বিপদে ধৈর্যহারা না হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করি

৩০ মে ২০২০


বিপদে ধৈর্যহারা না হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করি

সুখ-দুঃখ নিয়েই জীবন। সুন্দর এই পৃথিবীতে কেউ চিরসুখী নয়। সবার জীবনে কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে। বিপদ আসে। এভাবেই জীবনচক্র সাজানো হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো মানুষ সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে।’ (সুরা : বালাদ : আয়াত : ৪)

তাই বলে ভেঙে পড়লে চলবে না। বিপদে ধৈর্যহারা না হয়ে বরং সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে।

হাদিস শরিফে এসেছে : ‘ইমানদারের জীবন বড়ই আশ্চর্যজনক। সব কিছুই তার জন্য কল্যাণকর। ইমানদার ছাড়া কেউ এমন হয় না। সুখ এলে সে শুকরিয়া আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। দুঃখ এলে সে ধৈর্য ধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর।’ (মুসলিম শরিফ : হা. ২৯৯৯)

যে কোনো বিপদে আমরা আল্লাহকে স্মরণ করি; তার সাহায্য কামনা করি। শুধুমাত্র  বিপদ-আপদে আল্লাহর স্মরণ নয়। প্রয়োজন সবর্দা মনে আল্লাহর ভয়কে জাগ্রত রাখা। বিপদ যেমন দেখা যায় না, কোনো পূবার্ভাস দেয় না- তেমনি মৃত্যু কখন আসবে তাও বলা যায় না। যার মনে এই ভাবনা বিরাজমান, সে কখনও  কোনো অন্যায় কাজে জড়াবে না। শান্তিময় পরিবেশ অশান্ত করে তুলবে না- এটুকু হলেও অন্তত আমরা মানুষ দ্বারা সৃষ্ট যাবতীয়  বিপদ থেকে রক্ষা পাব।

সে হিসেবে বলা যায়, শুধু বিপদকালে আল্লাহর স্মরণ নয়, সর্বাবস্থায় তাকে স্মরণে রাখা। এটা অন্তত শান্তিপূর্ণ অবস্থায় কৃতজ্ঞতার জন্য হলেও জরুরি।  মানুষের সর্বদা এটা মনে রাখা দরকার, বিপদের সময় যিনি সাহায্য করতে পারেন, তিনি বিপদ যেন না হয়, সেই  ব্যবস্থাও করতে পারেন।

মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে শুয়ে, বসে কিংবা দাঁড়িয়ে আমাকে (আল্লাহকে) ডেকে থাকে, এরপর যখন আমি তার দুঃখ-দৈন্য দূর করে দিই তখন সে এমন পথ অবলম্বন করে যেন দুঃখ-দৈন্যের জন্য কখনোই সে আমাকে ডাকেনি। সীমা লঙ্ঘনকারীদের জন্য তাদের কাজ এভাবেই শোভনীয় করে দেওয়া হয়েছে। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১২)

বিপদাপদ এবং দুঃখকষ্ট মানুষের অন্তরে আল্লাহর স্মরণ জাগিয়ে তোলে। মানুষ যখন কোনো দুর্যোগের মধ্যে পড়ে তখন সে তার দুর্বলতা ও অক্ষমতা উপলব্ধি করতে পারে। তাই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সে তখন স্রষ্টার শরণাপন্ন হয়। অন্তর থেকে তাঁর সাহায্য কামনা করে। আল্লাহ মানুষের ডাকে সাড়া দেন। তিনি দুঃখ-দৈন্য দূর করে দেন। কৃতজ্ঞতার দাবি হলো, বাকি জীবন পাপমুক্ত অতিবাহিত করা। আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না হওয়া। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সে তা ভুলে যায়। আল্লাহর নির্দেশের অনুগত না হয়ে অবাধ্যতার পথে পা বাড়ায়।

এটা সাধারণ মানুষের অবস্থা। অবিশ্বাসীদের অবস্থাও অনুরূপ। এ দৃশ্য প্রায়ই ধরা দেয়। জীবনপ্রবাহে মানুষ বারবার পাপ করে। সুস্থ, সবল ও সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর অবাধ্য হয়। সামর্থ্য ও সচ্ছলতা মানুষকে নিজের দুর্বলতার কথা ভুলিয়ে দেয়। প্রাচুর্য তাকে সীমা লঙ্ঘনে প্ররোচিত করে। অথচ সময়টি ইবাদতের খুবই উপযোগী ছিল। পরে বিপদ নেমে আসে। অমনি কাকুতি-মিনতি করে সুদিনের আশা করে। বিপদ চলে গেলে আবারও বেপরোয়াভাবে চলতে থাকে। আগের মতো ঔদ্ধত্য দেখাতে থাকে। এর বিপরীতে আল্লাহর খাঁটি বান্দারা সুখে-দুঃখে আল্লাহকে স্মরণ করেন। সুখের দিনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। দুঃখের দিনে ধৈর্য ধারণ করেন।