নারায়ণগঞ্জে আরেক ভয়ঙ্কর মাদ্রাসা অধ্যক্ষ

২৮ জুলাই ২০১৯


নারায়ণগঞ্জে আরেক ভয়ঙ্কর মাদ্রাসা অধ্যক্ষ

চার ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদরাসার অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ১১। 

শনিবার (২৭ জুলাই) বিকেলে ফতুল্লার দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতার মোস্তাফিজ ঐ মাদ্রাসায় সপরিবারে বসবাস করেন। এসময় উত্তেজিত এলাকাবাসী অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

জানা গেছে, গ্রেফতার অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান নেত্রকোণা থেকে ফতুল্লায় এসে ৫ বছর আগে ভবন ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছেন। তিনিই এটির প্রতিষ্ঠাতা। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

র‌্যাব ১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুল সাকিব জানান, গত ২৮ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের শিক্ষক আশরাফুল ও ৪ জুলাই ফতুল্লার বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আল আমিনকে ছাত্রীদের ধর্ষণের ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি ভূঁইগড় এলাকার দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের নজরে আসে। পরে তারা র‌্যাব ১১ কে অভিযোগ করলে তা নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করি। তদন্তে ৪ জন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির সত্যতা পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করি।

ঘটনার শিকার দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে র‌্যাব ১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, গত ২৪ জুলাই ঘটনার শিকার এক ছাত্রী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ জসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাবের একটি দল গোপনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। র‌্যাবের তদন্ত দল আরও জানতে পারে, অতীতে জসিমের বিরুদ্ধে এ ধরনের আরও অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু স্থানীয় একটি গ্রুপ ওই সময় আর্থিক সুবিধা নিয়ে জসিমকে রক্ষা করে।

তিনি আরও জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম এবং ফতুল্লার মাহমুদনগর এলাকায় বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল আমিন ছাত্রীদের ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে সেই সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হয়। তা দেখেই জসিমের ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীরা সাহস করে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করে।

ঘটনার শিকার দুই শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের জানায়, গত ৩ মাসে জসিম তাদের সঙ্গে এসব ঘটনা ঘটান। এর আগেও তিনি এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। জসিম মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্র্থকে তিনবার এবং আলিম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে একবার ধর্ষণ করেন বলে র‌্যাব জানতে পেরেছে।

ঘটনার শিকার আলিম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, জসিম মাদ্রাসার ছোট মেয়েদের দিয়ে তার অফিস কক্ষে টার্গেট করা ছাত্রীদের ডেকে নিতেন। এর পর টুকটাক কাজ করার কথা বলে কৌশলে রুমের দরজা আটকে দিতেন এবং পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতেন। এর পর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করতেন। ধর্ষণ শেষে এসব ঘটনা কাউকে না জানাতে শাসিয়ে ছেড়ে দিতেন।