করোনায় ষাটোর্ধদের মৃত্যুর হার বেশি

১ জুলাই ২০২০


করোনায় ষাটোর্ধদের মৃত্যুর হার বেশি

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত যত মৃত্যু হয়েছে বয়সের দিক থেকে তাদের অধিকাংশই ষাটোর্ধ্ব। এরপরই রয়েছে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীরা। কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টায় ৪১ জনসহ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৮ জন। মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশের বয়সই ষাটোর্ধ্ব বলেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত বুলেটিনে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সের মৃত্যুর হার ৪৩.২৭ শতাংশ। ৫১-৬০ বছরের মধ্যে মৃত্যুর হার ২৮.৮১ শতাংশ।”

“৪১-৫০ বছরের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৪.৯৯ শতাংশ, ৩১-৪০ বছরের মধ্যে ৭.৬২ শতাংশ, ২১-৩০ বছরের মধ্যে ৩.৪৯ শতাংশ, ১১-২০ বছরের মধ্যে ১.১৬ শতাংশ এবং দশ বছরের নিচে দশমিক ৬৩ শতাংশ।”

করোনায় তরুণদের তুলনায় বয়স্কদের মৃত্যুর বেশি ঝুঁকি থাকায় তাদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার পরামর্শ দেন ডা. নাসিমা, “আপনারা বয়োবৃদ্ধদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন। আক্রান্ত বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে কম হলেও তাদের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কাজেই বয়োবৃদ্ধরা যেন আক্রান্ত না হয় সে জন্য পরিবারের সকলকেই সচেতন থাকতে হবে।”

বুলেটিনে আরও বলা হয়, চব্বিশ ঘণ্টায় ১৭ হাজার ৮৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩ হাজার ৭৭৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তাতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৮ জন। এর মধ্যে নতুন ২ হাজার ৪৮৪ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৬২ হাজার ১০২ জন।

চব্বিশ ঘণ্টার হিসেবে দেশে নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১.১২ শতাংশ, মৃত্যুর হার ১.২৬ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৪১.৬১ শতাংশ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে; এর দশ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু।