করোনা ধ্বংস করে গ্রীষ্মের সূর্যরশ্মি : নতুন গবেষণা

২৫ জুন ২০২০


করোনা ধ্বংস করে গ্রীষ্মের সূর্যরশ্মি : নতুন গবেষণা

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা গবেষণা। এরকম একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, গ্রীষ্মের সূর্যরশ্মি অল্প সময়েই ধ্বংস করতে পারে কোভিড-১৯কে। এক্ষেত্রে দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এই গবেষণায়।

নতুন এই গবেষণায় মার্কিন দুই বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের বেশিরভাগ শহরে গ্রীষ্মের মধ্য-দুপুরে ১১ থেকে ৩৪ মিনিটের মতো সূর্যের আলোতে এলে নতুন করোনাভাইরাস ৯০ শতাংশ কিংবা তারও বেশি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।

অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী ডা. জোসে লুইস স্যাগরিপ্যান্তি ও ডা. সি ডেভিড লিটল ফটোকেমিস্ট্রি এবং ফটোবায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে এই দাবি করেছেন। এই গবেষণায় সূর্যের ইউভি রশ্মি (আল্ট্রাভায়োলেট রেডিয়েশন বা অতি বেগুনি রশ্মি) বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শহরে ভাইরাসটি কীভাবে ধ্বংস করতে পারে তা বিশ্লেষণ করেন তারা। তাদের বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, গ্রীষ্মে বেশিরভাগ মার্কিন শহর এবং বিশ্বের অন্যান্য শহরে দুপুরের সূর্যের আলো মাত্র ১১ থেকে ৩৪ মিনিটের মধ্যে পৃষ্ঠের ওপরে থাকা ৯০ শতাংশ করোনা ধ্বংস করতে পারে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে কাজ করা সাবেক এই দুই বিজ্ঞানীর মতে, লকডাউন প্রকৃতপক্ষে নাগরিকদের ক্ষতিই করছে; বিশেষ করে যারা ভাইরাস নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম সূর্যের আলোতে আসেন না তাদের।

প্রকাশিত নিবন্ধে গবেষকরা লিখেছেন, বর্তমান তথ্য-উপাত্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন জনবহুল শহরে গ্রীষ্মকালে সার্স-কোভ-২ ভাইরাস তুলনামূলকভাবে দ্রুত নিষ্ক্রিয় হতে পারে। এছাড়া করোনার বিস্তার এবং মহামারির সময়কাল কমাতে সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

করোনাভাইরাস নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা করেছেন টেক্সাসের এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ডা. নিউম্যান। তিনি বলেছেন, অতিবেগুণী রশ্মি সরাসরি উন্মুক্ত ভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারে; তবে সংক্রমিত মানুষের নাক বা মুখে থাকা কণায় ভাইরাসটি নিষ্ক্রিয় করতে খুব বেশি কার্যকর নয়।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, সূর্যের আলো করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে পারে না। সংস্থাটি এর ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, রোদের মধ্যে অবস্থান করা বা ২৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রাও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম নয়। আবহাওয়া যেমনই  হোক, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।