বুধবার | ২০ জানুয়ারী ২০২১ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল
  • কানাডায় করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে
হিশাম চিশতী ও তমা মীর্জা

[বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ব্যবসায়ি হিশাম চিশতি ও বাংলাদেশের অভিনেত্রী তমা মীর্জার দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটেছে। ঢাকার বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ ও মামলা করেছেন তারা। হিশাম চিশতী এখন টরন্টো অবস্থান করছেন। এসব বিষয় নিয়ে বেঙ্গলি টাইমস অফিসে পাঠিয়েছেন নিজের বক্তব্য।]

আমি হিশাম চিশতী একজন বাংলাদেশী-কানাডিয়ান ব্যাবসায়ী, সমাজসেবক এবং রাজনীতিবিদ। ২০১৮ সালে  গায়ক স্বপ্নিল সজীবের মাধ্যমে চিত্রনায়িকা তমা মির্জার সাথে আমার পরিচয় হয়। কয়েক  মাস ফোনে কথা বলার পর ২০১৯ সালের মে মাসে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তার সাংসারের খরচ চালানোর ভার আমার উপর এসে পড়ে। সেটা মেনে নিতে আমি কোন আপত্তি করিনি। বিয়ের আগে আমাকে বলা হয়েছিল তমার আগে কখনো বিয়ে হয়নি। পরবর্তীকালে আমি জানতে পারি যে ইতিপূর্বে দুইবার তার বিয়ে হয়েছিল। বিভিন্ন সূত্র থেকে তার আগের বিয়ের ছবি পর্যন্ত আমার কাছে পাঠানো হয়। এখবর শোনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমি ব্যাপারটা মেনে নেই। কিছুদিন পর তার মা আমাকে বলেন যে তারা  অর্থনৈতিকভাবে আমার উপর নির্ভরশীল থাকতে চাইছেন না। তাদের একটি স্বর্ণের দোকানে শেয়ার আছে, আমি যদি তাদের ২০ লক্ষ টাকা ধার দেই- সেই টাকা তারা ব্যবসায় বিনোয়োগ করবেন এবং সংসার খরচের জন্য আমার উপর তাদের নির্ভর করতে হবেনা। প্রথমে আপত্তি করলেও আমার স্ত্রীর চাপের মুখে টাকাটা আমি ধার হিসাবে দেই। টাকা দেয়ার পরেও তাদের চাহিদা কমেনি। প্রতি মাসেই তারা আমার থেকে সংসার খরচের টাকা নিতে থাকে, সংসার খরচের বাইরেও ভাইয়ের টিউটরের খরচ, মা-বাবার চিকিৎসা, কুকুরের খাওয়ার খরচ- এধরনের বিভিন্ন অজুহাতে টাকা চাওয়া অব্যাহত থাকে।

এমতাবস্হায় গত আগস্ট মাসে আমি বাংলাদেশে আসি। বাংলাদেশে আসার পরপর বাসা ঠিক করার নাম করে আমার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নেয়া হয়। আমি দেশে আসার মূল কারণ ছিল আমার কোভিড আক্রান্ত অসুস্হ মায়ের সাথে থাকা এবং তার চিকিৎসা করা  ( উল্লেখ্য আমার মা কিছুদিন আগে মারা গিয়েছেন)। সেই কারণে আমি আমার মায়ের বাড়িতে উঠি। কিন্তু তমা আমার সাথে আমার মায়ের বাড়িতে থাকতে রাজি হয়নি। এই নিয়ে আমাদের মধ্যে টানাপোড়ন শুরু হয়। এরই মধ্যে তাদের টাকার চাহিদা বাড়তে থাকে।  এ সময় আমি বুঝতে পারি যে আমার দেয়া ২০ লক্ষ টাকা কোন ব্যাবসায় খাটানো হয়নি, বিলাসিতা করে টাকাটা উড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আমি তখন তাদের কাছে সেই টাকার হিসাব চাই এবং তাদের বলি যে আমি তমা'কে কানাডা নিয়ে যাব এবং তাদের সংসার খরচের জন্য মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বাইরে অন্য কিছু দেয়া হবেনা।

আমার একথায় তমা বা তার পরিবার কেউই রাজি হয়নি। এই নিয়ে আমাদের মধ্যে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে এবং আমি ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই । আমার সিদ্ধান্তের কথা তাদের জানিয়ে দেই। একথা জানিয়ে দেয়ার এক সপ্তাহ পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং বলা হয় যে সংসার না ভেঙে একটা মিটমাট করে ফেলতে। আমার পরিবারও চায়নি সংসারটা ভেঙে যাক, এই জন্য এত কিছুর পরেও তারা আমাকে আপোষ করতে বলেন।  এমতাবস্হায় ৪ ডিসেম্বর রাতে তমা আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি করে এবং বলে যে তার বাড়িতে যেয়ে বিষয়টা মিমাংসা করে ফেলতে। তার কথা বিশ্বাস করে আমি সেই রাতে তাদের বাসায় যাই। তাদের বাসায় যাওয়ার পর আমি দেখি যে তার মা, বাবা, ভাই এবং ড্রাইভার ড্রইংরুমে উপস্হিত। তার মা আমাকে বলেন যে তমার উপর নির্ভর করে তাদের সংসার চলে। তমা'কে কানাডা নিয়ে যেতে হলে তাদের ২০ লক্ষ টাকা এখন দিয়ে যেতে হবে এবং প্রতি মাসে ৪ লক্ষ টাকা করে পাঠাতে হবে। আমি তখন তাদের বলি যে এই টাকা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না, তারা যদি তমা'কে আমার সাথে না যেতে দেন সেক্ষেত্রে আমি ডিভোর্স চাই। তখন আমার শ্বশুর এবং শ্বাশুড়ী আমাকে অশ্লীল গালি-গালাজ শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তার মা হঠাৎ একটি কাচের ভারী একটি ফুলদানী দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেন। আমার মাথা সাথে সাথে ফেটে যায় এবং আমি লুটিয়ে পরি।  তমা, তার ভাই এবং ড্রাইভার আমাকে টেনে ঘরের বাইরে নিয়ে আসে এবং লোহার চেয়ার, গ্লাস এবং বিভিন্ন জিনিষ নিয়ে আমাকে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে।  তার বাবা একটি ওড়না দিয়ে আমার গলা পেঁচিয়ে ধরে। আমার চিৎকারে আশে-পাশের বাড়ির লোকজন বের হয়ে আসলে তারা আমাকে বাইরে ফেলে রেখেই তারা ঘরে চলে যায়। লোকজন এবং আমার ড্রাইভার আমাকে ধরে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ২৪ ঘন্টা হাসপাতালে থাকার পর পরের দিন সন্ধ্যায় আমি স্থানীয় থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু থানা সেই রাতে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তারা মামলা নেয় এর পরের দিন।  

এই হচ্ছে আমাদের মধ্যকার প্রকৃত ঘটনা। মাথায় করা তাদের আঘাতের কারণে আমার কনকাশন হয়, হাত ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। ডাক্তারের ভাষ্যমতে আমার এই আঘাতের কারণে আমার প্রাণনাশ হতে পারত এবং আমি এখনো আশঙ্কামুক্ত নই।  চিকিৎসার জন্য আমি দ্রুত কানাডা চলে আসি। কানাডা এবং বাংলাদেশে  হাসপাতালে চিকিৎসার সব ধরণের কাগজপত্রই আমার কাছে আছে। এর মধ্যে আমি জানতে পারি যে তমা মির্জাও আমার নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বেশী কথা বলতে চাইনা, তবে তাদের মামলাটি যে বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন সেটা আমাকে যারা বিন্দুমাত্র চেনেন, এমন যেকোন মানুষই বুঝতে পারবেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে অর্থনৈতিক ভাবে আমি সাবলম্বী। কানাডায় আমার ব্যবসা আছে, আমি মূলধারার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এখানকার বাঙালি কমিউনিটির যে কোনও অনুষ্ঠানে স্পন্সর হিসাবে আমি এগিয়ে যাই। মাসে মাসে তাকে পাঠানো লক্ষ টাকার হিসাব বাদই দিলাম, তাকে দেয়া আমার বহু দামী দামী উপহারের ছবি সে নিজেই অসংখ্যবার ফেইসবুকে দিয়েছে। গত এক বছরে তাকে আমি  আমেরিকা, ওমান এবং দুবাইতে নিয়ে গিয়েছি এবং টিকেট , থাকা এবং উপহার বাবদ কত টাকা খরচ হয়েছে সেটা আমিই জানি। তাদের আনা যৌতুকের অভিযোগ যে সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং ভিত্তিহীন। আমার সঙ্গে তমা'কে বিয়ে দেয়ার পেছনে তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য টাকা এবং কানাডিয়ান নাগরিকত্ব। আমি একজন ভুক্তভোগী এবং আমি চাই আমার অভিজ্ঞতা থেকে অন্য মানুষরা শিক্ষা নিক।

১৮ ডিসেম্বর ২০২০

টরন্টো, কানাডা