লংটার্ম কেয়ারে নজর দেয়নি সরকার

১৭ অক্টোবর ২০২০


লংটার্ম কেয়ারে নজর দেয়নি সরকার

স্বাস্থ্যসেবী চিকিৎকরা নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের কাছে অন্টারিও প্রদেশে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি সেবাশ্রমের আর্তির কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, করোনা মহামারিতে হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত চিকিৎসার প্রস্তুতি চলাকালীন ওই সেবাশ্রমগুলোর প্রতি কোনো প্রকার উল্লেখযোগ্য নজর দেয়া হয়নি। 

ওই দীর্ঘমেয়াদি সেবাশ্রমভিত্তিক নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন আরও জেনেছে, করোনার প্রথম ধাপ শুরু হতেই পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ও সার্বজনীন মাস্ক পড়ার বাধ্যবাধকতা না থাকায় ও ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে চিকিৎসকরা সেবা-শুশ্রæষায় না যাওয়ায়, ওই পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে। অলাভজনক অন্টারিও লং-টার্ম কেয়ার ক্লিনিসিয়ানদের কাছে তারা আরও জেনেছে, কীভাবে ওই সেবাশ্রমগুলো প্রস্তুতিহীন ছিল। গত মাসে ওই তদন্তের শুনানি শেষ হলেও এ পর্যন্ত তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিপূর্ণ প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি; তবে শুনানির অংশবিশেষ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্টারিও লং-টার্ম কেয়ার ক্লিনিসিয়ান সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও চিকিৎসক ডা. এভলিন উইলিয়াম জানিয়েছেন, ‘আমরা বুঝেই ওঠতে পারিনি করোনার প্রথম ধাপ এতোটা সর্বগ্রাসী হয়ে পড়েছিল। হাসপাতালগুলোর বেড খালি পড়ে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সেবাশ্রমের বেডগুলো ছিল ঠাসা; অথচ কোনো পিপিই ছিল না। এতে প্রত্যেকের যতœ নেয়া সম্ভব হয়নি, তার প্রধান কারণটি হচ্ছে প্রয়োজনীয় লোকবল ছিল না এবং আক্রান্তদের অন্যত্র সরিয়ে নেবার উদোগও গ্রহণ করা হয়নি।’

বস্তুত কোভিড-১৯ দীর্ঘমেয়াদি সেবাশ্রমগুলোর উপর প্রবল ছোবল হেনেছে এবং ১,৯৫০ জনের উপর বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার প্রাণহানি ঘটেছে। প্রাদেশিক তথ্য বলছে, দ্বিতীয় ধাপেও আক্রান্তের সংখ্যা সেখানে বেড়েই চলেছে। ওই তদন্ত কমিশন সুপিরিয়র কোর্টের সহযোগি প্রধান বিচারপতি ফ্র্যাঙ্ক মারক্কোর নেতৃত্বে পরিচালিত। নির্দেশনা মোতাবেক তারা করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিস্তারিত জানবেন এবং সে অনুযায়ী তাদের প্রস্তাবণাগুলো তুলে ধরবেন। তবে ওই কমিশনের কাছে অন্টারিও প্রদেশ ও উত্তর আমেরিকায় ‘রিভেরা’ নামের একাধিক সেবাশ্রমের দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসক ডা. রোন্ডা কলিন্স জানিয়েছেন, অনেকে হাসপাতালে বেড খালি রাখার স্বার্থে সেবাশ্রমেই ইচ্ছে করে রয়ে গেছেন।