বাংলাদেশি স্কুলছাত্রী মাহদিয়ার বই আমাজনে

১১ সেপ্টেম্বর ২০২০


বাংলাদেশি স্কুলছাত্রী মাহদিয়ার বই আমাজনে

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত টরন্টোর ম্যালভার্ন কলেজিয়েট ইনস্টিটিউটের দশম গ্রেডের ছাত্রী সৈয়দা মাহদিয়া অভূতপূর্ব সাফল্যে আমাজনের পেপারব্যাক প্রকাশনা ও অনলাইন কিন্ডল জগতে পদাপর্ণ করেছে। সম্প্রতি ইংরেজিতে তার ছোট গল্পের সংকলন গ্রন্থ ‘সেন্ট্রালিটি - দ্য কি টু দ্য কসমস: অ্যান্ড আদার স্টোরিজ’ প্রকাশ পেয়েছে। এতে তার ভাষ্য, ‘আমি সব সময় দিবা স্বপ্ন দেখতাম, সেজন্য কল্পনার জগতে বিচরণ করেছি। কিন্তু কখনো ভাবিনি তাই নিয়ে বই লিখবো।’

বাস্তবে গত বছর গ্রীষ্মে ১৪ বছরের মাহদিয়া লেখনীর উপর একটি অতিরিক্ত কোর্স নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। সেখানেই তার ইংরেজি শিক্ষক লরা স্ম্যাশনাকের উপলব্ধিতে কিশোরী হিসেবে তার ধীমান লেখনী শক্তির অতুলনীয়তা প্রকাশ পায়। 

এতে মাহদিয়ার ভাষায়, ওই বইয়ে সংযোজিত ছোট গল্পগুলো সে গত বছরের নভেম্বর থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ে লিখেছে। তবে বর্তমানে একই দৃষ্টিভঙ্গীর ইংরেজি শিক্ষিকা হান্নাহ বারখার্ড তার লেখাগুলো সম্পাদনা শেষে প্রকাশনার জন্য পুর্ণবিন্যাস করেন। মাহদিয়া বলেছে, ‘তাতে একদিন প্যারেন্ট-টিচার সাক্ষাতকার শেষে মিস বারখার্ড আমার বাবা-মাকে বলেছেন, আমি যদি আমার লেখা অব্যাহত রাখি এবং সেগুলো তাকে সম্পাদনার জন্য দেই, তা হলে তিনি একটি বইয়ে রূপান্তর করবেন।’

পরবর্তীতে করোনা মহামারিতে মাহদিয়া অনলাইনে গিয়ে জানলো কী করে বই প্রকাশ করা যায়। শিক্ষিকা মিস বারখার্ডের ভাষায়, ‘দূরশিক্ষণ বা অনলাইন লার্নিং প্রক্রিয়া শেষে বিকেলে ও সপ্তাহান্তে বই প্রকাশনার কাজ চললো। আমি মাহদিয়ার স্বাতন্ত্র্যবোধ ও অধ্যাবসায় দেখে অভিভূত।’

মাহদিয়া জানিয়েছে, তার প্রকাশিত বইটি রোমাঞ্চকর কিংবা অলীক কল্পনাপ্রসূত সাহিত্যের অর্ন্তভুক্ত। এতে তার প্রিয় গল্প জলদস্যুদের জাহাজ নিয়ে লেখা। ‘সেখানে লুন্ঠন ও হত্যা শেষে পালিয়ে যাবার মতো বৈশিষ্ঠ্যগত জলদস্যুদের ঘটনাবলীর পরিবর্তে আমি চিত্রায়ণ করেছি আসলে জলদস্যুরা তা নয়, বরঞ্চ আমরা তাদের সম্পর্কে তেমনটা জানিনা,’ এমনটাই সে জানায়। তার ওই বইয়ের প্রচ্ছদ অলংকরণ করেছে তারই স্কুলের একাদশ গ্রেডের রিনে অরচার্ড। শিক্ষিকা বারখার্ড এ দুজনকে তাদের আগ্রহগত বিষয়বস্তুর কারণে পরস্পরের সখ্য গড়ে দেন। মাহদিয়ার ভাষায়, ‘সে তার চিত্রাঙ্কণের ক্ষেত্রে বিস্ময় জাগানো একজন প্রতিভাবান শিল্পী।’ 

অবশ্য ওই বই প্রকাশনায় বাবা-মার পাশাপাশি আরও অনেকের সমর্থন রয়েছে, তাতে মিডল্যান্ড অ্যাভিনিউতে অবস্থিত মাহদিয়ার পূর্বতন জন এ লেসলি পাবলিক স্কুল অন্যতম, সেখানে এ মাসে তাকে বক্তব্য রাখার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ সব জেনে তার বর্তমান স্কুল ম্যালভার্ন কলেজিয়েটের প্রিন্সিপাল বার্নডেট শ’ নিজেও অভিভূত। তার ভাষায়, ‘আমি সত্যি অভিভূত ও আনন্দিত এবং সেজন্য আমাদের স্কুলের লাইব্রেরিতে তার বই সংরক্ষণের পাশাপাশি অপরাপরদের তা জানাতে সচেষ্ট রয়েছি।’

এসব ছাড়িয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সৈয়দা মাহদিয়ার বই প্রকাশনার ওই সাফল্যগাঁথা স্বয়ং টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড তাদের অফিসিয়াল টুইটার পোস্টে গত ৩ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে। সেখানে লিখেছে- ‘ম্যালভার্ন সিআই স্টুডেন্ট সৈয়দা মাহদিয়া ওয়াজ অন মেট্রো মনিং টু ডিসকাস দ্য ইন্সপ্রেশন বিহাইন্ড হার নিউ কালেকশন অব শর্ট স্টোরিজ, সেন্ট্রালিটি - কি টু দ্য কসমস অ্যান্ড আদার স্টোরিজ।’ অর্থাৎ জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিবিসি রেডিও-র মেট্রো মর্নিংয়ে ম্যালভার্ন কলেজিয়েটের সৈয়দা মাহদিয়া তার সংকলন গ্রন্থ প্রকাশনার অনুপ্রেরণারপূর্ণ ইতিবৃত্তটি তুলে ধরেছে। সেই বক্তব্যের প্রত্যুত্তরে ম্যালভার্ন সিআই তাদের অফিসিয়াল টুইটে ইসমাইলা আলফা উপস্থাপিত মেট্রো মর্নিংয়ের লিংক উদ্ধৃত করে মাহদিয়ার ভাষায় লিখেছে- ‘হোনেস্টলি, আই রেড এন আনহেলথি অ্যামাউন্ট অব বুকস হোয়েন আই ওয়াজ এ কিড।’ অর্থাৎ মাহদিয়া উপর্যপুরি শিশুতোষ অনেক বই গোগ্রাসে পড়েছে। 

তবে এ বছর সেপ্টেম্বর থেকে দশম গ্রেডের ছাত্রী মাহদিয়া আবারও অন্য বই লিখতে যাচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করে জানায়নি। কেবল বলেছে, ‘আমি আমার লেখা চালিয়ে যাব, জানিনা তাতে কী বেরিয় আসবে। প্রত্যাশা থাকবে পাঠক তা সানন্দে গ্রহণ করবে।’ মাহদিয়ার বাবা ড. সৈয়দ তানবীর শেরিডান কলেজে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অধ্যাপক এবং মা তাসনিম সিদ্দিকা টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ডের স্পেশাল এডুকেশনের সহযোগি। ছোট এক ভাই পঞ্চম গ্রেডের গিফ্টেড স্টুডেন্ট। নিঃসন্দেহে তাদের এই পারিবারিক সাফল্য বাঙালি কমিউনিটির জন্যে এক অভাবনীয় অনুপ্রেরণা ও গর্বের বারতা বয়ে এনেছে।