বুধবার | ২৫ নভেম্বর ২০২০ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • ১০০ বছর আগে চুরি যাওয়া মূর্তি ভারতকে ফিরিয়ে দিচ্ছে কানাডা
  • কানাডার টরন্টো ও পিল অঞ্চলে লকডাউন ঘোষণা
আমাদের কানাডার প্রধানমন্ত্রী

: ১৯ নভেম্বর ২০২০ | মুকুল বি জামান |

ছবিটি আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্র্রুডোর বর্তমান অফিসের (হোম অফিস)। উনি যখন দিওয়ালির শুভেচ্ছা বাণী দিচ্ছিলেন তখন তোলা। আপনারা খেয়াল করে দেখলে দেখবেন অফিসটি এবং অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার কত সাধারণ। আর তার চেয়ারটিও খুব সাধারণ, এমনকি আমাদের অফিসের চেয়ারের থেকেও সাধারণ এবং সামনে গেস্টের জন্য চেয়ারের সাথে তার চেয়ারের কোনো পার্থক্য নেই। আর তার চেয়ারের পিছনে কোনো তোয়ালে ঝুলানো নেই বা তার বাপ্ দাদার ছবিও নেই।

কিন্তু কিছু দেশ আছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী তো দূরে থাক, একজন পাতি মন্ত্রী বা পাতি আমলার চেয়ারও একেবারে রাজকীয় অবস্থা। কাজের নামে ঠন ঠন, শো-শা আর বড়ো কথার কোনো জুড়ি নেই। উল্লেখ্য ওই অফিসে জাস্টিন ট্র্রুডো না হয়ে অন্য কোনো প্রধানমন্ত্রী হলেও অফিস বা আসবাবপত্র একই রকম থাকতো কারণ এই দেশে প্রতিষ্ঠানিক রাজনীতির চর্চা হয় এবং জনগণের প্রতিটি টাকার জবাবদিহি করতে হয়। এখানকার রাজনীতিবিদরা পাবলিক অফিসে গিয়ে জনগণকে তাদের চাকরিদাতা (employer) মনে করে। "তুই আমারে চিনস বা আমি কি হনু রে মনে করে না ".

আমি এখানে ১৫/১৬ বছর আগে Ryerson University তে পড়ার সময় Keg Steakhousএ PT কাজ করতাম। সেই সময় আমার ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার, মেয়র ডেভিড মিলার, ওন্টারিওর লেফটেনেন্ট লেফটেনেট গভর্নর আলেকজান্ডার লিংকন সহ অনেক রাজনীতিবিদকে সার্ভ করেছি। আমি যেহেতু হোস্টের কাজ করতাম সেহেতু আমিই ছিলাম প্রথম ইন্টারেক্শন। উনাদের কারো মধ্যে আমি কিন্তু "তুই আমারে চিনস বা আমি কি হনু রে" attitude . দেখি নাই। কনজারভেটিভের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন স্টিফেন হার্পার, প্রায় ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীত্ব করেছেন, কিন্তু সেই লোকটিও খুবই সাধারণ টাইপ, অর্থাৎ আমি তার মধ্যে কোনো ভাব দেখি নাই।

সরকারি টাকায় বাহাদুরি করলে খবর আছে। মাত্র ৪০/৫০ হাজার ডলারের ঠিকমতো হিসাব দিতে না পারে বর্তমান ক্ষমতায় থাকা পার্টির অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হয়েছে।

আর পৃথিবীর অনেক দেশে পুকুর থেকে শুরু করে সমুদ্র পর্যন্ত চুরি করলেও চাকরি তো যায়ই না বরং কখনো কখনো পদোন্নতিও হতে পারে।