করোনায় সন্তানদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা উচিত

২৭ জুন ২০২০


করোনায় সন্তানদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা উচিত

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। করোনাকালের এই দুর্যোগে বাসাবন্দি প্রায় সব শিশুই। বাইরে বের হয়ে ঘোরাঘুরি করার কোনো সুযোগ নেই। বাসায় থাকতে থাকতে তারাও অতিষ্ঠ। তাই এ সময় তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা জরুরি। শিশুরা অনুকরণ প্রিয়। তাদের কাছ থেকে সুন্দর আচরণ প্রত্যাশা করলে তার সঙ্গে সুন্দরভাবেই আচরণ করতে হবে।

শিশুর সুন্দর আচার আচরণ গঠনে মূল ভূমিকা পালন করে পরিবার। পরিবার থেকেই শেখাতে হবে বড়দের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হয় আর ছোটদের কীভাবে ভালোবাসতে হয়। তাছাড়া শিশুরা একটু বড় হলেই বাইরের অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা করে। ফলে তাদের আচার-আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে। যদি বুঝতে পারেন শিশু খারাপ কিছু শিখছে তাহলে তাকে শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে।

করোনাকালের এ সময়ে শিশু বা সন্তানদের সঙ্গে কেমন আচার ব্যবহার করা উচিত তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আসুন জেনে নেই তাদের পরামর্শগুলো-

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য করণীয়

প্রতিবন্ধী শিশুসহ সব শিশুরই ভালোবাসা, মর্যাদা, যত্ন ও সঙ্গ প্রয়োজন। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের মহামারির মতো এই কঠিন আর অনিশ্চয়তায় ভরা সময়ে এগুলো শিশুদের আরও বেশি করে প্রয়োজন।

সন্তানকে নিরাপদ রাখুন

* করোনা মহামারির সময় আপনার সন্তানকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ ও সক্রিয় রাখুন।

* স্থানীয়ভাবে সহায়তা দানকারী গোষ্ঠী বা কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান।

* জরুরি ফোন নম্বরগুলো এমন জায়গায় লিখে সংরক্ষণ করুনে, যেখানে সহজে চোখে পড়বে।

সহায়ক, সহানুভূতিশীল ও স্নেহশীল হোন

* শিশুরা অন্যান্য সময় যে সহযোগিতাগুলো পায়, এখন সেটা নাও পেতে পারে। এতে তার মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা বেড়ে যেতে পারে।

* সন্তানের প্রতি যে আপনি স্নেহশীল, তা বোঝাতে কথা ও কাজ দিয়ে তাকে সহযোগিতা করুন।

* ইতিবাচক আচরণ ও কথা অনেক বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।

সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ

* সন্তানের সঙ্গে তার মতো করেই ভাব বিনিময় করুন।

* চোখে চোখ রেখে কথা বলুন, ইতিবাচক আচরণ করুন।

* সন্তানকে মনের ভাব প্রকাশে প্রয়োজনীয় সময় দিন।

* সন্তানকে পর্যবেক্ষণ করুন, তার কতা শুনুন এবং তাকে নিশ্চিত করুন যে আপনি তার মনোভাব বুঝতে পারেন।

আরও বেশি ইতিবাচক হোন

* সন্তানদের ভুলত্রুটি না ধরে তাদের সক্ষমতার প্রশংসা করুন, উৎসাহ দিন।

* সন্তানদের তখনই সাহায্য করুন, যখন তাদের সরকার। সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে গেলে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারবে না।

সহযোগিতা চান

* পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করুন।

* আপনি একা নন। অনেক মানুষই রয়েছেন, যাঁরা আপনার অবস্থা বুঝবেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন।

* এই সময় মানসিক চাপ অনুভব করা, হতাশাবোধ ও আতঙ্কিত হওয়া খুব স্বাভাবিক।

* নিজের প্রতি সদয় হোন। যখন দরকার, তখনই বিরতি নিন।

রুটিন জোরদার করুন

* দৈনন্দিন কাজের রুটিন শিশুদের আরও বেশি নিরাপদ ভাবতে সহায়ক হয়।

* সন্তানদের জন্য এমন রুটিন তৈরি করুন, যার মধ্যে তাদের পছন্দের কাজ থাকবে।

* ফোন, কার্ড বিনিময় কিংবা ছবি এঁকে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সন্তানকে সহযোগিতা করুন।

* সন্তানদের যে কোনো কাজ বা বস্তু বেছে নেওয়ার সুযোগ দিন। এতে তাদের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি হবে। আত্মমর্যাদাশীলও হয়ে উঠবে তারা।

* খুব সহজ ও পরিষ্কারভাবে সন্তানদের নির্দেশনা দিন। অঙ্গভঙ্গি কিংবা ছবি এঁকেও নির্দেশনা দিতে পারেন।