জয়া বললেন ‘আর নয়’

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০


জয়া বললেন ‘আর নয়’

করোনা ভাইরাসের ভয়ে তটস্থ গোটা বিশ্ব, কিন্তু এই ভাইরাস থেকেও বড় ভাইরাস যেন পুরুষতান্ত্রিকতা। বিকৃত মানসিকতার পুরুষদের ভয়ে প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে গুটিয়ে দিন কাটাচ্ছে নারীরা। এমনটাই মনে করেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। এই নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। প্যান কমনওয়েলথ প্ল্যাটফর্মে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন তারকাদের মতো তিনিও যুক্ত হয়েছেন ‘নো মোর ক্যাম্পেইনে’।

‘দরিদ্র পরিবারগুলোতেই কি শুধু নারীরা গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হন? আপনারা কি ভাবেন, শিক্ষিত পড়াশোনা জানা পুরুষরা কি স্ত্রীদের গায়ে হাত তোলেন না? আপনারা নিশ্চয় আপনাদের মেয়ে কিংবা বউমাকেও বলে এসেছেন যে- মা, এরকম তো আমাদের সঙ্গেও হয়েছে, দু’-একটা চড়-থাপ্পড় তো মেয়েদের সহ্য করতেই হয়! সেসব সহ্য করেছি বলেই না আজ সুখে-শান্তিতে ঘরকন্না করছি…।’ কথাগুলো খুব একটা অচেনা নয় আমাদের সমাজে। মুখ বুঝে সইতে হয় এমনটাই মেয়েদের শিখিয়ে এসেছে সমাজ। তবে আর নয়! এসব বলার কিংবা শোনার দিন ফুরিয়েছে। সমাজের অলিখিত প্রচলিত এই মন-মানসিকতার বিরুদ্ধেই কুঠারাঘাত করলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান।

নারীদের কখনও শ্বশুরবাড়িতে আবার কখনও বা নিজের বাড়িতে শারীরিক কিংবা মানসিক নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করেন, আবার কেউ সবকিছু মুখ বুঝে সহ্য করে নেন। কিন্তু বাস্তবে গার্হস্থ্য হিংসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নারীদের সংখ্যা অনেকটাই কম। আর তাই জয়া আহসান মনে করিয়ে দিলেন যে, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়! সুস্থ, আতঙ্কহীন জীবনের স্বপ্ন দেখুক নারীও।’

গার্হস্থ্য হিংসার বিরুদ্ধে প্যান কমনওয়েলথ-এর প্ল্যাটফর্মে সরব হলেন জয়া আহসান। এই ‘নো মোর’ ক্যাম্পেনিংয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বহু তারকাই অংশ নিয়েছেন এই প্রতিবাদ প্রচারে। কমনওয়েলথের সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ প্রচারে ৫৪টি সদস্য দেশ যুক্ত। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন জয়া আহসান।

নিজের দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত জয়া। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নারীদের জীবনে রোজকার এই অত্যাচার বন্ধ হোক। কত শত সুন্দর জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হয়ে। ভালোবাসা আসুক। সুস্থ, আতঙ্কহীন জীবনের স্বপ্ন দেখুক নারীও। গোটা বিশ্ব থেকে নারীদের প্রতি অত্যাচারের কলঙ্কিত অধ্যায় মুছে যাক। আর তার জন্য একটাই মন্ত্র ধ্বনিত হোক- আর নয়!’