পাপুলের এমপি কেনা জামাই বউর চানাচুর কেনা

১০ জুন ২০২০


পাপুলের এমপি কেনা জামাই বউর চানাচুর কেনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এক রাতে আমি ও নঈম নিজাম এক হোটেলের রেস্তোরাঁয় কফির অর্ডার দিলাম। এমন সময় কাছের কোনো টেবিল থেকেই উঠে এলেন একজন লোক। আমাদের লেখার ভক্ত জানিয়ে টেবিলে বসার চেষ্টা করলেন। তার আগেই আমার স্বভাব জানা নঈম বললেন, চিনেন উনাকে? উনি লক্ষ্মীপুর থেকে এমপি হয়েছেন। তিনি তার পরিচয় দিলেন। ভিতরে ঘেন্না, আমি তাকে বললাম বাহ! আপনি দারুণ দেখিয়েছেন! এমপি কিনেছেন।

আফসোস, বঙ্গবন্ধু এজন্য, এদের জন্যই কি দেশটা স্বাধীন করেছিলেন! লোকটির অঢেল অর্থ হলেও চেহারায় একটা ফটকা গ্রাম্য টাউট বা আদম বেপারির ছায়া আছে। এখন শুনি মানব পাচারের মতো অপরাধের অভিযোগ। নঈমকে তাকে নিয়ে একটা রিপোর্টের কথা বলার চেষ্টা করলে, নঈম তাকে বিজ্ঞাপন দিয়ে দেন বলে তাড়িয়ে দিলেন। অন্য সময় বা অন্য কোথাও হলে আমরা অপমান করে বিদায় করতাম। জানি এদের অপমান নেই। ইজ্জতহীন সন্তানদের আবার মান কীসের! অপমান সয়ে অনৈতিক পথে টাকা করে এরা মর্যাদাহীন বাজারে সুলভে মানুষ কিনে। নেতা কিনে। আদর্শহীন, সম্মান, বিবেক ও রুচিহীন ক্ষমতাবানকে কিনে। রাজনৈতিক বাণিজ্যিকীকরণের পথে রাজদুর্নীতির জমানায় এরা এখন টাকার জোরে সমাজে চেয়ার কিনে। স্ট্যাটাস কিনে। সম্মান কিনে। নেতার পদবি কিনে। এমপি কিনে। সামনে হয়তো মন্ত্রীও কিনবে। নষ্ট সমাজে আমি সাধারণ বেমানান, নিজেকে অফিস, ঘর, আর কিছু স্বজনের সঙ্গে মাঝে-মধ্যে আড্ডা ছাড়া গুটিয়ে নিয়েছি। অনেক দেখেছি।

এমপি, নেতা, মন্ত্রী এখন আর আদর্শের কঠিন পথে অগ্নিপরীক্ষায় সাধনায় অর্জন করতে হয় না। কেনা যায়। পৃথিবীতে এমনভাবে এমপি কিনে হওয়ার ঘটনা এটাই বিরল। মনোনয়ন বাণিজ্যের খবর বাসি হয়েছে আগে। কিন্তু রীতিমতো এমপি কিনে সংসদে বসে যাওয়ার ঘটনা তিনিই ঘটিয়েছেন। আর কিনে এমপি হওয়ার এই কামেলই হচ্ছেন মানব পাচারকারী জুয়াড়ি কুয়েতের সিআইডির হাতে আটক ও রিমান্ডে থাকা কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। এ দেশের এমপি। তিনি নিজেই এমপি কিনে সংসদে যাননি! বউকে ভীষণ ভালোবাসেন। এক সময় বউ তার কুয়েতে কষ্টের জীবন কাটিয়েছেন। বউকে কে না ভালোবাসে? কেউ শাড়ি দেয়, আলতা দেয়, কেউ পারফিউম দেয়, কেউ নাকফুল দেয়, কেউ গয়না কিনে দেয়, কেউ ফুল দেয়, কেউ ফ্ল্যাট দেয়, গাড়ি দেয়, বিদেশ ভ্রমণ দেয়, বাড়ি দেয়। সম্রাট শাহজাহান বউয়ের সমাধিতে তাজমহল বানান, আর একালের নষ্ট সমাজ ও রাজনীতির যুগে কিনে এমপি হওয়া পাপুল বউকে রানীর আসন দিলেন। আরেকটা এমপি কিনে বউ সেলিমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদে বসালেন। হায়রে রাজনীতি! আজীবন আদর্শিক রাজনীতিতে পথ হেঁটে, যুদ্ধ, সংগ্রামে পোড়খাওয়া নেতা নয়, আলোকিত মানুষ নয়, পাপুলরা সংসদে আসে! এদের জন্যই কি কার্ল মার্কস সংসদকে শুয়োরের খোঁয়াড় বলেছিলেন? যদিও আমি মার্কসবাদী নই। রাগে জেদে দ্রোহে মনে হয়, আমারও টাকা থাকলে একটা এমপি কিনে কোনো সুন্দরী নারীর পাথর হৃদয়ে প্রেমের ফুল ফোটাতাম! কিন্তু এমন সংসদ তো ভাবিনি! সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনীতিবিদদের সংসদই চাই।

আমি দেখি ছাত্রলীগের রাজনীতি করা, ’৭৫-এর পরের সব দুঃসময়ে নেতৃত্বে, সংগঠকে, আন্দোলনে সফল নেতারা ক্ষয়ে ক্ষয়ে মরে, তবু সংসদে আসে না। দলেও জায়গা পায় না! পাপুলরা যারা কোনো আদর্শ শিক্ষকের বাড়িতে, গরিব ভদ্রলোকের বাড়িতে, আদর্শবান রাজনৈতিক নেতার বারান্দায় পা রাখতে পারেনি, তারা আসে সংসদে। একালের নেতা, ক্ষমতাবানরা সদর দরজা খোলা রাখে পাপুলদের জন্য। অর্থহীন কর্মীর জন্য নয়। নিবেদিত কর্মীরা দলেও নেই, ব্যবসায়ও নেই! আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি করে আসা অন্যান্য দলের নেতার জন্য তো সংসদ হারামই। সংসদে এখন বড় অংশ পার্লামেন্টারিয়ান হতে আসে না, এখন বক্তৃতা পাঠে বন্দনা আর অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের অধিপতি হতে আসে। সংসদের লাইব্রেরি, কার্যপ্রণালি বিধি, সংবিধান পাঠে মনোযোগ নেই, আছে ক্ষমতার অহংকার আর অর্থের নেশা।

পাপুল নিজের জন্য কিনলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপিটা। মহাজোট মনোনয়ন দিল জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ নোমানকে। তিনি আগেরবারের এমপি। জাসদ বাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতি করে জাতীয় পার্টিতে আছেন অনেক কাল। গণমুখী চরিত্র। মনোনয়নকালে নানা নাটকীয়তা দলে। এলাকায় জাতীয় পার্টি দুর্বল। আওয়ামী লীগের ওপর নির্ভর নোমান। হঠাৎ ভোটযুদ্ধের শুরুতে তিনি নিখোঁজ। সরকারের ক্ষমতাশালী একজন জাপার আরেকজনকে নিয়ে নোমানকে বসিয়ে দেওয়ার চাপ খেললেন পাপুলের পক্ষে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেককেও কামেল পাপুল কিনে ফেললেন। ঘটক ক্ষমতাধরদের পকেট ভারী হলো। নোমান হয়তো কিছু পেলেন বাকিটা আশা। কারণ তখন তিনি অসহায়। ঘটক ইমামরা যেদিকে নত হতে বলেন সেদিকেই হন। পাপুল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। এলাকায় নোমান সরে গেলে সমর্থন পেলেন। এমপি কেনার মিশনে বিজয়ী হয়ে এলেন।

স্বতন্ত্র কোটায় নারী আসন একটা। সেটাই তার বউর জন্য কিনলেন! কার ভাগে কত জানা গেল না। হাটে গরু চেনা গেল, বিক্রেতা ও দালাল চেনা হলো না! বঙ্গবন্ধু এদের জন্যই জীবনের ১৪টা বছর জেল খেটে, আজীবন সংগ্রাম করে, এত রক্ত দিয়ে দেশটা স্বাধীন করলেন? এত নেতা-কর্মীর রক্তঘামের স্বাধীনতা এদের এমপি কেনার জন্য? গণতন্ত্রের সংগ্রামে এত রক্ত কি এদের নিয়ে নির্লজ্জ তামাশা, জামাই আদর ও রাজনীতির মহান আদর্শকে বলি দিয়ে প্রহসনে পরিণত করার জন্য? এমপি কি সংসদের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউর ফেরি করে বিক্রি করা ‘জামাই বউ চানাচুর’? চানাচুর কেনা এমপি পাপুলের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখার আবেদন জানিয়েছে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউটর।

মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের খবরে কি ইজ্জতটা দেশের যায়নি? যারা বানালেন তাদের বিবেক কি আছে? নাকি মৃত? দেশের রাজনীতিবিদ, সংসদ, সংসদের সদস্যগণ কি সম্মানিত বোধ করছেন? লজ্জা কি কেবল সংবিধানের? মানুষের? আত্মার ক্রন্দন কি অগণিত শহীদের? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের? কে জবাব দেবে আজ? পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, কুয়েত নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন যে কী কারণে তাকে নিয়ে গেছে। কিন্তু কুয়েত সরকার এ ব্যাপারে কিছুই জানায়নি। তিনি বলেন, এমপি শহীদ ইসলাম ওখানে ব্যবসা করেন।

ব্যবসায়ীরা পৃথিবীজুড়ে সম্মানিত। অর্থনীতির প্রাণ। যাকে তাকে তদন্ত ছাড়াই ব্যবসায়ী বলে সার্টিফিকেট কি দেওয়া যায়? যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে ঘৃণ্য অপরাধ মানব পাচার ও মানি লন্ডারিং অভিযোগ। মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক হওয়ার খবরের পর এমপি শহীদ ইসলাম পাপুলকে নিয়ে দেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। সমাজে এই এমপিকে ঘিরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অপরাধী হলে তাকে কোরবানি দেওয়া যায়, তার পৃষ্ঠপোষকদের ধরা যায়, রক্তে আনা মায়ের সম্মান হারানো যায় না।

ফেব্রুয়ারিতে কুয়েতের পত্রিকায় মানব পাচারের অভিযোগে ‘এমপি কেনা’ পাপুলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়। তখন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, আজ জাতি ও সরকারকে বহির্বিশ্বে লজ্জিত হতে হতো না। ফেব্রুয়ারিতে এমপির বিরুদ্ধে খবর প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল দুদক। কারা সেটি থামিয়ে দিল? দুদকে অনেক ডাকাতের তদন্তই থেমে যায়। কাদের চাপে? তখন দুদক ব্যবস্থা নিলে জল এতটা গড়াত না।

বিশ্বের ১৬৯টি দেশে বাংলাদেশের ১ কোটি ২০ লাখের মতো শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে থাকে। এই দেশগুলোয় গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে লকডাউন চলায় তাদের তেলনির্ভর অর্থনীতি এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেশে ফিরে যেতে শ্রমিকদের বাধ্য করা হচ্ছে। এই রকমের ভয়াবহ অবস্থায় আমাদের দেশের একজন এমপি মানব পাচার ও মানি লন্ডারিং কর্মকান্ডে অভিযুক্ত হলে শ্রমবাজারের কী হবে?

জানা যায়, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আসেন কুয়েত প্রবাসী কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। এক সময় জাসদ করে, পরে জামায়াতির কোম্পানির ম্যানেজার। পরে নিজের কোম্পানি। তিনি এসে টাকার আওয়াজ দিলেন। যেন ‘এই পৃথিবী টাকার গোলাম’ বাংলা সিনেমার খলনায়ক! এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করে মাঠে নামেন। রায়পুর উপজেলাকে জেলা করার ঘোষণাও দেন। সরকার ১০০ কোটি টাকা উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ দিলে তার নিজ থেকে আরও ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেটি আর দিতে হয়নি। মিথ্যাচার।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের ১৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে উন্নয়ন কাজে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক কোটি টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর এলাকায় অনিয়মিত হন। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। টাকা দেন না। করোনাকালেও নেই তিনি। তার স্ত্রীও।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কাছে দেশের মানুষ যে কোনো বিষয়ে, যে কোনো ছোট-বড় সমস্যায় তাকিয়ে থাকেন। সমাধান চায়। আর কোথাও কেউ সমাধান দিতে পারেন না। মানুষও এখন আশা ছেড়ে দিয়েছে। আর কোথাও আশাও করে না। পৃথিবী লন্ডভন্ড করে লাশের ধ্বংসস্তূপে করোনা এখন আমাদের দেশে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। রোজ আক্রান্ত, মৃত্যু আর চিকিৎসা সংকটের খবর। একটা অসহ্য দমবন্ধ জীবন বড় বিষণœ বিবর্ণ। জানি না কার সঙ্গে আর কার দেখা হবে না। কে জয়ী হবে, কে পরাজিত-তাও জানি না। একটা ভয় আতঙ্ক এখন ঘুমন্ত মানুষকে নয়, জীবন্ত মানুষকেও তাড়া করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিস্ময়কর জায়গায় নিয়েছিলেন। করোনা হোঁচট খাওয়াল। তবু ছয় কোটি মানুষকে খাদ্য, ৫০ লাখ মানুষকে অর্থ, এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন। অর্থনীতির অগ্রযাত্রা রাখতে লড়ছেন। বাজেটও সেভাবে করেছেন। দেশের শিল্প-কারখানা, কৃষক, শ্রমিক ও মানুষের জীবিকা রক্ষা অনিবার্য।

আজ দেশে শেখ হাসিনার একক নেতৃত্ব। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি ও করোনাযুদ্ধে মানুষ তাকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছে। আফসোস এত বরাদ্দ তবু দুর্নীতির লাগাম টানা যায়নি। আমরা আমাদের চিকিৎসা খাতকে অথর্ব অদক্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব থেকে মুক্ত করে শক্তিশালী করতে পারলাম না। করোনা যুদ্ধের প্রতিরোধে ব্যর্থ আমরা প্রতিকারেও দুর্বলতা দেখছি। চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া। শক্তিশালী হয়নি। নিয়তি আমাদের জন্য কি পরিণতি রেখেছে জানি না। স্বাস্থ্য খাতে এ দুঃসময়ে নকল এন৯৫ মাস্ক সরবরাহ করলেও জেএমআইকে বাতিল করে আইনের আওতায় আনা হলো না। আওয়ামী লীগের একনেতা মামলা খেলেন নকল মাস্ক সরবরাহ করে। সরঞ্জাম কেনায় আবার বেশি দামের চাহিদা! অসহ্য।

বিদেশে অর্থপাচার রুখতে বাজেটে আবাসন ও শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ভালো। কিন্তু বিদেশে অর্থপাচারকারী, ব্যাংক লুটেরা, শেয়ারবাজারের জুয়াড়িদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি না দিলে কি রুখে দেওয়া যাবে? দুদককে আরও শক্তিশালী চাপমুক্ত না রাখলে কি দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে? করোনাকালেও সেই ত্রাণচোর চেয়ারম্যান মেম্বারদের কয়েক বস্তা চালসহ আটক, বরখাস্ত হয়। হোক। কিন্তু যখন অর্থপাচারকারী, ব্যাংক শেয়ার ডাকাত ও বড় দুর্নীতিবাজদের ধরা হয় না তখন প্রশ্ন আসে অনেক। রাষ্ট্র তুমি কার? বড় হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানো, চিকিৎসা ব্যবস্থা সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে শক্তিশালী সমন্বিত করা না গেলে কি করোনার চিকিৎসা হবে? আইসিইউ, ভেন্টিলেটর কবে আসবে? দায়িত্ব স্বাস্থ্য বিভাগকে দিলেই দুর্নীতি। প্রধানমন্ত্রী জেলায় জেলায় আইসিইউ দেবেন। আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ফেনীতে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার দুঃসময়ে পাশে থাকা নাসিমকে ডেকে জানতে পারেন। কত কমে আইসিইউ, অক্সিজেন দেওয়া যায়। একটা নিজস্ব টিম গড়তে পারেন। রাজনৈতিক প্রশাসনিক অভিজ্ঞদের নিয়ে। মেডিসিনের প্রখ্যাত অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহকে করোনা বিশেষজ্ঞ হিসেবে আলাদা ব্রিফের ব্যবস্থা করানো যায় নিয়মিত। কেনাকাটা স্বাস্থ্য খাতকে বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি। দেশের অর্থ বাঁচবে। এ খাতের এক দশকের লুটপাটের তদন্ত হওয়া উচিত। ব্যবস্থা গ্রহণও অনিবার্য। সবশেষে স্বাস্থ্য খাতের নির্লজ্জতা নিয়ে ক্রিয়েটিভদের রসিকতার ট্রল শেয়ার করলাম।

সংগৃহীত : বিল গেটস আমেরিকার নাগরিকত্ব ছেড়ে দিচ্ছে, শেষবারের মতো মাইক্রোসফটের অফিস ঘুরতে গিয়ে সে হু হু করে কেঁদে ফেলল। নিজ হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যেতে খারাপ লাগারই কথা। বিল গেটসেরও খারাপ লাগছে। সে কান্না থামাতে পারছে না। চোখের পানিতে সার্জিক্যাল মাস্ক ভিজে মুখের সঙ্গে লেগে গেছে। কাঁদলে কী হবে, মনে মনে কিন্তু বিল গেটস খুবই খুশি। তার লাফাতে ইচ্ছে করছে। এতদিন পর সে তার স্বপ্নের চাকরি খুঁজে পেয়েছে। এতগুলো বছর সে এমন একটা চাকরির চেষ্টাই করছিল। মাঝে মাইক্রোসফট গড়েছে, সেরা ধনী হয়েছে কিন্তু তলে তলে সে সব সময় এই ড্রিম জবের সন্ধান করছে।

ভাগ্য ভালো ফেসবুকে এক বন্ধুর কল্যাণে আগেভাগে চাকরির সার্কুলারটি তার নজরে এসেছিল। সঙ্গে সঙ্গে সিভি জমা দিয়ে সে প্রার্থনা বসে যায়- হে ঈশ্বর, আমাকে এই চাকরিটা দাও। তোমার কাছে আমি আর কিচ্ছু চাই না। আমার জীবন সার্থক হবে যদি এই চাকরিটা আমি পাই। আমাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না প্রভু। দোয়ার জোরেই কি না কে জানে বিল গেটসের কাছে ফিরতি মেইল আসল- তাকে শর্ট লিস্টেট করা হয়েছে। জুম ভিডিও কলে ইন্টারভিউ দিতে হবে। ইন্টারভিউয়ের কথা শুনে বিল গেটসের হাত-পা কাঁপাকাঁপি শুরু হয়ে গেল। তার এত বছরের প্রোগ্রামিংয়ের অভিজ্ঞতা, টেক লাইনে সে বস, তবুও তার টেনশন হচ্ছিল করছিল, যদি ইন্টারভিউ খারাপ হয়, যদি চাকরি তার মিস হয়ে যায়! এই চাকরি না হলে বিল গেটসের জীবন বৃথা। দুনিয়ার প্রতিটা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, সফটওয়্যার ডেভেলপারদের কাছে এই চাকরি সোনার হরিণ। আলাদিনের চেরাগ।

জুকারবার্গকে নিয়েই সমস্যা, সেও নাকি সিভি জমা দিয়েছে। কি যে হয় ভাবতে ভাবতে বিল গেটস ইন্টারভিউ দিল। প্রথমেই তাকে প্রশ্ন করল চর্যাপদের রচয়িতা কে? বিল গেটস জানত এমন প্রশ্নই আসবে, রবীন্দ্রনাথের বিয়ের তারিখ, সুফিয়া কামালের পছন্দের তরকারি এসব প্রশ্নের উত্তর সে গত এক মাস রাত জেগে মুখস্থ করেছে। সে জানত তাকে এই প্রশ্নগুলোই করা হবে। বিল উত্তর চটপট দিতে পারল, জুকার পারেনি। সে ভেবেছিল তাকে ওপিপি, এলগোরিদম, ডাটা স্ট্রাকচার এসব নিয়ে প্রশ্ন করা হবে! শালা একটা পিউর বলদ। বিল গেটসের চাকরি হয়ে গেল। আজ সে নতুন চাকুরি উদ্দেশে আমেরিকা ছাড়ছে। বিলের বউ আকুল নয়নে কাঁদছে, ওগো, আমায় ভুলে যেও না। স্কাইপেতে কল দিও। বিল গেটস হাসল। টাইম পাইলে দিমুনি। বলেই সে সুটকেস টানতে টানতে সোজা এয়ারপোর্টের উদ্দেশে হাঁটা ধরল। কিছুক্ষণ পর সে খেয়াল করল বিল গেটস দৌড়াচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব সে প্লেনে উঠতে চায়। চাকরিতে জয়েন করতে চায়। এই চাকরির জন্য সে আমেরিকা ছাড়ছে, মাইক্রোসফট ছাড়ছে, সংসার ছেড়েছে। এই চাকরি তার সবে ধন নীলমণি। এয়ারপোর্টে এসে বিল গেটস দেখল সাংবাদিকরা ভিড় করে আছে! সবাই কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইছে- ভাই, সব ছেড়ে ছুড়ে আপনি কই যান?

বিল গেটস দাঁত কেলাতে কেলাতে উত্তর দিল বাংলাদেশে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইট মেন্টেইন্যান্সের দায়িত্ব পেয়েছি।

সম্পূরক খবর :

চারটি ওয়েবসাইট উন্নয়ন করতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের খরচ ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

পাঁচটি ডাটাবেজ তৈরিতে খরচ হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

পাঁচটি কম্পিউটার সফটওয়্যার কেনায় খরচ ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা।  লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন