খুলনায় ইলিশ বিক্রির ধুম

২৭ জুলাই ২০১৯


খুলনায় ইলিশ বিক্রির ধুম

খুলনায় মাছের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার রূপসা মৎস্য আড়ৎ গুলিতে এখন রূপালি ইলিশে ভরপুর। ভোর থেকে রাত অবধি অলিগলি পাড়া-মহল্লায়ও চলছে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ইলিশ বিক্রির ধুম। মাত্র কয়েকদিন আগে আগে চড়া দামে ইলিশ বিক্রি হলেও এখন তা নেমেছে প্রায় অর্ধেকের কম দামে। এক কেজি ওজনের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকায়। তিনদিন আগে একই ওজনের মাছ কিনতে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ দামে। মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। ফলে স্বস্তি ফিরেছে আড়ৎদার, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা সবার মধ্যেই। দাম কমায় টাটকা ইলিশের স্বাদ নিতে বিভাগের সবচেয়ে বড় এ আড়তে প্রতিদিন আসছেন হাজারো ক্রেতা।

আড়তদাররা জানান, সপ্তাহখানেক আগেও ইলিশের অগ্নিমূল্য ছিল। এখন তা অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে, বলতে গেলে অর্ধেকের কম। মানুষ চাতক পাখির মতো চেয়েছিল কখন ইলিশের দাম কমবে। নদী ও সাগরে ঝাঁকে-ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় সরবরাহ বেড়েছে। ফলে কমেছে দাম। আর দাম কমায় ক্রেতারাও স্বাদের ইলিশ কেনায় ঝুঁকছেন।

গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। যে কারণে সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারিনি জেলেরা। তাদের দাবি এ কারণে বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ না থাকায় দাম ছিল বেশি। ২৩ জুলাই রাত ১২টার পর নিষেধাজ্ঞার শেষ হওয়ায় জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে নেমেছেন। প্রচুর মাছ পাওয়ায় দামও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।২৭ জুলাই (শনিবার) রূপসা পাইকারি মৎস্য আড়তে সাগর ও নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। ফলে মোকামেও ছোট-বড় ট্রলারে আসতে শুরু করেছে রূপালি ইলিশ। ইলিশে এখন কানায় কানায় ভরে গেছে পাইকারি বাজার। বাজারে এখন যে ইলিশ আছে তার বেশির ভাগই সাগরের। ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের সাগরের ইলিশ প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। এক কেজি ওজনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে ৮শ’-৯শ’ টাকায়। আর দেড় কেজি ওজনের নদীর ইলিশের পাইকারি মূল্য ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। যা তিন দিন আগে ছিল ২৬০০ টাকা। এক কেজি সাইজের ইলিশের পাইকারি দাম ১১০০-১২০০ টাকা। যা তিন দিন আগে ছিল ১৭০০- ১৮০০ টাকা। আর ৭ থেকে ৮শ গ্রাম সাইজের ইলিশের দাম ৮০০-৯০০ টাকা। যা তিন দিন আগেও দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।আজ (শনিবার) এসেছে ৬০-৭০ টন। সাগরের ইলিশে বাজার ভরপুর, তাই দাম কম।