ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা: সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

২৬ জুলাই ২০১৯


ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা: সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার রাজশাহীর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবীর সরকারের আদালতে আসামিদের হাজিরা শেষে এ অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ সাত বছর পর এ বিচারকার্য পরিচালনা শুরু হয়। মামলার হাজিরার জন্য গত সপ্তাহে সাঈদীকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আনা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ১১টায় প্রিজন ভ্যানে করে সাঈদীকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। হাঁটতে না পারায় ভ্যান থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে করে তাকে দুই তলার এজলাস কক্ষে নিয়ে আসা হয়। এ সময় মামলার আরও ৫৯জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে ৩০২ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রায় দু ঘণ্টা পর হাজিরা শেষে আবার সাঈদীকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শিরাজী শওকত সালেহীন-এলেন বলেন, সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মহামান্য আদালত বিচারকার্যের তারিখ পরবর্তীতে নির্ধারণ করবেন।

তিনি বলেন, ফারুক নিহত হয়েছেন ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ঠিক দুদিন আগে ৭ ফেব্রুয়ারি সাঈদী রাজশাহীতে এসেছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে ফারুককে হত্যা করার জন্য প্ররোচনা দেন। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবি আবু মো. সেলিম।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাবিতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক নিহত হন। এ ঘটনায় রাবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকেও আসামি করা হয়। ২০১২ সালের জুলাই মাসে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।