আদিবাসী জয়েসের মৃত্যুতে কানাডার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বৈষম্যরোধের প্রয়াস

১৭ অক্টোবর ২০২০


আদিবাসী জয়েসের মৃত্যুতে কানাডার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বৈষম্যরোধের প্রয়াস

গত সেপ্টেম্বর মাসে ক্যুইবেকের একটি হাসপাতালে পেটের ব্যাথায় জয়েস ইখাকুয়ানের অভাবনীয় মৃত্যুতে কানাডার আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক মিলার কেন্দ্রীয় তাবৎ মন্ত্রী ও আদিবাসী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সাংশ্রয়িক বৈষম্যরোধে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে রাষ্ট্রীয় আদিবাসী সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী ক্যারোলিন বেনেট, স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্যাটি হাজডু, বিচার মন্ত্রী ডেভিড লেমেটি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রী মরিয়ম মুন্সেফ যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। তাদের এ ভার্চুয়াল আলোচনা সভাটি আগামীকাল শুক্রবার ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। 

আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক মিলারের ভাষায়, ‘আমরা বিষয়টি উদ্বেগের সঙ্গে গ্রহণ করেছি; একই সঙ্গে মনে করি স্বাস্থ্যখাতে বৈষম্য নিরসনে আদিবাসী নেতৃবৃন্দের আগ্রহটি এখানে বিশেষ বিবেচ্য।’ এক্ষেত্রে ওই বহুল আলোচিত ভার্চুয়াল সভায় মন্ত্রীদের পাশাপাশি আদিবাসী নেতৃবৃন্দ, স্বাস্থ্যখাতের আদিবাসী কর্মকর্তা, প্রাদেশিক প্রতিনিধিবৃন্দ, আদিবাসী ও নাগরিক সংগঠনসমূহ এবং প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনসমূহের কর্মকর্তারা যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে আদিবাসীদের স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিতরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাগুলো তুলে ধরবেন, যাতে আগামী বছর জানুয়ারিতে একটি মূল্যায়ণপর ফলদায়ক সভা আয়োজন নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা সম্ভব।

প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত মাসে ৩৭ বছরের জয়েস ইখাকুয়ান মন্ট্রিয়ল থেকে ৭৪ কিলোমিটার উত্তরে ক্যুইবেকের জোলিয়েটের একটি হাসপাতালে মারা যায় এবং তার মৃত্যুর শেষ মুহুর্তের ধারণকৃত ভিডিও পরে ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে যন্ত্রণায় জয়েসকে কাতরাতে দেখা গেছে এবং হাসপাতাল কর্মীরা তাকে উপহাস করেছে, এমনকী তাকে গাড়ল ও মরে যাওয়াটিই ভালো বলেছে।

এতে মন্ত্রী মার্ক মিলার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ হওয়া চাই। সেজন্য এই মহামারিতে আদিবাসী কমিউনিটি ও তাদের সুস্বাস্থ্য নিরাপদ থাকুক, সেটা সুনিশ্চিতের পাশাপাশি এই দায়িত্ব পালন আমার অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্তব্য।’ মিলার বলেন, তিনি ও মন্ত্রী ক্যারোলিন বেনেট মৃত জয়েস ইখাকুয়ানের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। বলেন, জয়েসের এক পুত্র তার পায়ের কাছে বসে পড়ে সুবিচার চেয়েছে। তাতে বেনেট ও আমি বসে পড়ে তার কাছে ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমা চেয়েছি। আর ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করার ঘটনায় সেটাই বেশি মনে পড়ে। 

অবশ্য মিলার ক্যুইবেক প্রাদেশিক সরকার নির্দেশিত তাৎক্ষণিক তদন্তের ক্ষেত্রে প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, ‘সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে, সকল সরকারেরই তা পালনের দায়িত্ব রয়েছে; এমনকী সমাজের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যখাতে সাংশ্রয়িক বৈষম্যরোধে সোচ্চার হওয়া অপরিহার্য।’

মন্ত্রী মিলার আরও জানান, থর্ন স্পীচ বা রাজকীয় ভাষনে ‘ফার্স্ট নেশন্স, ইনুয়িট ও মেটিস জাতিগোষ্ঠির সঙ্গে সহ-উন্নয়নভিত্তিক উল্লেখযোগ্য আদিবাসী স্বাস্থ্য নীতি এবং উল্লেখযোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্বাস্থ্য’ কর্মপন্থা প্রণয়নের নির্দেশনা তার মন্ত্রণালয়ের উপর অর্পণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও আদিবাসী নয় এমন কানাডিয়ানদের এক-তৃতীয়াংশের মাঝে সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, তথাপি আদিবাসীদের মাঝে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, বিশেষ করে ফ্লু সিজনে তা বাড়া বৈ কমবে না। তার কথা, গত ছয় সপ্তাহে ফার্স্ট নেশন্স কমিউনিটিতে সে সংক্রমণ সংখ্যা ধীর গতিতে বেড়ে ১৯ থেকে ৯৮-এ এসে দাঁড়িয়েছে। তাতে তিনি বলেন, ‘মাত্র দুই সপ্তাহের চিত্রে দ্বিধা ছিল প্রথম ঢলের চেয়ে দ্বিতীয় ঢলে সংক্রমণের মাত্রা কম হবে, কিন্তু হয়েছে বিপরীত।’ সে জন্য জ্বর ও জ্বর সংশ্লিষ্ট জটিলতা প্রতিরোধে জ্বরের প্রতিষেধক অর্থাৎ ‘ফ্লু ভেকসিন’ একমাত্র কার্যকর উপকরণ হলেও আদিবাসী নয় এমন জনগোষ্ঠির চেয়ে আদিবাসীদের মাঝে তার কর্মক্ষমতা বেশ কম। মন্ত্রী মিলার বলেন, তাতে মানসিক ধারণা ‘তুচ্ছতাচ্ছিল্যে যেখানে চিকিৎসা হবে, সেখানে কিসের জন্য জ্বরের চিকিৎসা করাতে যাবো। যাওয়ার প্রয়োজন নেই; বলবেন, দরকার নেই।’