মন্ত্রী কেন টিভিতে, তারা কি আসলেই করোনার চেয়ে শক্তিশালী?

১৮ এপ্রিল ২০২০


মন্ত্রী কেন টিভিতে, তারা কি আসলেই করোনার চেয়ে শক্তিশালী?

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার প্রতিই আমার ভরসা। বারবার বলছি, এটা মানুষেরও। সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীর উপরেই নাই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের কর্মকর্তাদের উপরে নাই। এদের নেতৃত্বে তিন মন্ত্রীর আমলেই খাতটি দুর্নীতিগ্রস্থ হয়েছে। আর করোনাভাইরাস মোকাবেলায় পর্যাপ্ত সময় পেয়েও তারা না জনগণকে সচেতন করেছে, না সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকসহ দেশের সকল হাসপাতালকে পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত করেছে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, না কর্মশালা করেছে, না রেখেছে কার্যকর পর্যাপ্ত পিপিইসহ কিট, পরীক্ষার ল্যাব, আইসিইউ বেড, না করেছে ভেন্টিলেশন আমদানি।
এমনকি কর্মশালার মাধ্যমে চিকিৎসা দানকারীদের কর্মশালার মাধ্যমে গণজাগরনেও আনেনি। কিছুই করেনি। প্রস্তুত সব ঠিক আছে, এখনই পর্যাপ্ত পিপিই কিট সরবরাহ দরকার নেই এসব কথা। এমনকি সংক্রমণ ছড়িয়ে গেলেও ১৮ ঘণ্টা পরিশ্রম করা প্রধানমন্ত্রীকে সত্য জানাতে শুধু কার্পণ্যই করেনি লুকিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ভিডিও কনফারেন্সে একজন তরুণ চিকিৎসক যখন টেস্ট রিপোর্ট ঢাকা থেকে পেতে হয় জানালেন তখন প্রধানমন্ত্রী বিস্মিত হতবাক। মহাপরিচালক আজাদ চতুরতায় আড়ালেই ছিলেন। মৃত্যুর মুখেও সত্যকে উন্মোচন করতে চাননি।
নারায়ণগঞ্জ করোনা কবলিত। মানবতাবাদী চিকিৎসক গৌতম রায়সহ অনেকে আক্রান্ত। সিলেটের ডা. মঈনের মৃত্যু চিকিৎসা ব্যবস্থার করুণ চিত্র উন্মোচিত করেছে। দুই শিশু এতিম। তরুণী স্ত্রী বিধবা। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের দায় নিয়েছেন। শোকার্ত চিত্তে সমবেদনা জানিয়েছেন। সবাই বলছে অমায়িক পেশাদার, গরিবের চিকিৎসক। মানবতার করোনাযুদ্ধে শহীদ। এর মধ্যে দেশের মানুষ শোকে ডুবে থাকতেই শেখ হাসিনার চেয়ে বড় আওয়ামী লীগার বা দলকানারা কেউ কেউ তাকে শিবির বানাতে ব্যস্ত! এ মহাদুঃসময়ে এমন নির্দয় মানসিক বিকৃতি দেখতে ও শোনতে রুচিতে লাগে। কয়েকজনকে বলেছি, শেখ হাসিনা ছাড়া কাউকে আমি এ যুদ্ধের নেতা মানি না। অথর্ব ব্যর্থদের বরখাস্ত চাই। বিবেকের বাইরে আমি লিখবো না।
ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরখাস্ত। আরও কয়েক জায়গায় হয়েছে। আমাদের না কেনো! সচিব কেনো সরবেন না? মহাপরিচালক আর কতো অসত্য বলবেন? সত্য লুকাবেন? করোনার চেয়ে শক্তিশালী আমাদের মন্ত্রী-কর্মকর্তারা? যে কজন সর্বনাশ ডেকে এনেছেন, কথাও বলতে জানেন না, তাদের পদত্যাগ বা বরখাস্ত দরকার। অনেক মানুষ সম্মান ভালোবাসা ধারণের যোগ্যতা রাখে না, এরা রাখেন না ক্ষমতার বা মানবসেবার মতো  ইবাদত করার যোগ্যতা। দক্ষ অভিজ্ঞ গতিময়দের আজ মন্ত্রিসভায়, প্রধানমন্ত্রীর পাশে ও স্বাস্থ্যখাতের নেতৃত্বে অপরিহার্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিভিতে রোজ আসেন কেন? কথা বলারও যোগ্যতা নাই। টিভিতে রবিউলদের দেখলে মানুষ আনন্দ পেতো। এদের দেখলেই কেবল মানুষের গা জ্বলে।রোজ কথা বলতে অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহকে দেয়া যায় অথবা সৎ দক্ষ স্মার্ট বিশেষজ্ঞ কাউকে।
প্রধানমন্ত্রী অভিজ্ঞ দক্ষ রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞায় নেতৃত্বে প্রণোদনা, গাইডলাইন, সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। খাবার দিচ্ছেন। চুরি হচ্ছে আটক করছেন। মিডিয়ারও সতর্ক হতে হবে। রাষ্ট্রীয় ডাকাতদের স্পর্শ করতে পারেন না চাঁদপুরে ত্রাণ না তোলা চেয়ারম্যানকে চোর বানিয়েছেন।রিলিফচোর অমানুষ। কঠিন শাস্তি চাই। নির্দোষকে কলংকিত নয়। এমপিদের মাঠে নামাবেন না প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক দূরত্বের নিষেধাজ্ঞার মৃত্যু ঘটবে। তারা তাদের মতো মানুষের পাশে খাবার পৌঁছান।
কোথাও অনিয়ম হলে প্রশাসনকে বলুন। প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব সবাই শৃঙ্খলার মধ্যে পরিশ্রম করছে। চিকিৎসক দল যুদ্ধে। তাদের নিরাপদ রাখি। পিপিই নিয়ে নানা প্রচারণা আসছে। এতে আতঙ্ক বাড়বে, এর জবাব আসা উচিত। জাতি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হলেও আপনাকে সমর্থন দিচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, অ্যাম্বুলেন্সচালক থেকে প্রতিটি কর্মীর নিরাপদ থাকা দরকার। তারা আক্রান্ত হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। নেতাদেরও নামাবেন না। শোডাউন সংস্কৃতিমুক্ত হতে পারবেন না। পারলে কারফিউ, লকডাউন দিয়ে আরও কঠোর হন।
আইসিইও ভেন্টিলেশন বাড়ান। চিকিৎসক সুরক্ষা বাড়ান। প্রণোদনা ধন্যবাদ দিয়েছেন। এ বীর সন্তানদের উৎসাহ সাহস আরও দেন। বিদেশিরা কূটনীতিকসহ তাদের দেশে ভয়াবহ মৃত্যুযন্ত্রণা দেখেও চলে গেছে। হয়তো খবর আছে এখানে করুণ পরিণতি আসছে। ঝুঁকি অনেক বেশি হবে। পরীক্ষা যতো বাড়বে, রিপোর্ট যতো দ্রুত হবে রোগীও ততো বাড়বে। আইসিইউ ভেন্টিলেশন না বাড়লে, মানুষ এতো অসচেতন বহির্মুখী হলে লাশের মিছিল বড় হবার আশঙ্কা থেকেই যায়।
সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জনে দাঁড়ালো। এছাড়া নতুন ৩০৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এতে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার ১৪৪ জন হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮ জন। মোট সুস্থ এখন ৬৬ জন। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সংখ্যাও কম নয়। যারা তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন এখনো ইউরোপের চেয়ে ভালো, তারা বিপদ ডেকে আনবেন। চীনের পরিণতিতে তারাও বলেছিলো। এখন মৃত্যুর বিভীষিকায় নিস্তব্ধ অসহায়। যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত ধরা পড়তেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন,৭ দিনেই শেষ হবে। এখন আক্রান্তে-মৃতে শীর্ষে। বিপর্যস্ত অসহায় ক্ষমতাধর হোয়াইট হাউজ। নিউইয়র্কে গণকবরে যাচ্ছে লাশ। আমাদের দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পরিণতি কতোটা মর্মান্তিক হতে পারে জানিই না। উড়িয়ে দেবার সুযোগই নেই। সময় দ্রুত অবণতিশীল, আর দম্ভের আকাশে নয় মাটির দিকে তাকান। সত্যটা জানুন ও প্রধানমন্ত্রীকে জানতে দিন।ব্যাপক পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে মানুষকে। যতোই আক্রান্ত হোক তার বাঁচার ব্যবস্থা করতে হবে। আজকের চিত্র একমাস পর কোথায় দাঁড়াবে জানি না। ইউরোপ আমেরিকার অংকে হলে দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়াবহ। যুদ্ধজীবন মরণের, সবার সতর্কতার, সাহসের ঐক্যবদ্ধ লড়ার।বেঁচে গেলে ঘুরে দাঁড়াবার। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন