মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার ও চিকিৎসার আবেদন নামঞ্জুর

২২ জুলাই ২০১৯


মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার ও চিকিৎসার আবেদন নামঞ্জুর

বরগুনা সদরে চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে তলব এবং হাসপাতালে নিয়ে তার চিকিৎসা দেয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২২ জুলাই) বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী এ আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে ১৬৪ ধারায় দেয়া মিন্নির জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য তাকে আদালতে তলবের  সোমবার বেলা ১১টার দিকে আবেদন করেন তার আইনজীবী ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। এসময় আইনজীবী মিন্নি অসুস্থ বলেও দাবি করে তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়ার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন করেন। দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করেন আদালত। ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে মিন্নিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন এর আগে জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সকালে গাড়িতে করে মিন্নি ও তাকে পুলিশ লাইনসে আনে। মামলার তদন্তের জন্য বাসা থেকে লাইনসে নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ জানায়, রিফাত হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শী এক নম্বর সাক্ষী মিন্নি। পুলিশ লাইনসে এনে তাঁকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে।

এরপর শুক্রবার বিকেলে মিন্নি একই আদালতে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে পুলিশ জোরজবরদস্তি করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে মিন্নির বাবা।

এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু সমালোচনার পর বরগুনা ও ঢাকার আইনজীবীদের একটি অংশ মিন্নির পক্ষে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। আজ সোমবার আদালতে মিন্নির পক্ষে তার জবানবন্দি প্রত্যাহার ও উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হয়।