় সালে তিনি বিএসও'র প্রধান হন। পরের বছর সংগঠনটির বহু কর্মী হয় 'নিখোঁজ' অথবা আত্মগোপনে চলে যায়, এবং ২০১৩ সালে সরকার সংগঠনটি নিষিদ্ধ করে। কারিমা বালোচের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মামলা করা হলে তিনি নির্বাসনে চলে যান।

টরোন্টোতে বসবাস শুরু করার পর সতীর্থ রাজনৈতিক কর্মী হামাল বালোচকে বিয়ে করেন। নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেও তিনি সামাজিক মাধ্যম এবং কানাডা ও ইউরোপে মানবাধিকার কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।পরের বছর তিনি বিবিসির ১০০ প্রেরণাদানকারী এবং প্রভাবশালী নারীর বার্ষিক তালিকায় স্থান করে নেন। কারিমা বালোচের মৃত্যুর খবরে বালুচিস্তান ন্যাশনাল মুভমেন্ট বিএনএম ৪০-দিন ব্যাপী শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া অফিস এক টুইট বার্তায় লিখেছে, "কারিমা বালোচের এই মৃত্যু খুব বেদনাদায়ক এবং যত দ্রুত সম্ভব এর কার্যকর তদন্ত করতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড বাদে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।"