ঈদগাহে বা খোলা স্থানে এবার ঈদ জামাত না: ধর্ম মন্ত্রণালয়

১৪ মে ২০২০


ঈদগাহে বা খোলা স্থানে এবার ঈদ জামাত না: ধর্ম মন্ত্রণালয়

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজ ঈদগাহ বা খোলা ময়দানে আদায় করার ব্যাপারে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে ধর্মমন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের ঈদের নামাজ বাড়ির কাছের মসজিদে পড়ার জন্য মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেউ এই বিধি-নিষেধ না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এমন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শর্তসাপেক্ষে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামায়াত আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হলো। ইসলামী শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামায়াত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারাবিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এবছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামায়াত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নামাজের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে জীবাণুনাশক দিয়ে মসজিদ পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা নিজ নিজ দায়িত্বে বাসা থেকে জায়নামাজ আনতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়,  করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে ওজুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওযু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। মাস্ক পরে মুসল্লিদের মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে নামাজ আদায়ের শর্ত উল্লেখ করে জানানো হয়, মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত কল্পে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, নির্দেশনাগুলো কেউ লঙ্ঘন করলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।