মঙ্গলবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২১ | টরন্টো | কানাডা |

Breaking News:

  • কানাডায় ভ্যাকসিনে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি
  • কানাডার কিস্টোন পাইপ লাইনের অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্ত বাইডেনের
কানাডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা

: ২৪ অক্টোবর ২০২০ | মোহাম্মদ আলী বোখারী |

কনজারভেটিভ দলনেতা এরিন ও’তুল প্রস্তাবিত ‘দুর্নীতি দমন কমিটি’ গঠন সংক্রান্ত শুনানি নিয়ে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি গড়িমসি করছে, আপাতদৃষ্টিতে সেটাই কনজারভেটিভদের অভিযোগ। কেননা ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে লিবারেল সংসদীয় নেতা পাবলো রডরিগুয়েজের বক্তব্য হচ্ছে- ‘দিস্ ইজ পিওর পার্টিসান পলিটিক্স’, অর্থাৎ এটা দ্বিধাবিভক্তির রাজনীতি। অন্যদিকে, এ সপ্তাহে টরন্টোয় অনুষ্ঠিত দুটি উপ-নির্বাচনকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বক্তব্য সুস্পষ্ট। তাতে তার বক্তব্য কানাডার জনগণ দেখতে চায় স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সংকটেও কানাডার গণতন্ত্র সচল ও কার্যকর। তাই মুখ্য প্রশ্নটি হচ্ছে, কে রাজনীতি করছে সেটা বিষয় নয়; বরং কে উত্তম রাজনীতিটি করছে, নিদেনপক্ষে খারাপের চেয়ে ভালো, সেটাই লক্ষণীয়। আর এ দোটানায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনাটি উঁকি দিচ্ছে। 

তবে ওই সম্ভাবনাকে ঘিরে সরকার পরিচালনার তদন্তে সংসদের দুটি কমিটির কোনটি উপর দায়িত্ব ন্যস্ত হবে, সেটা নিয়েই ক্ষমতাসীন লিবারেল সাংসদরা দোটানায় রয়েছেন। তাই কনজারভেটিভদের প্রত্যাশা- ওই প্রস্তাবিত ‘দুর্নীতি দমন কমিটি’ গঠন করা। আর এই কমিটির কাজ হবে, এই চলমান মহামারিতে সরকার কতোটা কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করেছে, যার মাঝে অন্যতম হচ্ছে ‘উই চ্যারিটি’-কে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর চিফ অফ স্টাফের স্বামী একটি কার্যক্রমের জন্য তদবির করেছেন। এছাড়াও সংসদ স্থগিত করার ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে যে অভ্যন্তরীণ পত্রালাপ হয়েছে, তারও উন্মোচন ঘটানো। পাশাপাশি কনজারভেটিভ প্রস্তাবিত ওই শুনানিতে থাকছে- গত ১২ বছরে ট্রুডো, তার স্ত্রী, মাতা ও ভাই কোথায় ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে বক্তব্য রেখেছেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ চিত্র তুলে ধরা, যা গত গ্রীস্মেই সংসদ অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে, ট্রুডো সংসদ স্থগিত ঘোষণা করায়, তার মেয়াদ চলে গেছে। এছাড়াও জটিলতা দেখা দিয়েছে, সরকারের তরফ থেকে যে তথ্য সংবলিত দলিলাদি দেয়া হয়েছে, তাতে তথ্যের হেরফের ঘটানো হয়েছে কী না। তা সত্তে¡ও সংসদে লিবারেলরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারলে কনজারভেটিভ প্রস্তাবিত ওই শুনানিটি মাঠে মারা যাবে। তা অবশ্য দুরাশাতুল্য, কেননা কনজারভেটিভরা বøক ক্যুইবেকুয়া ও এনডিপির সঙ্গে এ বিষয়ে জোট বাঁধলে প্রস্তাবিত ‘দুর্নীতি দমন কমিটি’ গঠন করা সম্ভব।

এসব সত্তে¡ও গত আগস্ট মাসে সংসদ স্থগিত ঘোষণার আগে ‘কানাডা স্টুডেন্ট সার্ভিসেস গ্র্যান্ট’ নিয়ে যে শুনানি হয়েছে, সেখানে কোনো দুর্নীতি পাওয়া যায়নি, স্বভাবতই সেটিকে ধারণ করে ক্ষমতাসীন লিবারেল বলতে পারে কনজারভেটিভরা বড় কোনো অভিপ্রায়ে নেমেছেন। পক্ষান্তরে কনজারভেটিভরা তাদের উদ্যোগকে স্বচ্ছতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রতিপন্ন করতে পারে। তারা বলতে পারে, ট্রুডোর প্রয়োজন ছিল না সংসদ স্থগিত ঘোষণা করার; বরঞ্চ সংসদ চলাকালীন একই সঙ্গে তারা থর্ন স্পীচ বা রাজকীয় ভাষণের প্রস্তুতি নিতে পারতো। ফলে ট্রুডো সে সময়ে দায়িত্বনিষ্ঠ থাকলে, এখন কনজারভেটিভরা  এতোটা সোচ্চার হতে পারতেন না। তবে লিবারেলরা এখন এনডিপি ধারণাপুষ্ট প্রয়াসে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে করোনা মহামারিতে ব্যয়িত সকল প্রয়াস পরখের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে কনজারভেটিভদের প্রত্যাশিত কিছু বিষয়ের প্রতিও আলোকপাত করা হতে পারে, তবে সেটা পরিস্কার ও সুস্পষ্ট নয় এবং অবশ্যই সেটিকে ‘দুর্নীতি দমন কমিটি’ বলা সমীচীন হবে না। 

অবশ্য গত শুক্রবার সংসদ নেতা পাবলো রডরিগুয়েজ কনজারভেটিভ প্রস্তাবিত শুনানিটিকে ‘আস্থা ভোটের প্রতিফলন’ বিবেচনা করছেন কী না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এতে বিরোধী দলগুলোকে প্রশমনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়টি লিবারেলরা টোপ হিসেবেই ধরে রেখেছে। আগের সপ্তাহে সোমবার সংসদের নৈতিক ও অর্থসংস্থান কমিটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বলেছেন, ‘উই আর এন্টায়ারলি ফোকাসড্ অন দ্য সেকেন্ড ওয়েভ অব কোভিড-১৯। দ্য কনজারভেটিভস কন্টিনিউ টু ওয়ান্ট টু ফোকাস অন উই চ্যারিটি। সু বি ইট,’ অর্থাৎ সর্বতো আমরা কোভিডের দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় নিয়োজিত। কনজারভেটিভরা উই চ্যারিটিতে নিমগ্ন। তাই চলুক।

বলাবাহুল্য, রাজনীতিকরা একই সময়ে একাধিক বিষয়ে নজর দিতে সক্ষম। তাতে লিবারেলদের ভুললে চলবে না যে জনগণ অতীত বিষয়েও নজর দেন। সেক্ষেত্রে সংসদে উত্থাপিত দুর্নাম এবং সেই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়েও তাদের নজর এড়িয়ে যায় না।