বুধবার | ২০ জানুয়ারী ২০২১ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল
  • কানাডায় করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে
সামান্য সর্দি,কাশি,জ্বর হলেও বাসায় থাকুন

: ২১ ডিসেম্বর ২০২০ | রেজাউল ইসলাম |

সামান্য সর্দি,কাশি,জ্বর হলেও বাসায় থাকুন

অন্টারিওতে হেলথ্ অফিসিয়ালরা অন্টারিওতে দৈনিক ৩০০০-৪০০০ নতুন আক্রান্ত দেখতে হতে পারে বলে প্রজেক্ট করেছে। এখন অন্টারিও সেই প্রজেক্টশনের পথেই পা বাড়াচ্ছে। এখন ৬ দিন ধরে একনাগাড়ে ২০০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে মৃত্যুও হচ্ছে। 

এই ভাইরাসের প্রধানতম ঝুঁকি,আক্রান্ত ব্যক্তি asymptomatic হতে পারে অর্থাৎ ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন যিনি তার কোন লক্ষণ বা চিহ্ন দেখা যাবে না অথচ তিনি কোরোনা আক্রান্ত। ফলে অনেকেই না বুঝে ওই ব্যক্তির সন্নিকটে এসে আক্রান্ত হচ্ছে। যার চিহ্ন বা লক্ষণ দেখা দিচ্ছে না তার হয়ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি, তাই তার তেমন কিছুই হবে না কিন্তু যিনি সন্নিকটে আসার কারণে আক্রান্ত হচ্ছেন তার হয়ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল কিংবা তার দেহে আরো কোন মারাত্নক রোগ আগে থেকেই ছিল কিংবা তিনি বয়স্ক; এমন ব্যক্তি মারাত্নক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে, এতে মৃত্যুও হতে পারে। 

একটি ছোট ঘটনা উল্লেখ করি। ঘটনা সত্য। নাম উল্লেখ না করে ঘটনাটি বলার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশী একজনের বাসায় তার ছোট ভাই তার স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যায়। স্ত্রীটির সামান্য সর্দি জ্বর ছিল কিন্তু তারা কেউ-ই বিষয়টিকে আমলে নেয় নি। সারা দিন তারা ভদ্রলোকের বাসায় কাটিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। পরে সেই ভদ্রলোক কোরোনা আক্রান্ত হয়, পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুমাস হয়ে গেলো তিনি এখনো আইসিইউতে। পরিবার থেকে সম্পূর্ণ  বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকি আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তাকে থাকতে হচ্ছে। 

পরে যেটি জানা যায়, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কোরোনা সংক্রমিত হয়েছিল। সেই স্ত্রী আবার পেয়েছেন তাদের প্রতিবেশী থেকে। বিষয়গুলি সবই পরে জানা গিয়েছিল কিন্তু ততক্ষণে যা সর্বনাশ হবার হয়ে গেছে। 

এই ছোট ঘটনাটি বলার কারন হচ্ছে, আমরা কেন নিজের জীবন, অন্যের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবো?  

সেই ছোট ভাই, তার স্ত্রী নিশ্চয়ই তাদের ভুলের জন্য অনুশোচনায় ভুগছেন। 

সামান্য সর্দি জ্বর কাশি হলে বাসায় থাকুন। এমন অবস্থায় বাইরে বের হওয়া মানে অন্য অনেকের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া।