বুধবার | ২৫ নভেম্বর ২০২০ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • ১০০ বছর আগে চুরি যাওয়া মূর্তি ভারতকে ফিরিয়ে দিচ্ছে কানাডা
  • কানাডার টরন্টো ও পিল অঞ্চলে লকডাউন ঘোষণা
বিশ্ব দর্শন দিবস

: ১৯ নভেম্বর ২০২০ | ড. গোলাম দস্তগীর |

আজ বিশ্ব দর্শন দিবস । ২০০২ সালে শুরু হওয়া, বিশ্ব দর্শন দিবসটি প্রতিবছর নভেম্বর মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার পালন করা হয়, দার্শনিক সংলাপ, বিতর্ক, সম্মেলন, কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দিবসের সাধারণ প্রতিপাদ্য বিষয়কে উপস্থাপনার মতো ক্রিয়াকলাপের্  মাধ্যমে। ইউনেস্কোর মতে, "দর্শন একটি অনুপ্রেরণামূলক শৃঙ্খলা এবং সেই সাথে একটি প্রতিদিনের অনুশীলন যা সমাজকে রূপান্তরিত করতে পারে। বিশ্বের বৌদ্ধিক চিন্তাধারার বৈচিত্র্য আবিষ্কার করতে সক্ষম হয় বলে দর্শন আন্তঃসংস্কৃতিক সংলাপকে উদ্দীপিত করে। মতামতের যুক্তিযুক্ত বিরোধিতা ও চিন্তাভাবনার অনুশীলনের প্রতি মনকে জাগ্রত করে দর্শন আরও সহনশীল, আরও শ্রদ্ধাশীল সমাজ গঠনে সহায়তা করে।" আমার দৃষ্টিতে, বিশ্ব দর্শন দিবস উদযাপনের লক্ষ্য হ'ল সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করা, আমাদের অপরীক্ষিত অনুমান এবং অযাচাইকৃত মতামত সম্পর্কে আমাদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা বৃদ্ধি করা এবং অন্যদের সম্পর্কে মানুষের বোঝাপড়া বিকাশ করে বিশ্বে শান্তির প্রতি অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করা। দর্শন কেবল দর্শন অধ্যয়নকারীদের জন্য কোনো একাডেমিক অনুশাসন নয় - প্রত্যেকেরই একটি দর্শন আছে, প্রত্যেকটিরই একটি দর্শন আছে । প্রত্যেকেরই একটি স্বতন্ত্র জীবনধারা বা জীবনাদর্শ  আছে, প্রত্যেকটিরই একটি মৌলিক নীতি আছে । দর্শন কোথায় নেই? ইউনেস্কো তাই সঠিকভাবে দাবি করেছে, "দর্শন দিবস দর্শনের প্রতি যত্নশীল সকলেরই -  এটি প্রত্যেকেরই।" এ বছর, আমরা বহু সংকটের মাঝে বিশ্ব দর্শন দিবসটি উদযাপন করছি, এবং তাই, ২০২০ সালের বিশ্ব দর্শন দিবস পূর্ববর্তী দর্শন দিবসের থেকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

আমরা সকলেই আজ মহামারী দ্বারা অস্থির হয়ে পড়েছি - COVID-19 আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি, এবং পরিবেশের জন্য  হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমরা বুদ্ধিবৃত্তিসম্মন্ন  মানুষ। দর্শন চিন্তা ও বাকস্বাধীনতার উৎসাহ  দেয়। তবে চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে, কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায় সম্পর্কে অবিশ্বাস্য, গৎবাঁধা, দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা বা অনুমাননির্ভর মতামত প্রদান করা। যিনি দর্শন ভালবাসেন তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার চারপাশের বিস্তৃত বিশ্ব সম্পর্কে সচেতন এবং যিনি বৈচিত্র্যকে সম্মান করেন এবং মূল্য দেন। দর্শনচর্চার অর্থ হলো আমরা যা দেখি, শুনি ও বলি তা নিয়ে যৌক্তিক চিন্তা করা এবং এটা নিশ্চিত করা যে, আমরা আমাদের কর্মের জন্য পুরো দায়িত্ব গ্রহণ করি যাতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়।

"সময় যায় বয়ে, স্মৃতি থাকে রয়ে - নীরবে বাকি দিনগুলোকে আলোড়িত করে ।" বহু বছর আগে নিমাই ভট্টাচার্যের "মেমসাহেব" পড়ে এটি টেনিসনের কথা বলে জেনেছিলাম । আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে আমি ইউনেস্কোর সদর দপ্তর, প্যারিসে তৃতীয় বিশ্ব দর্শন দিবস উদযাপন করার জন্য একজন আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারী হিসাবে ইউনেস্কোর দ্বারা আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। আমরা বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপন করেছিলাম। আমি যখন দর্শন বিভাগের সভাপতি ছিলাম তখন আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের ছাত্রছাত্রীরা নাটক, কবিতা, সেমিনার, সংলাপ, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, সাংকৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যাপকভাবে দ্বিতীয় বিশ্ব দর্শন দিবস উৎযাপন করেছিল। বাংলাদেশ ন্যাশনাল কমিশন ফর ইউনেস্কো, নায়েম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতায় আমরা গোলটেবিল, ৱ্যালি, সেমিনার ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্ব দর্শন দিবস পালন করেছিলাম।