উই চ্যারিটি !

১১ সেপ্টেম্বর ২০২০


উই চ্যারিটি !

‘উই চ্যারিটি’ বিষয়ে ক্ষমতাসীন জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল সরকারের কেলেঙ্কারী ক্রমান্বয়ে জোরালো হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট অর্থমন্ত্রী বিল মরনেও’র পদত্যাগ ঘটলেও একদিকে বিরোধী দলীয় কনজারভেটিভ এমপি রিচার্ড মার্টেল রাষ্ট্রীয় ল্যাংগুয়েজ কমিশনারের প্রতি তদন্তপূর্ণ প্রমাণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে এনডিপি’র নৈতিক সমালোচক এমপি চার্লি অ্যাঙ্গাস মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের স্টুডেন্ট-ভলান্টিয়ার নির্ভর কার্যক্রম পরিচালনায় যুব বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী বার্দিশ চাগারের অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। 

কনজারভেটিভ দলের বক্তব্য হচ্ছে, কেন ফেডারেল সরকার স্টুডেন্ট গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম পরিচালনায় ফ্রাঙ্কোফোনভাষী জনগোষ্ঠির প্রতি বৈষম্য দেখিয়ে উই চ্যারিটিকে বাছাই করে, তা জাতীয় ল্যাংগুয়েজ কমিশনার যেন তদন্ত করে দেখেন। এক্ষেত্রে এমপি রিচার্ড মার্টেলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগটি হচ্ছে, কানাডার দ্বিভাষিক রাষ্ট্রভাষায় ‘কানাডা স্টুডেন্ট সার্ভিস গ্র্যান্ট’ পরিচালনায় উই চ্যারিটির যুব সম্প্রদায়ের কোনো সক্ষমতা ছিল না, তবু তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়।

আর এনডিপি’র নৈতিক সমালোচক এমপি চার্লি অ্যাঙ্গাসের বক্তব্য হচ্ছে, সাম্প্রতিক প্রকাশিত দলিলে সুস্পষ্ট যে, মাল্টি-মিলিয়ন ডলার নির্ভর স্টুডেন্ট-ভলান্টিয়ার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিয়ামক চালিকা হিসেবে কাজ করেছেন ফেডারেল যুব বিষয়ক মন্ত্রী বার্দিশ চাগার, সেজন্য তার পদত্যাগ করাটা বাঞ্চনীয়।

সেজন্য এমপি রিচার্ড মার্টেল ল্যাংগুয়েজ কমিশনার রেমন্ড দিবার্জ বরাবরে প্রেরিত এক পত্রে জানিয়েছেন, কানাডার দ্বিভাষিক রাষ্ট্রভাষায় ‘কানাডা স্টুডেন্ট সার্ভিস গ্র্যান্ট’ পরিচালনায় উই চ্যারিটির যুব সম্প্রদায়ের কোনো সক্ষমতা ছিল না। অথচ ‘অফিসিয়াল ল্যাংগুয়েজ অ্যাক্ট’ অনুসারে সরকারের পক্ষে কোনো সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে অবশ্যই তা ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ ভাষায় হওয়া চাই। 

এ বিষয়ে গত কয়েক মাস ধরেই বিরোধী দলীয় এমপি-রা সমালোচনামুখর রয়েছেন, ফলে কার্যত কার্যক্রমটি পরিত্যাজ্য হয়েছে; কেননা উই চ্যারিটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পরিবার এবং পদত্যাগী অর্থমন্ত্রী বিল মরনেও’র সংশ্লিষ্টতা ছিল। তদুপরি ক্ষমতাসীন লিবারেল দল বলেই যাচ্ছে যে, সরকারি কর্মকর্তারাই করোনা মহামারিকালীন ওই যুব সম্প্রদায় কর্তৃক স্টুডেন্টদের সহায়তার সুপারিশটি করেছেন।

আর এনডিপি’র এমপি চার্লি অ্যাঙ্গাস যুবমন্ত্রী বার্দিশ চাগারকে যুক্ত করে বলেছেন যে, আগস্ট মাসে অবমুক্ত দলিলে লিবারেল দলের বক্তব্যটি সাংঘর্ষিক। তাতে মোটেও প্রমাণিত নয় যে, সরকারি কর্মকর্তারাই উই চ্যারিটির যুব সম্প্রদায় কর্তৃক স্টুডেন্টদের সহায়তার সুপারিশটি করেছেন। বস্তুত ওই দলিলটি সংসদীয় অর্থ কমিটি তদন্তের স্বার্থে চেয়েছে, যদিও সমালোচনার কারণে টরন্টোভিত্তিক উই চ্যারিটির যুব সম্প্রদায়টি জুলাই মাসেই নিজেদের ওই মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের কার্যক্রম থেকে গুটিয়ে নেয়। আপাতদৃষ্টিতে, জাস্টিন ট্রুডো ও তার পরিবারের সঙ্গে উই চ্যারিটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমনকী তার ঘনিষ্টজনেরা অর্থের বিনিময়ে তাদের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

এতে পার্লামেন্ট হিলে এক সংবাদ সম্মেলনে এমপি চার্লি অ্যাঙ্গাস বলেন, ‘ওই কেলেঙ্কারীকালীন প্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল সরকার বরাবরই বলেছে যে সরকারিরা কর্মকর্তারা সে উদ্যোগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন, কিন্তু সরকারি দলিলে তেমন দাবির সত্যতা নেই।’ তিনি গত ২২ এপ্রিল উই চ্যারিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রেগ কেইলবার্গ কর্তৃক যুবমন্ত্রী বার্দিশ চাগার বরাবরে প্রেরিত ই-মেইলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যেখানে কেইলবার্গের সঙ্গে ৫ দিন আগে দেখা করে মন্ত্রী করোনা মহামারিকালীন যুব সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক স্পৃহাটি তুলে ধরেন ও ধন্যবাদ প্রাপ্ত হন। এতে কেইলবার্গ লিখেছেন, ‘আপনার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করানোর উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। সপ্তাহান্তে আমাদের টিম আপনার গ্রীস্মকালীন চাকরির সুযোগ সৃষ্টির দ্বিতীয় স্ট্রিমের উপদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে।’ আর এই দ্বিতীয় স্ট্রিমটিই হচ্ছে গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম। এক্ষেত্রে অ্যাঙ্গাস উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রী ও কেইলবার্গের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে-পরে মন্ত্রণালয় কর্মকর্তদের সঙ্গে উই চ্যারিটি একাধিক ই-মেইল বিনিময় করেছে। সেটাকেই তিনি ‘কী মোমেন্টস’ বা ‘গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়’ আখ্যা দেন। 

পূর্বাহ্নে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও অর্থমন্ত্রী বিল মরনেও নিজেদের অযাচিত সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন, যেখানে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে ৪৩ মিলিয়ন ডলার উই চ্যারিটিকে প্রদানের উদ্যোগটি গৃহীত হয়, যা বাস্তবে ভন্ডুল হয়েছে। আর নানা তদন্তর মাঝে সংসদের অধিবেশন ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বিরোধী দলের এই সমালোচনার মাঝে সকলের দেখার অপেক্ষা হাউজ অব কমন্সে ‘থর্ন স্পিচ’ বা করোনা মহামারি সম্পর্কিত সাফল্যগাঁথা বিষয়ক রাজকীয় বক্তব্যের পর সরকারের পরিণতিটি কী দাঁড়ায়।