১০ কোটি ব্যক্তির তথ্য হাতানো নারী হ্যাকার গ্রেপ্তার

৩০ জুলাই ২০১৯


১০ কোটি ব্যক্তির তথ্য হাতানো নারী হ্যাকার গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১০ কোটি ৬০ লাখ নাগরিকের তথ্য চুরির অভিযোগে মার্কিন এক নারী হ্যাকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। মঙ্গলবার বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল সোমবার পেইজ থম্পসন (৩৩) নামের সন্দেহভাজন ওই নারী হ্যাকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পেইজ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটেল শহরের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাবেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার।

বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ওয়ানের সার্ভার থেকে ওই সেবাগ্রহীতাদের তথ্য হাতানোর ঘটনা ঘটে।

এ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ক্যাপিটাল ওয়ানের ক্রেডিট কার্ড পণ্যের জন্য আবেদন করা ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর চুরি গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু হ্যাকার কারো ক্রেডিট কার্ড নম্বর নিতে পারেনি বলে জানায় তারা।

গতকাল এক বিবৃতিতে ক্যাপিটাল ওয়ান জানায়, চলতি মাসের ১৯ তারিখ ওই হ্যাকিংয়ের ঘটনা চিহ্নিত করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০ কোটি ও কানাডার ৬০ লাখ মানুষের তথ্য ফাঁস হয়েছে। হ্যাকার সেবাগ্রহীতার নাম, জন্মদিন, ক্রেডিট কার্ডের স্কোর, ব্যালান্স, লিমিট, পেমেন্ট হিস্টোরি এসব তথ্যও চুরি যায়।

ক্যাপিটাল ওয়ানের চেয়ারম্যান রিচার্ড ফেয়ারব্যাংক এক বিবৃতিতে বলেন, “অপরাধী ধরা পড়েছে, অন্তত এই কারণে আমি স্বস্ত্বি পাচ্ছি। যা ঘটেছে সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

“এ ঘটনায় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সেজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী এবং এর সমাধানের বিষয়ে আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ।”

ওই নারীর বিরুদ্ধে কম্পিউটার জালিয়াতি এবং প্রযুক্তির অপব্যাবহারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে।

সিয়াটলের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করা মামলার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, পেইজ টমসন তার চুরি করা কিছু তথ্য প্রোগ্রামিং প্ল্যাটফর্ম গিটহাবে পোস্ট করেছিলেন। গিটহাবের আরেক ব্যবহারকারী সেটা দেখে ক্যাপিটাল ওয়ানে খবর দেন।  

এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিটহাবের ওই পোস্ট ধরে তদন্ত চালিয়ে পেইজ টমসনকে গ্রেপ্তার করে। তবে ক্যাপিটাল ওয়ানের গ্রাহকদের তথ্য চুরির পেছনে তার আসল উদ্দেশ্য কি ছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়।