প্রিমিয়ার ফোর্ডের কঠোর সতর্কতা

১১ সেপ্টেম্বর ২০২০


প্রিমিয়ার ফোর্ডের কঠোর সতর্কতা

বর্হিবিশ্ব থেকে কানাডার অন্টারিও প্রদেশে আগমনকারীদের কোয়ারান্টাইন আইন লংঘণের বিষয়ে প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। কেননা প্রদেশে আগমনের ক্ষেত্রে ওই আইনকে তিনি অধিকার নয়, বরং ‘প্রিভিলেজ’ বা ‘বিশেষাধিকার’ বা ‘প্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হঠাৎ করে প্রদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় লকডাউনের সর্বশেষ ধাপ অবমুক্তের ক্ষেত্রে ধীর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার কুইন্স পার্কে প্রিমিয়ার ফোর্ড বলেছেন, ‘উই আর কামিং ডাউন হার্ড অন পিপল দ্যাট আর নট কোয়ারান্টাইনিং কামিং ইন্টু আওয়ার কান্ট্রি।’ অর্থাৎ যারা আমাদের দেশে এসে কোয়ারান্টাইনে থাকছেন না, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। তার ভাষায়, ‘কানাডায় আসা বিশেষাধিকার, একইভাবে অন্টারিওতে এসে আপনি যদি কোয়ারাইন্টাইনে না থাকেন, বসে না থাকেন, তা হলে আমরা আপনাদের পিছু নেব। তিনি আরও বলেন, বিশাল আয়োজন সম্পর্কে গুরুত্বারোপের কমতি নেই, তবু বিপুল পার্টি ও বিয়ে থেমে নেই। জুলাইয়ের পর হঠাৎ করেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মঙ্গলবার ১৮৫-তে উপনীত হয়েছে। 

ফোর্ড বলেন, ‘অনেক সংস্কৃতিতে বড়ো আকারের বিয়ের আয়োজন হয়, তারা বিশ্বের নানা দেশ থেকে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানান; এটা আপনারা করতে পারেন না, এটা সমগ্র প্রদেশের জন্য বিরক্তিকর, যেখানে অপরাপররা ভালোভাবে দিনাতিপাত করছেন।’ 

কীভাবে এই আগমন ঘটছে, এ বিষয়ে বিশদ জানতে চাইলে প্রিমিয়ারের অফিস থেকে জানানো হয় যে, কানাডার নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের কানাডায় আসতে কোনো বাধা নেই, সেটা ফেডারেল আইনসঙ্গত।

তাই কানাডায় প্রবেশকারী কোয়ারান্টাইন আইন লংঘণকারীদের ক্ষেত্রে ছয় মাসের জেল অথবা ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা নির্ধারিত। আরসিএমপি, প্রাদেশিক পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশ কোয়ারান্টাইন লংঘণকারীদের ক্ষেত্রে টিকেট ইস্যু থেকে শুরু করে ২৭৫ থেকে ১,০০০ ডলার পর্যন্ত অর্থদন্ড করছে। 

---------------------


বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্থ বাবা-মা

মোহাম্মদ আলী বোখারী  

হঠাৎ করে অন্টারিও প্রদেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় টরন্টো সিটির নানা জাতিগোষ্ঠির এলাকায় বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্থ তাদের বাবা-মা। এমন আশংকাপূর্ণ নমুনা চিত্রই দৃশ্যমান থর্নক্লিফ পার্ক ও উইন্ডামেয়ার এলাকায়। এতে থর্নক্লিফ পার্ক পাবলিক স্কুলের ১৪০০ ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে মাত্র ৫৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৯১০ জন সরাসরি এবং ৩৪ শতাংশ অনলাইন ক্লাসে যোগ দিচ্ছে বলে জানিয়েছে। আবার উইন্ডামেয়ার ও বিচেস এলাকায় সে সংখ্যা অনুপাত ৮০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে যাবে বলে জানিয়েছে। তবু আশংকা থাকছে ক্লাস সাইজ নিয়ে; আদৌ কী সেখানে একটি ক্লাসে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী যোগ দিচ্ছে, যা করোনাপূর্ব পরিস্থিতির।

তথাপি টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের অধীনে ৮০টি স্কুলের মাঝে ৩৯টি স্কুলেই অর্ধেকেরও কম সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী যোগ দিচ্ছে বলে এক পর্যবেক্ষণে বেরিয়ে এসেছে। তাতে ধারণা, ৩১টি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলে প্রতি ৩ জনের ১ জন অনলাইন ক্লাসে যোগ দেবে। একইভাবে জেইন-ফিঞ্চ এলাকার ছয়টি এলিমেন্টারি ও মিডল স্কুলে গড়ে ৪০-৪৭ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বাকীরা অনলাইনে ক্লাসে যোগ দেবে।

এসব সত্তে¡ও অনলাইনে ক্লাসে যোগ দেবার সামর্থ্য অনেকাংশে নির্ভর করছে মাথাপিছু পারিবারিক আয়ের উপর। যেসব এলাকায় জাতিগোষ্ঠির পারিবারিক আয়, অর্থাৎ টরন্টোর গড়পড়তা আয় হচ্ছে ৬৫,৮২৯ ডলার, সেই পরিবারগুলো তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এসব এলাকায় প্রায় ২০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীর স্কুলের পাঠ্যক্রম যথাযথভাবে অনুসরণ দুরূহ। অর্থাৎ তাদের সরাসরি ক্লাসে যাওয়া কিংবা অনলাইনে যোগদান সমস্যাসংকুলই থাকছে।